ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

১৯৭১ এর এই দিনে আজ থেকে ৪১ বছর আগে পশ্চিমাজান্তা কর্তৃক আক্রান্ত বাংলাদেশ-এর অভ্যুদ্যয় ঘটে মেহেরপুর ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (পরবর্তীতে যা মুজিবনগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়), গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এর প্রথম মন্ত্রীসভা-র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান-এর মধ্য দিয়ে। শপথ গ্রহণ-এর সঙ্গে-সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক মুক্তির সনদ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে কবর রচিত হয় পাকিস্তান-জান্তা শাসক-এর। রচিত হয় ‘ বাংলাদেশ ‘ নামের নতুন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সংগ্রামী-ত্যাগী ইতিহাস। যা বিশ্বে এক বিরল ন’মাস-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য ইতিহাস। বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই পাওয়া এক স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ-এর ইতিহাস। এ যেন ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিলো তারই এক নতুন অভ্যুদয়, নতুন সূর্যোদয়। বাংলা-বাঙালি-মুক্তিযুদ্ধ আর মুজিবনগর বড়ো অভিন্নসূত্রে গাঁথা আমাদের অজর ইতিহাসের অধ্যায়।

সেদিন পাকিস্তানী জান্তার হাতে বন্দী জাতির কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে নবগঠিত মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার-এর রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনী-র সর্বাধিনায়ক করে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়ে আমাদের মুক্তির লক্ষ্য অর্জনে আলোকবর্তিকা হয়েই কাজ করে অবিচল নিষ্ঠায়।

তারও আগেই কিন্তু গণপ্রতিনিধিরা সন্মিলিত উদ্যোগে ১০ এপ্রিল মুজিবনগর স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র জারি করেন। এবঙ আজও অই মুজিবনগর ঘোষণাপত্রটি আমাদের জাতীয় সংবিধান-এর অবিচ্ছ্যেদ্য অংশ হিসেবে সততঃ স্মরণার্হ।

পরের দিন ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার-এর পক্ষ থেকে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ-এর ভাষণ স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়।

এবঙ ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলার প্রথম বৈধ নিয়মতান্ত্রিক স্বাধীন সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগর-কে স্বাধীন বাংলাদেশ-এর প্রথম রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

এই ঐতিহাসিক দিবসটি-র গুরুত্ব আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে অপরিসীম। আজ এইদিনের মহানায়কদের জানাই হার্দিক প্রণতি, লাল সালাম। জয়বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। জয় বাংলাদেশ।

১৭ এপ্রিল ২০১২ ইং