ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

বাতাসে চৈত্রগন্ধ যদিও তবুও আজও কৃষ্ণচূড়ার লালিমা হাতছানিময় বড়ো। রোজ ভোরের চিলতে আলোরেখার সনে তারও ওড়াউড়ি দেখতে-দেখতে কত কি অদ্যাখার কথাও ভাবি। ভাবিঃ হয়তো নদীময় কথা হবে আজ !! অথচ হয়না মোটেও। কবিতাও যেন বহুদিনই যোজন-যোজন দূরের পরবাসী কেউ !! এমনই ভাবের মধ্যে আজ ২১ মার্চ ২০১২ ইং হঠাত এস-এম-এস অনুজপ্রতীম কবি-সাংবাদিক শামীম এর , রাজশাহী থেকে। লিখেছেঃ আপা , শুভেচ্ছা আপনাকে , আজ বিশ্ব কবিতা দিবসে , আজ সা-রা-দি-ন-ই শুধু কবিতার …. পড়ে অবাঙমুখর ভালোলাগায় আমি দেখি এস-এম-এস এর ধ্বনি-প্রতিধ্বনি আমায় তাড়া করছে কৃষ্ণচূড়াময় লালিমায় বাতাসের সনে পাল্লা দিয়েই প্রায় !!

অগত্যা একসময় ওড়াউড়ির কবলমুক্ত হয়ে জবাব দিই। এবঙ বার্তা পাঠাই প্রিয় ব্লগার বোনের অধিক আইরিন সুলতানাকে। অতঃপর দেখি , কি কান্ড …. কি কান্ড !! আইরিন ফেসবুকের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগে আমায় প্রিয় কবি হিসেবে শুভেচ্ছাবার্তায় অভিষিক্ত করেছে !! সঙ্গে শ্রদ্ধেয়া নাজনীন খলিল-কেও। সেইসঙ্গেই দেখি শ্রদ্ধেয় বাসন্ত বিষুব এর অভিনন্দন বার্তা!
দেখে-দেখে অদ্যাখার সকল কাব্য ভুলে যাই ! তবুও আজ অনেক বর্ষ আগে চট্টলায় লেখা আমার একখানা কবিতা যা তখন চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী-র সাহিত্য পাতায় সম্পাদক অরুণ দাশ গুপ্ত প্রথম প্রকাশ করেন তা নিবেদন করছি ….

শিরোনামঃ মফস্বলকাল

সে এক সময় ছিলো বটে আমাদের।
সামান্যে বিষম মেতে ওঠার সময়।
চারপাশের বাতাসে যা-যা উতসাহময়
সমস্ত ছোঁয়ার জন্য সে এক হৃদয় ছিলো আমাদের।

মফস্বলে তখনও বিদ্যুত পৌঁছোয়নি।
সন্ধের আগেই লণ্ঠনের কাচগন্ধ
ছমছমে ঘরে রোজের পুরাণ টানা ঘন্টা ধরে
তার মধ্যেই বিস্তর ফাঁকিঝুঁকিপাঠ, দূরের ছটফটানি।

রাত্তিরে ন’টার মধ্যে ভাত, দশটায় ভাইবোন বিছানায়
গভীর স্বপ্নের দেশে ছুটছুট ভোরতক বাতাসচূড়ায়।
পতনের মতো লাগতো মায়ের ডাক, তখন রোদ্দুর জানালায়।
তারপর দিনমান ইস্কুল, ইঙ্গিত, বন্ধু, মুগ্ধ বিকেল দাঁড়ায়।

তখন বাংলায় বাঙালির মন ভেসে যেতো সামান্যেই।
মফস্বলের বাতাস ছিলো সাদামাটা মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেই।
সকলের সঙ্গে সকলের অল্পবিস্তর সম্পর্ক ছিলো তত্ত্ব-তল্লাশের।
সে এক জীবন ছিলো এখন পার্থক্য ঢের।

* ( নুরুন্নাহার শিরীন এর নির্বাচিত দেশজ কবিতাঃ পৃষ্ঠাঃ ২৫ ) *

আরও একটি ছবি সংযুক্ত করছি ফেসবুক-গ্রুপ থেকে পাওয়া ২০১১-র বিশ্ব কবিতা দিবস-এর। ছবিটির
” গাছে-গাছে কবিতা টানাবো আজ ” শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর অসাধারণ পঙক্তি-কে আইডিয়া করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব কার্যক্রমের বিষয়টি আজকের তরুণ কাব্যপ্রিয়দের উতসাহময় প্রণোদনা যোগাবে মনে করি।


জানি, আমি হয়তো তেমন কবি-ই নই , বিশ্ব কবিতা দিবসেও তাই ডাক আসেনা বড়-বড় কবিতানুষ্ঠানের উদ্যোক্তা / দল / প্রতিষ্ঠান থেকে, তথাপি কেউ-কেউ কেন যে কবি ভেবে ভালোবেসে বার্তা পাঠায়! আমারও তাতেই অবাঙমুখর ভাব আসে ! কেন কে জানে ! আমার মৃত্যুর পরে কেউ পড়বে বলে ! হয়তো, হয়তো না, কেবল অধরা কি এক শব্দাকাশ বড় হাতছানিময় লাগে ! লিখি তা-ই যখন যা মনে আসে ….

২০ মার্চ ২০১২ ইং