ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আমার খুব একটা ইচ্ছে ছিলোনা ” নুরুন্নাহার শিরীন-এর নির্বাচিত দেশজ কবিতা ” প্রকাশ করবার। অথচ তবু বইটি হলো। আমার প্রিয় অনুজ প্রতিম প্রচ্ছদকার মাসুক হেলাল (শিল্পী-লেখক হিসেবেও
খ্যাত)-এর তাগিদ এড়ানো যায়নি শেষতক। আমার বেশির ভাগ বইয়ের প্রচ্ছদকার মাসুক হেলাল। আমার আজন্মের প্রিয় শহর কুমিল্লা, মাসুক হেলালেরও আজন্মের শহর বলে, সে আমার ছোট ভাই-এর মতোই। আমায় বিষম ভালোবাসে। প্রায়ই ফোনে কুশলাদি নেয় ” আপা , ভালো আছো ” শুধোয়। আমিও খবর নিই মাঝেমাঝেই। তো , বেশ করেই জানি যে শিল্পীর কাজে কোনওরকম বাগড়া দিতে নেই , যাতে শিল্পীর স্বাধীনতা বিঘ্নিত হয় , তবুও প্রায় প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদ-এর কাজে আমার কিছু একান্ত চাওয়া প্রকাশকের কাছে মাসুক হেলালের জন্য পাঠাই চিরকুট আকারে। তাতে এক একটি বইয়ের বেলায় একেক রকমভাবে আমার একান্ত চাওয়া জুড়ে দেয়ার অনুরোধ জানাই। যেমন “জনোমনোকালকাহিনী”-র জন্য আমার চাওয়াটি ছিলো এমন যে মাসুক যেন প্রচ্ছদ আঁকার সময় অবশ্যই মাথায় রাখে বইটি ইতিহাসকাল ধারণ করার প্রয়াসে লেখা , প্রচ্ছদে বিষয়টি বিশেষ রঙে রাঙাতে সাদা-কালোর সঙ্গে আবছা ধূসরের মিশেলে মানুষের মিছিল আর রক্তচিহ্ন আঁকার দাবী জানাই দ্বিধাহীনভাবে। আশ্চর্য এই যে মাসুক তা এমনই মাথায় রেখেছে আমার চাওয়ার অধিক ফুটে উঠেছে সামগ্রিক থিমটি। বলা যায় ধারণাতীত অনবদ্য একটি কাজের অনন্য উপহার দিয়েছে মাসুক আমায়। আমার অনেক ঋণ মাসুকের শিল্পিত হাত দুটির কাছে।

যাহোক , বলছিলাম দেশজ কবিতা নির্বাচিত করার কাজটিও মাসুক জোর করে আমার ‘পরে চাপিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম এসময়ের অগ্রজ কেউ কাজটি করে দিতে রাজী হলে আমার আর কোনও দায়ভার থাকেনা। তাছাড়া নিজের লেখার বাছাইয়ের কাজটি সহজ না। অপ্রিয়-প্রিয় বাছতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়ে পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসাই কেবল বাকি ছিলো। তবু “উপায় নেই গোলাম হোসেন” এর দশায় পড়ে নিজের লেখা নিজেই বাছাই করার কাজ করেছি মাসুকের যুক্তির কাছে হার মেনেই। মাসুকের এক কথা “আপা , তোমার লেখা তুমিই বাছাই করলে সেটি যা দাঁড়াবে তা-ই হবে তোমার নির্বাচিত বই”। অগত্যা শেষতক বাছাই-এর কাজটি “ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়” অবস্থা হবার পরেও পান্ডুলিপি তৈরী হয়েছে। প্রকাশক-এর হাতে মাসুক-এর জন্য আমার চিরকুটও পৌঁচেছে। যাতে লিখেছিলাম বরাবরের মতোই আমার চাওয়া। সেই চাওয়া মতোই মাসুক এঁকেছে “নুরুন্নাহার শিরীন-এর নির্বাচিত দেশজ কবিতা” বইয়ের প্রচ্ছদ। আমার চাওয়া পূর্ণ হলেও সামগ্রিক কাজটি ভালোলাগাযোগ্য হয়েছে কি হয়নি সেতো কেবল বোদ্ধা পাঠক বলবেন।

বইটি প্রকাশ করেছে পারিজাত প্রকাশনী। প্রথম প্রকাশ “আগরতলা বইমেলা ২০১১” তে। এবঙ ২০১২ তে “একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমী ঢাকা”-য়। প্রকাশক পান্ডুলিপিটির কপি ২০১১-তে বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর মহাপরিচালক খ্যাতিমান আবৃত্তিকার কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী-র হাতে দিয়েছে এবঙ তিনিও তাঁর হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রণোদনাময় মুখবন্ধ লিখেছেন , যা বইয়ের শেষ মলাটে মুদ্রিত করেছে প্রকাশক।

নিজের বইয়ের কথাই লিখলাম আজ আমার ব্লগ-এ , এ যেন সেই আমার কথাই “নিজের জন্য নিজেই পেটাতে হয় ঢ্যাঁড়া” সত্যটির পূনঃপ্রকাশ।

বই-পরিচিতিঃ
নুরুন্নাহার শিরীন-এর নির্বাচিত দেশজ কবিতা
প্রকাশকঃ শওকত হোসেন লিটু
পারিজাত প্রকাশনী ৬৮-৬৯ প্যারিদাস রোড , বাংলাবাজার , ঢাকা
ফোনঃ ৭১৬৫০৯৬
প্রচ্ছদঃ মাসুক হেলাল
মূল্যঃ ৮০ টাকা