ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

“প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই, ….এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই …শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই” সুমন চট্টোপাধ্যায় এর এই বিখ্যাত গানটির কথা কে না জানে । আমার তো মনে হয় আমার জেনারেশনের একজন যুবককেও পাওয়া যাবে না যে এই গানটি বাথরুমে গান নাই বা গাইবার চেষ্টা করেন নাই। আবার অনেক রোমিও’ ত রাতে ঘুমাতে যাবার সময় সপ্ন দেখার চেষ্টা করেছেন যে ” আহা যদি সৃষ্টিকর্তা আমাকে গান গাইবার গলা দিত, তাহলে আমি কালকেই এই গানটি গেয়ে বান্ধবীকে প্রেম নিবেদন করতাম বা ভাবি বান্ধবিকে আমার প্রেমের পরীহ্মা দিয়ে মুগ্ধ করতাম” আর এই গানটি যখন বাজারে হিট তখন আমার প্রেমের বাজারেও হিট হওয়ার সুযোগ এসেছিল যদিনা আমি সেই সুযোগ হেলায় হারাতাম ।

ঘটনাটা তাহলে আজ বলি, টপ সিক্রেট – গল্পটা আমি কাউকেই বলিনি, শেয়ার করছি প্লিজ আপনি আবার শেয়ার করবেন না কিন্তু , কারন এটি “কপি – রাইটেড” । আমি তখন একজন টগবগে তরুণ- “এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় তার” কবি হেলাল হাফিজের সেই বিখ্যাত লাইনটি যেন আমার সেই সময়টার জন্যই লিখা হয়েছিল । মিছিলে যোগও দিয়েছিলাম। তবে বিধিবাম – মিছিলে যাওয়ার খবর পৌছে যায় সুদূর লন্ডনে পিএইচডি – রত আমার অগ্রজের কাছে। যিনি ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন, আমর ভবিষ্যৎ নাকি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এর মতই (অন্ধকার) হবে, আর তাই লন্ডন থেকে চিরতরে চলে এসেছিলেন আমাকে মিছিল থেকে নিবৃত করার জন্য । আমার অবশ্য খুব খারাপ লেগেছিল – আহা ! আমার জন্যই কি পিএইচডি হল না। না, তবে পিএইচডি হয়ে ছিল, তবে লন্ডনে না আমেরিকার এক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে , তবে তার আগে উনি আমার মিছিলের তেরটা বাজিয়ে দিয়েছিলেন । যাহোক, মিছিল করি আর যাই করি, আমার হৃদয়ে কিন্তু ছিল “আনোয়ার হোসেনের – হেল কমান্ডো” তাই পরিপূর্ণ সাবালক হবার আগেই বা সন্ধিক্ষণে চলে গেলাম হৃদয়ের টানে – দিগন্তের ওই পাসে যেখানে দিন ও রাত্রি সমান , যেখানে সাপ ও ব্যাঙ খেলা করে এক সাথে । সেই দিনগুলো ছিল খুবই রোমাঞ্চকর – রাত গুলি ছিল ততোধিক শ্বাপদসঙ্কুল । প্রতিটি দিন যেন ছিল এক একটি বছর, রাত যেন ছিল অমাবস্যার তিমির, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হত অতি সন্তর্পণে, যেন পিছলিয়ে পরে তলিয়ে না যাই গিরি- পর্বতের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা নদে। এভাবে চলতে চলতে এক সময় দেখা পেলাম দিগন্তের ঐ পার্শে থাকা সেই কাঙ্খিত সূর্যটি- র । কি এক অদ্ভুত আবেশে মনটা ভরে গেল , আর যাবেই না কেন ? এই সূর্যটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম সেই শৈশব থেকেই – আর আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যখন সেই সোনালি সূর্যটা এসে ধরা দিল আমারই দিগন্তে । এ যেন বিশ্বজয়ী যোদ্ধা আজ ফিরিছে তার নিজ দেশে যখন তার পুরো পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত – অপরিচিত সকলেই তাকে অভিবাদন জানাতে জড়ো হয়েছে এই আঙিনায় । সেই অনেকের ভিড়ে একজন ছিল বড় অসাধারণ , কি তার বাচন-কি তার চাওন – এ এক অন্য রকম অভিব্যক্তি – যা কিনা হার মানায় নাটোরের সেই বনলতা সেন কে ও । যা হোক, সে দিন ছিল এক অবিস্মরণীয় দিন, আর সে ও ছিল বড় অসাধারণ কিন্তু এই অধমের কাছে সব-কিছুই সেদিন খুবই সাধারন মনে হয়েছে কেননা আজ সে তার জীবনের সপ্ন পুরনের মহিসোপানে পা রেখেছে, সে তা্র অর্জনটুকু বিসর্জন দিতে চায় না বরং এই আরও দূর যেতে চায়, আরও উচ্চতায় উঠতে চায়।

