ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

রংপুর-এর পীরগঞ্জের ফতেপুর গ্রামের সম্ভান্ত পরিবারের কৃতবিদ সন্তান এই উপমহাদেশের প্রথম শ্রেণীর বিজ্ঞানী ডঃ ওয়াজেদ আলী মিয়া, যিনি এলাকায় আজও “সুধামিয়া” নামেই খ্যাত, তিনি বঙ্গবন্ধুর বড় জামাতা এবঙ বাংলাদেশ-এর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা-র স্বামী। আজ তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ এর এইদিনে তিনি ৬৭ বছর বয়সে বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আজীবন নিভৃতচারী কর্মবীর এই মেধাবী বিজ্ঞানী নিরবে তাঁর কাজ করে গেছেন। কখনও তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্রের বাইরে ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টামাত্র করেননি। যা তিনি অনায়াসে পারতেন। ক্ষমতার ধারেকাছেও যাননি তিনি। নিয়োজিত-নিবেদিত থেকেছেন আপন কর্মক্ষেত্রে। ১৯৬৩ তে ততকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে চাকুরী দিয়ে কর্মময় জীবন শুরু করেন। ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ থেকে। ১৯৬২ তে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত আর সেই বছরই আয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন। ১৯৬৭তে তিনি যুক্তরাজ্যের ডরহ্যাম ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৬৭-র ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা-র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আণবিক শক্তি কমিশন-এর চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ত্ব পালনও করেন। ১৯৬৯ এ ইতালির বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র তাঁকে “এ্যাসোসিয়েটশিপ” প্রদান করে। ১৯৭৫-এ সপরিবারে বঙ্গব্ন্ধু হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি ডঃ ওয়াজেদ মিয়া পরিবার নিয়ে জার্মানী থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সহ।

ব্যাক্তি জীবনে আজীবনই অত্যন্ত সৎ , নির্লোভ , নিরহঙ্কারী হিসেবে পরিচিতি তাঁর কর্মক্ষেত্র সহ স্বজন-পরিজন সকলের কাছেই। তাঁর এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট আর কর্ম আজকের দিনে বিরল প্রায় বলেই মনে করি। যা আজকের প্রেক্ষাপটে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত।

তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসি করুন। আমেন।

৯ মে ২০১২ ইং