ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

‘৭৫-এ সর্বকালের অন্যায়-ঘৃণিত হত্যাযজ্ঞে মা-বাবা-ভাই-ভাতৃবধু-স্বজনহারা হয়ে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার দাপটে নিজ বাসভূমে আসতে না পারা বঙ্গবন্ধুর প্রিয় কন্যা শেখ হাসিনা অবশেষে ‘৮১-র এইদিনে (১৭ মে) স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। অগণিত স্বতঃস্ফূর্ত জনতা সেদিন আকাশভাঙা ঝড়জল মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ-এর স্বাধীনতার অজর শ্লোগান “জয়বাংলা” হর্ষধ্বনিতে তাঁকে বরণ করে। তিনি অন্যায় ষড়যন্ত্রের শিকার বাংলাদেশ-এর স্বাধীনতার ধারক-বাহক দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগ-এর সভানেত্রীর দায়িত্বভার প্রাপ্ত হন। সেদিন আপ্লুত নেত্রীর কণ্ঠে

“সবকিছু হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনক হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে জীবন উতসর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা-ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি , আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই , বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই”

শুনে জনসমুদ্রসহ আমরা যারা টেলিভিশন-এ তা দেখি ও শুনি আমরাও অশ্রুসজল হই। আপ্লুত হই। সেদিন থেকে আজতক তিনি ৩১ বছর ধরে শক্ত হাতেই হাল ধরে আছেন আওয়ামীলীগ-এর এবঙ বর্তমানের বাংলাদেশ-এর। প্রতিনিয়ত হাজার সমস্যা-সঙ্কট-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই টিকে আছেন। এমন কি জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েও স্রষ্টা ও মাতৃ-পিতৃ দোয়া আর মানুষের ভালোবাসার জোরেই প্রাণে বেঁচে যান। ২০০৬-৭-এর ক্রান্তিকালে কারাভোগের পরে গণমানুষের রায়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব পেয়েই তাঁর প্রথম ওয়াদা পূরণ-এর লক্ষ্যে কাজ করেন। এবঙ সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলার জলেস্থলে-জনমনে কেঁদে ফেরা বিচারের বাণীর যথার্থ প্রয়োগ হয় , বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের রায় কার্যকর হয়। এদেশের কোটি প্রাণের কান্নার আগুন নেভে অন্তর্জলের ধারাজলে।

অতঃপর অগ্রসর হন জঙ্গী-নির্মূলসহ বোমাবাজির অবসানকল্পে। সাফল্য পান। এদেশে আজ আর প্রকাশ্য সভা-অনুষ্ঠানস্থলে অতর্কিতে বোমা হামলার শিকার হয়না মানুষ। সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত একটি অর্জন তাঁর এই যে আজ বাংলাদেশ-এর স্বাধীনতার ৪১ বছরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীগঙ-এর হাতে হাতকড়া পড়েছে এবঙ আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল আদালতে তাদের বিচার চলছে। এটি তাঁর নির্বাচনের অঙ্গীকার ছিলো। আরও একটি সাফল্য তাঁর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অগ্রসরমানতা। শিক্ষাক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আজ উজ্জ্বল সম্ভাবনার বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য বিষয়ক অর্জনও অনেক। অর্থনীতি অনেক ধকল-ধাক্কা খেয়ে নিম্নমুখীন অবস্থান থেকে উত্তোরণের দিকে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ-এর ভাবমূর্তি আজ অতীত-এর চেয়ে ঢের উজ্জ্বল।

অন্যান্য যা-যা অনাকাঙ্ক্ষিত তার বেশিটাই এদেশে বহুবর্ষ ব্যাপী বিদ্যমান অপরাজনৈতিক কৌশল-অপকৌশলগত বিষয় , যার সুরাহা রাজনৈতিক পথেই হবে বলে বিশ্বাস। আমাদের আজও আশা প্রধানমন্ত্রী সকল ক্ষেত্রেই আরও কৌশলী-দক্ষ-শক্তহাতে হাল ধরেই সফলতা অর্জন করবেন। জনমনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আরও আন্তরিক সঠিক পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর সরকারের অযোগ্য-অদক্ষদের বিষয়ে অবিলম্বে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রশাসন থেকেও সকল ভূতকে তাড়াবেন। সুদক্ষ-কার্যকর-শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যাবস্থায় সহায়ক যা-যা করণীয় জরুরীভাবে তা করতে উদ্যোগী ভূমিকা নেবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্যসহ সার্বিক অর্জনের ধারায় দীর্ঘজীবন আজকের দিনটিতে একান্ত চাওয়া আমার।

১৭ মে ২০১২ ইং