তাই সে কোনদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেই অসাধারণ মেয়েটি একটি দুঃসাহসিক কাজ করে বসে, আর সেটি হল সে ঐ তরুণটিকে বাসায় নিমন্ত্রণ করে । অবশ্য নিমন্ত্রণ আর এমন কি ? ছেলেটি ঐ বাসায় গিয়েছে দু একবার । কিন্তু আজ কোন সাধারণ দিন ছি্ল না । ছেলেটি যখন নিমন্ত্রণ খেতে উপস্থিত হন তখন সে জানতে পারে যে বাসায় ঐ মেয়েটি ছাড়া আর কেউ নাই, মানে ঐ টগবগে তরুণ আর অসাধারণ সেই তরুণী। আর হয়ত ঘটনাটিকে আরও রোমাঞ্চকর বা মসলাযুক্ত করতে বা আরও অসাধারণ করার জন্য মেয়েটি ঐ ছেলেটিকে তার ঘরে নিয়ে ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় । আর সে দিনের সেই সাহসি তরুন যার কিনা “বাঘের দুধ” বা কালনাগিনীর “সর্পমণি” ছিনিয়ে আনার মত দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতা দূটিই ছিল, সেই কিনা ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যায়। যাহোক সেদিন আর বেশী কিছু ঘটেনি শুধুমাত্র সুমনের ঐ গানটি “,..। তোমাকে চাই, তোমাকে চাই…১ কাপ কফি-তে আমি তোমাকে চাই ” । হ্যাঁ, মেয়েটি খুব সুন্দর ভাবে ওই গানের লাইন কয়টি গেয়ে আমাকে জিজ্ঞস করেছিল- কেমন লাগাল ? আমি ভাল কোন সদুত্তর দিতে পারিনি ..। পারব কি করে আমি তখন বুঝিনি যে ওইটা ছিল সুমনের “হিট” গান । বুঝব কি করে ? ওই গানটা যখন বাজারে আসে, তখন আমি কিনা ব্যস্ত দিগন্তের সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে। অনেক দিন পর্যন্ত আমার ধারনা ছিলনা যে ওই গানটি কি সুমনের ছিল , নাকি ওই মেয়টির । কিন্তু অনেক দিন পর যখন বন্ধু মারফত জানলাম যে গানটি সুমনের ছিল তখন কেন যেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে গানটি ঐ মেয়েটিরই ছিল । কিন্তু তখন অনেক দেরি না হলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে । ইতিমধ্যে রোমাঞ্চ যেন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল বারবার, আর তাই আমি আর বেশিদিন পারিনি উত্তর না দিয়ে, আবারও ছুটে চললাম দিগন্তের পানে- আগামীর পথে । অবশ্য এবার মনটা ভারী ভারী লাগছিল সেই অসাধারণ মেয়েটির কথা চিন্তা করে । কারন আমি তাকে তার উত্তর টা দিয়ে আসিনি যদিও উত্তরটা ততদিনে আমি জেনে গেছি । আর আমি ততদিনে চলে গেছি “নাই টেলিফোন নাইরে পিওন-নাইরে টেলিগ্রাম – আসাধারন ঐ মেয়েটির কাছে একটি সাধারন সংবাদ ক্যামনে জানাইতাম” এর জগতে । সেই যাত্রা দীর্ঘকাল ব্যাপী ব্যাপ্ত ছিল আর আমি আবার ঐ গানটি আর একবার শুনার জন্য ছুটে আসতে চাইছিলাম ব্যাকুলভাবে । লোকমুখে শুনেছি আমার সেই যাত্রা নাকি সেই মেয়েটির জীবনে শূন্যতা ও তার পরিবারের জন্য হতাশা বয়ে নিয়ে এসেছিল, শুধুমাত্র মেয়েটির বড়ভাই ছাড়া যে সব সময় আমার সাথে ” বড় ভাই সুলভ” আচরণ করত। গল্পটি শেষ করতে হবে তাই না ? মেয়েটি নাকি এখন সুখে আছে “সুইডেনে” আর আমি আছি সুখ ও দুঃখ -এর মাঝামাঝি বয়ে যাওয়া দিগন্ত রেখা বরাবর এক মরুভূমিতে যেখানে সূর্য বছরে ৩০০ দিনের উপর ঝকঝকে ঝলমলে কিরন দেয়, কিন্তু রাতের আলো সেই সূর্যের আলোকেও হার মানায়, যেখানে ক্লান্ত হয়ে গেলে পথিক দৌড়াতে শুরু করে, যেখানে বৃষ্টির চেয়ে রঙধনু বেশী খেলা করে। সময় ও ভৌগলিক বিচারে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে আজ মাঝে মাঝে মনে হয়- ইস যদি সেদিন জানতাম যে ঐ গানটি সুমনের লেখা কিন্তু তা আমার জন্য গেয়েছিল “অসাধারণ” একটি মেয়ে যার তুলনা শুধুই সুইডেনের কোন এক “ডিজিটাল বনলতা সেন”

“প্লিজ, কাউকে বলবেন না কিন্তু । তবে আপনার ও যদি এমন কোন গল্প থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু ।