ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

তোফায়েল-মেননের মন্ত্রিত্ব প্রত্যাখান- এটাকি বর্ষীয়ান রাজনিতিকের প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্ত নাকি সুবিধাবাদি রাজনিতিকের কঠিন সময়ে পাশ কাটিয়ে চলার কৌশলী প্রয়াস ।

রাজনীতিতে এটা একটা নতুন দৃষ্টান্ত। যেন ” কর্ম খালি আছে ” পোস্টারে ছেয়ে গেসে দেশ কিন্তু যোগ্য প্রার্থীর অভাবে নিয়োগকর্তা নিয়োগ দিতে পারছে না । মনে হচ্ছে রূপকথা-র রাজার হাতি চলেছে, সাথে ঢাকঢোল নিয়ে সঙ্গী পাইক-বরকন্দাজ -রা। হাতি-র শুঁড়ে “হিরামতি-র” মালা- আর সেই দৃশ্যকে মহিমান্বিত করতে আমজনতা রাস্তার দুধারের সারিবদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে । হাতি আজ যার গলায় মালা পরিয়ে দেবে সেই হবে মন্ত্রী । সবাই যখন মন্ত্রী হবার আসায় হুমড়ি খেয়ে পরছে তখন মন্ত্রী হবার ভয়ে বেকুব ” কালু ” দিল দৌড় । কিন্তু শেষ বেলার মন্ত্রী কে হতে চায়, এতে’ত “হালুয়া-রুটি”-র ভাগও যেমন কম থাকে, তেমনি ” নায়ক” হবার ও সুযোগ থাকে খুবই সামান্য । এটা’ ত হিন্দি সিনেমা “নায়ক” খ্যাত অনিল কাপুর, আর ” বাংলা-উডের ” মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ” পোড় খাওয়া ” চেহারার দিকে তাকিয়েই বুঝা যায়, শেষ বিকেলের মন্ত্রী হবার “মূল্য” কত ?

তবে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে কাপরুসিত বলা যায় । সরকারের এই বিপর্যস্ত মুহূর্তে আবারও মুখ ফিরিয়ে নিলেন তোফায়েল যেমনটি করেছিলেন ৭৫ ও ১/১১ এ । মেনন’ত নদী পারাপারের সময় নৌকায় আরোহণ করলেও নৌকা যখন ” উজান স্রোতে” টালমাটাল, তখনই নৌকা ত্যাগ করলেন । পশ্চিমা রাজনিতিতে এটা বহুল প্রচলিত যাকে বলে ” Rats Jumping Off the Ship (Sinking)”

১/১১ পরবর্তি বঞ্চনা তোফায়েল-কে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে, তেমনি সরকার যেভাবে “বিব্রত” হল , এবার যদি সরকারের টনক নড়ে, এবং বাকি ১ বছর দেশটাকে ভালভাবে চালায়।