ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আমাদের পড়শি দেশ নেপাল। দেশটির প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক অসহায় দারিদ্রপীড়িত পরিবার বিক্রি করতে বাধ্য হয় তাদের বুকের ধনকে। তারা এই ভেবেই হয়তো সান্ত্বনা পেতে চায় তাদের শিশুরা অন্ততঃ কাজ করে আহার-বাসস্থানের নিশ্চয়তা পাবে।

আদতে তা হয়না। সম্প্রতি এএফপি-র বরাতে জানলাম এমনই এক খবর। নেপালের হামলা নামে এক গ্রামের অসহায় দরিদ্র কিছু বাবা-মা বিক্রি করে দেয় ২০জন শিশুকে। বিক্রিত শিশুরা কাজ পায় কাঠমন্ডুর ইটের কারখানায়। সমস্তদিনভর হাড়ভাঙা ইট ভাঙার কাজ। তাদের বয়স তিন থেকে নয় বছর। সারাদিনের অমানবিক খাটুনির পর তাদের ঠাঁই দেয়া হয় মনুষ্য-বাসের অযোগ্য স্যাঁতস্যাঁতে এক গোয়াল ঘরে। বিক্রিত দাস-জীবন।

কিন্তু ভাগ্যের জোরে তাদের কথা জেনে তাদের পাশে দাঁড়ান এক ব্যাবসায়ী আইরিশ দম্পতি, জেন ও তাঁর স্ত্রী মাউরা। তাঁরা নোংরা-অসুস্থ-পুষ্টিহীনতা থেকে উদ্ধার করে ২০জন শিশুকেই প্রথমে এক দাতব্য সংস্থায় ও পরে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করান। অতঃপর তাদের আরও সুন্দর জীবন-এর দিকে এগিয়ে দেন। শিশুরা পায় নেপালের স্বনামধন্য জ্ঞানদয়া স্কুলে ভর্তির অভাবিত সুযোগ। যেখানে বছরে লাগে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। ভাবা যায় ! অথচ এটি সত্যে রূপান্তরিত করেছেন আইরিশ দম্পতি জেন ও মাউরা। কঠিন অভাবপীড়িত ২০জন বিক্রি হওয়া শিশু আজ তাদের অন্ধকার ভেদ করে পেয়েছে আলোর ঠিকানা।

জেন এর ধারণা এই শিশুরা একদিন আকাশ ছোঁবে। আমার হার্দিক প্রার্থনা এই শিশুরা আকাশ থেকে আকাশে যাবার উড্ডীন পথে এগিয়ে যাবে। যাবেই। সেইসঙ্গে আমার দেশের পাচার হয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য প্রার্থনাঃ তারাও এমন আলোর ঠিকানায় যেতে সহায়ক কারও বাড়িয়ে দেয়া হাতটি পাক। আমেন।

শনিবার ২১ এপ্রিল ২০১২ ইং