ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

এইদিনে তখন আমাদের শহর কুমিল্লার বাতাসে উড়তো মেলার গন্ধ। হরেক বাঁশি-ডুগডুগি-শোলার পাখি আর বাতাসা-চিড়ে-মুড়কি-মোয়া-মিঠাই-ঢাকাই শাহী জিলাপি, মৃতশিল্প-কুটিরশিল্প-বাঁশ-বেত-কাঠ-তালপাখা-শীতলপাটি থেকে ঝাড়ু পর্যন্ত মিলতো মেলায়। দূরদূরান্তের সবচে’ সেরা পসরা নিয়ে মেলায় অংশ নিতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। লাভের হিসেবের চেয়ে আনন্দই মুখ্য হয়ে উঠতো। সারা বছর প্রায় শুনশান নির্জন ডিগম্বরীতলা ভরে যেতো আশ্চর্য আনন্দমুখর পদচারণায়। বাবা-কাকা-মামার হাত ধরে মেলায় যেতো শহরের ছেলেমেয়ের দল। হইহইরইরইর ভিড়ে ছেলেমেয়ের হাত শক্ত করে ধরা থাকতো বাবা-কাকা-মামার হাতে। পাছে তারা ভিড়ের ধাক্কায় হারিয়ে না যায় সেই ভয়ে। তবুও অনন্য আনন্দ পায়ে-পায়ে ছড়িয়ে পড়তো অভূত রোমাঞ্চিত। আজও খুব মনে পড়ে সেই শহর কুমিল্লা-র ডিগম্বরীতলা।

তখন বাবার সঙ্গেই মেলায় যেতাম আমরা অসীমানন্দে। মায়ের ফরমাশ থাকতো শীতলপাটির, তালপাখার, মাটির সরা, কাঠের বেলুনচাকি, আর ঝাড়ুর। বাবা আমাদের শোলার পাখি, পাতার বাঁশি, মাটির খেলনাপাতি, মোয়া-মুড়কি-খই-হাওয়াই মিঠা কিনে দিতেন। মহানন্দে বাড়ি ফিরতাম মেলার গন্ধসহ তুমুল রঙিন আনন্দ কিনে। তার জের ভেসে বেড়াতো হৃদিরক্তে বহুদিন। বহুদিন তার গল্প চলতো বন্ধুদের সনে। আমি কি কিনলাম আর তারা কি কিনলো, আমি কি দেখলাম, তারা কি দেখে এলো সেইসব অফুরান গল্পের শেষ ছিলোনা কোনও।

বাবা আমাদের বাড়িতে রেখে আবার ছুটতেন মেলায় মায়ের ফরমাশ মতো জিনিসপত্তর কিনতে। ফিরে আসতেন ঘেমে-নেয়ে-একসা হয়ে। তবুও বাড়িতে মেলার জিনিসপত্তর বোঝাই আনন্দ …. যার কোনও পরিমাপ হয়না। শহরময় ঘরে-ঘরে একই আনন্দচিত্র …. অনেকদিন ধরে লোকজন বলাবলি করতো …. এবারের মেলায় কি-কি সবচে’ সেরা এসেছিলো তার গালগল্পভর্তি সে এক আনন্দন বটে। আজ আর জানাও হয়না ডিগম্বরীতলায় অই রকম মেলা বসে কি না, আজ আর যাওয়াও হয়না, কিন্তু আমার স্মৃতিপটে ধারণকৃত মেলার চিত্রকল্প একইরকম জীবন্ত আজও, আজ শেয়ার করলাম আমার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগ-এ।

৯ বৈশাখ ১৪১৯