ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

আমরা ক’জন-ই বা জানি যে আজ এই উপমহাদেশের সুবিখ্যাত শিশু-সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী-র সার্ধশত জন্মবার্ষিকী ! যিনি জন্মেছেন এদেশেই তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ময়মনসিংহ-র মসূয়া গ্রামে ১০ মে ১৮৬৩ তে। পিতা কালিনাথ রায় সুপন্ডিত ছিলেন। তিনি তাঁর আট সন্তানের মধ্যে তৃতীয় পুত্রের জন্মের পরে নাম রাখেন ‘কামদারঞ্জন রায়’। এই কামদারঞ্জন রায়-কে তার চার বছর বয়সে দত্তক নেন অপুত্রক আত্মীয় জমিদার হরিকিশোর রায়চৌধুরী। এবঙ নতুন নাম দেন ‘উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী’।

ছেলেবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন বলে পরবর্তীতে ভর্তি হন কোলকাতার বিখ্যাত ‘প্রেসিডেন্সি কলেজ’-এ। পড়ার সঙ্গে বিষম অনুরাগী ছিলেন বাঁশি, বেহালা, সঙ্গীতের। সাহিত্যানুরাগও ছিলো প্রবল। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে ছবি আঁকায় ঝুঁকে পড়েন। সে সময় সদস্য হন ব্রাহ্ম সমাজের। লিখতে শুরু করেন শিশুসাহিত্য। তখনকার খ্যাতিমান মাসিক পত্রিকাগুলোতে ছাপা হতো তাঁর লেখা। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি-র ‘বালক’ নামের মাসিক কাগজে নিয়মিত প্রকাশ হতো তাঁর লেখাপত্তর। তখনকার আমলে প্রকাশনার মান তাঁর মনোমত ছিলোনা বলে নিজের অতৃপ্তি থেকেই তিনি নিজ খরচে ১৮৮৫ তে বিদেশ থেকে আমদানী করেন আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র। এবঙ কোলকাতার শিবনারায়ণদাশ লেন-এ নতুন ভাড়াবাড়িতে ‘ইউ রায় এ্যান্ড সন্স’ নামে নতুন ছাপাখানা খোলেন। সেখানেই একটি কক্ষে নিজের আঁকার স্টুডিও করে ব্লক প্রিন্টিং নিয়ে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। সুবিখ্যাত ‘সন্দেশ’ পত্রিকা তিনিই নিজের ছাপাখানা থেকে প্রথম প্রকাশের কাজটি শুরু করেন। পরে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় তারও পরে পৌত্র সত্যজিত রায় সেটি সম্পাদনা করেন।

বাংলা ছাপাখানার অগ্রপথিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তাঁর অজর শিশু-সাহিত্য ‘গুপি-গাঈন-বাঘা-বাঈন’ , ‘টুনটুনির বই’ আজও সমান জনপ্রিয়। উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার তাঁর পৌত্র সত্যজিত রায় ‘গুপি-গাঈন-বাঘা-বাঈন’ চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত করার মহতী কাজটি করেন।

তিনি ১৮৮৬ তে ব্রাহ্ম সমাজের বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়-এর কন্যার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন পুত্র তিন কন্যার মধ্যে প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় অন্যতম। ক্ষণজন্মা এমন বহুল প্রতিভাধর মানুষটি মাত্র ৫৩ বছরে ২০ ডিসেম্বর ১৯১৫ তে মৃত্যুবরণ করেন।

আজ-ই তাঁর সেই সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। তাঁর অনন্য কর্ম ও স্মৃতির প্রতি চিরকালের শ্রদ্ধার্ঘ।

১০ মে ২০১২ ইং
* তথ্য ও ছবি উইকি বাংলা *