ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

জীবনভর যাঁর শিল্পিত হাতের ছোঁয়ায় ক্যানভাস জীবন্ত হয়ে উঠেছে জীবনের অনন্য আশ্চর্য রূপরেখায় তিনি বাংলাদেশের এক মহিমান্বিত শিল্পী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে। মৃত্যু ২৮ মে ১৯৭৬-এ। বাংলার চিরন্তন জীবন, সংস্কৃতি, সংগ্রাম সমস্তই তাঁর চিত্রকলায় উঠে এসেছে ঐতিহ্যগত আবহে যেন কথা বলছে জীবনের ছবি। এমনই সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি।

এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন আমৃত্যু। তাঁর মহান শিল্পকর্ম বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বে কালজয়ী আসনে বসিয়েছে। ১৯৪৩ এ “দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র”, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের চিত্র “সংগ্রাম”, ১৯৭০ এ সুবিশাল ক্যানভাসে এঁকেছেন “নবান্ন” যা ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের বাংলা ও বাঙালির সনাতন ঐতিহ্যের জীবন্ত এক চিত্রকলা। ১৯৭০ এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের হৃদয়স্পর্শী ছবি “মনপুরা”। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে “যোদ্ধা”, গ্রামবাংলার মুখচ্ছবি “গুণটানা” ও “সাঁওতাল রমনী” তাঁর অজর সৃষ্টি। ১৯৪৮ এ ঢাকা আর্ট কলেজ তাঁর অবদানেই গড়া। যা আজকের চারুকলা ইন্সটিটিউট।

বাংলাদেশ-এর স্বাধীনতা অর্জন-এর পরপরই অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর বিশেষ উদ্যোগে ময়মনসিংহে স্থাপিত হয় “জয়নুল সংগ্রহশালা”। যেখানে তাঁর শিল্পকর্মসমূহ সংগৃহিত আছে। প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থী আজও ভিড় জমায় সেথায় শিল্পীর আঁকা চিত্রকলা দেখতে। কিন্তু শিল্পীর ছবিগুলোতে আজ পুরনো স্থাপনার ড্যাম্পজনিত কারণে ফাঙ্গাস ধরেছে , যার জরুরী রক্ষনাবেক্ষণ প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানাই।

শিল্পীর উদ্যোগে ও বঙ্গবন্ধুর একান্ত পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ এ “সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘর” প্রতিষ্ঠা পায়। যেখানে নিত্য দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের পদচারণামুখর প্রাঙ্গন ঘিরে সুন্দর-এর অরূপ রূপের আশ্চর্য গন্ধ ওড়ে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন তাঁর শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক এক নিবন্ধে লিখেছেন

“সবচেয়ে সুন্দর হলো সত্য আর সে সত্য হলো জীবন”

জীবনের পূজারী এই মহান শিল্পী জীবন-সত্য-সুন্দর কে জীবন্ত করে গেছেন ক্যানভাসে। তাঁরে কোনওদিনও ভুলবেনা প্রকৃত শিল্পপ্রেমী। আজ তাঁর মৃত্যুদিনে তাঁর সৃষ্ট সকল সত্য ও সুন্দর কে জানাই হাজার সালাম, শ্রদ্ধাঞ্জলি।


২৮ মে ২০১২ ইং