ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ক’দিনের রাজনীতির খেলায় বাংলাদেশের জনসাধারণের অবস্থা বিরক্তির অসহনীয় পর্যায়েই বলা যায়। চাপাবাজ রাজনীতিকরা যা-ই বলুন জনসাধারণ যে তাতে বিরক্ত তা মিডিয়ার বরাতে জেনে নিজেও ঘরবন্দী অবস্থায় ভাবছি , স্বাধীনতার মাসে বিরোধী-জোট আর সরকারের জনসাধারণের ‘পরে এমন কৌশল-অপকৌশল প্রয়োগ এর খেলা না খেললেই ভালো হতো দেশের-দশের। এই সহজ সত্য নেতা-নেত্রীরা কবে বুঝবেন আর ! আন্দোলনের হাঁকডাকে জনজীবন আশঙ্কায়-আতঙ্কে ঠেলে দিয়ে কর্মসূচী পালন এ ক্যামন অত্যাচার ! এবঙ অই অত্যাচার ঠেকাতে সরকারী সতর্কতার চাপে ভুক্তভোগী জনসাধারণের জন্য নেই কোনও বিকল্প বৈতরণী ! দিন আনে দিন খায় / নুন আনতে পান্তা ফুরোয় যাদের তাদের কথা ভাববার কোনও প্রয়োজনই নেই যেন ! রাস্তার মানুষ কোথায় যে যায় আজ ! চারপাশে বিরোধী-জোটের প্ল্যাকার্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে ছয়লাব, তাদের সামান্য বরাদ্দ মাথা গোঁজার জায়গাটিও দখল, ঠাঁই খুঁজেও লাভ নেই আজ। অগত্যা আমিও অবাঙ চেয়ে আছি জোটের ব্যানারের লেখার দিকে , যেখানে বাংলায় লিখিত ” অধ্যাপক গোলাম আযম এর মুক্তি চাই ” / ” জননেতা মতিউর রহমান নিজামী-র মুক্তি চাই ” / ” মাওলানা সাঈদী-র মুক্তি চাই ” ইত্যাদি-ইত্যাদি কত যে দাবী ! আদতে এই দাবীর অংশী নয় মোটেও সাধারণ জনগণ। এই দাবীর অংশী কেবল জোটবদ্ধ বিএনপি-জামায়াত-শিবির। হায়রে আমার দেশ কি তোমার কপালের দোষ ! নাকি আমরা তোমার তেমন যোগ্য নই / তোমায় আর আগের মতো মায়ের মতো ভালোবাসতে জানিইনা / তেমন করে আকুল হয়ে ডাকতেও ভুলেছি ! অথচ তুমি ঠিক তেমনই সর্বংসহ মা। আগলে রেখেছো বিভ্রান্ত-পদস্খলিত-বিবেক-বিচ্যুত সন্তান-সন্ততিদের।

দেখে-দেখে অদেখায় পোড়া দুচোখ জলে ভেসে যায়ঃ হায়রে আমার মনমাতানো দেশ ! দেশের কথা দশের কথা কি হবে ভেবে, সেইতো মারমুখী ছাত্রদল-ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির এর ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া-ককটেল-গুলির চালচিত্র। আর পুলিশি এ্যারেস্টের এ্যাকশনের বাংলাদেশ ! ভাবনা স্থগিত রেখেই আবারও মন দিই মানে চোখ রাখি টিভি-পর্দায়। দেখি সময় নিউজ চ্যানেলে ” অগ্নিঝরা মার্চ ” আহ , মন আমার জেগে ওঠে আবার। মনে হয় হয়তো কোথাও শিকড়তল ফুঁড়ে জেগে উঠবে গর্জে উঠবে দুর্বার বাঙালি সত্ত্বা। গর্জে উঠবে একাত্তুরের অজর চেতনাজয়ী প্রিয় বাংলাদেশ।

কান পেতে শুনি একাত্তুরের ডাকঃ ভায়েরা আমার …. মনের মধ্যে বেজে ওঠে দুর্বার বাংলাদেশের বাজনা ….
আমি কান পেতে শুনি তার গান। শুনতে-শুনতে প্রার্থনাঃ রাজনীতির খেলায় অবস্থা আজ খারাপের দিকে না যাক …। আর যদি বা যায়ও ভয় কি আমরাতো সেই সহস্র অকুতোভয় ভায়ের-বোনের উত্তরসুরী যারা গাইতে জানিঃ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে / তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি / তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি / মাগো ভাবনা কেন ….

আমার নিজের একখানা কবিতা যুক্ত করছিঃ

শিরোনামঃ পাতাভর্তি মেঘ

পাতাভর্তি সুখীমেঘ দুঃখীমেঘ পাতাভর্তি মায়া।
পাতাদের মেঘ তীব্র অশ্রুত গাঁ আতপ্ত ছুঁয়েছে।
দেখে-দেখে মনে হয় অদেখার পাশে বসি, ছুঁই
মনে হয় ছুঁই আহা বাংলার মেঘ, ছায়া।

শোনো ছায়াদের গান কান পেতে শোনো
শিকড় জাগানো গান শিহরিত ঘনলাল।
এমন কি আছে আর এমন কি হয়
পাতাভর্তি অগ্নিকাল বাংলার মেঘে-মেঘে আলোঘন।

( নুরুন্নাহার শিরীন এর নির্বাচিত দেশজ কবিতাঃ পৃষ্টাঃ ২৭ )

* লেখাটি প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করতে-করতে দেখি, যাক বাবা, ভালোয়-ভালোয় উতরে গেলো শঙ্কাময় দিনটি, ধন্যবাদ সরকার-বিরোধীদল ও পাবলিক। আমেন। *

১২ মার্চ ২০১২ ইং