ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

১৯৪৭ সাল। তখনও ইংল্যান্ড-এর রাণী এলিজাবেথ রাণী হননি। তাঁর বিয়ে। তো, প্রথানুযায়ী বিশ্বের বিশিষ্টজনদের উপহার পৌঁছানো হয় প্রতিনিধি / নিজেই উপস্থিত হয়ে।

যাহোক, ভারত-এ তখন গান্ধীজী-র প্রবর্তিত
” বিলেতি বস্ত্র বর্জন করো দেশীয় বস্ত্র পরো ” -র আন্দোলন তুঙ্গে। গান্ধীজী নিজেই বোনেন চরকায় দেশী খদ্দর। নিজ হাতে বোনা দেশী মোটা খদ্দর খালি গায়ে হাঁটু অব্দি ধুতির মতো জড়িয়ে গান্ধীজী তখন তাঁর অহিংস নীতি-র কর্মযজ্ঞে চষে বেড়িয়েছেন বাংলার এ প্রান্ত ও প্রান্ত। সে সময় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টোন চার্চিল গান্ধীজী-কে
” অর্ধনগ্ন ফকির ” বলতেন।

তো, সেই সময়ে এলিজাবেথ-এর বিয়েতে গান্ধীজী কি আর দেন …. নিজের হাতে চরকায় বুনে পাঠান একখানা খদ্দর বস্ত্র। তাঁর সে উপহার তখন বৃটেনের রাজ পরিবারের কেউ বিশেষ পাত্তাই দেয়নি। তারও অনেক পরে এলিজাবেথ রাণী-র সিংহাসন-এ বসেছেন সেও প্রায় ষাট বছর ….

আজকের এলিজাবেথ-এর স্মৃতিচারণার উঠে এসেছে তাঁর সেই বিবাহ কালের বিভিন্ন উপাখ্যান …. তাতেই ধরা পড়লো গান্ধীজী-র পাঠানো নিজ হাতে বোনা অমূল্য খদ্দর বস্ত্রর ইতিহাস। যা আজ ঠাঁই পেয়েছে বৃটিশ রাজ পরিবারের অমূল্য উপহারের তালিকায়। বার্তাটি পড়ে আমার মনে আসছে কবিগুরুর মহার্ঘ বাণীঃ

হে অতীত তুমি ভুবনে-ভুবনে
কাজ করে যাও গোপনে-গোপনে,

….

তুমি জীবনের পাতায়-পাতায় অদৃশ্য লিপি দিয়া
পিতামহদের কাহিনী লিখিছ মজ্জায় মিশাইয়া।
যাহাদের কথা ভুলিছে সবাই
তুমি তাহাদের কিছু ভোল নাই,
বিস্মৃত যত নীরব কাহিনী স্তম্ভিত হয়ে বও।
ভাষা দাও তারে, হে মুনি অতীত কথা কও, কথা কও।।

২৬ এপ্রিল ২০১২ ইং