ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

জাতি হিসেবে আমাদের বোধ হয় একটু লোভের ধাঁচ আছে। একটু বিশ্বাসঘাতকতার রক্তও কি আছে আমাদের শরীরে!!! প্রশ্নটা ভিতরে অনেক দিন ধরেই ছিল। প্রকাশ করতে পারি না ভয়ে। যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তোলে কেউ। ইতিহাসের যতটুকু আমি পড়েছি; তার অধিকাংশ অংশেই আমি এই উদাহরণটা দেখতে পেয়েছি। আমার বিবেচনায় ভুল হতে পারে সীমাবদ্ধতার কারণে। কিন্তু সত্যটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।

প্রথমে আসি, তের আফগানির বাংলা বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে। আমি পড়েছি- বাবা লক্ষণ সেন মধ্যাহ্নভোজনে ব্যস্ত রয়েছেন। এসময় তার কাছে খবর আসল হাজার হাজার বিশালদেহী আফগান যোদ্ধা তার গর্দান নিতে আসছে। শালার পুত কোন বিবেচনা না করেই পাছার কাপড় তুলে পগার পার হয়ে গেল। ইতিহাস কি লিখল?? ইখতিয়ার উদ্দীন মো. বিন বখতিয়ার খলজি নামে এক আফগানী মাত্র তের জন সৈন্য নিয়ে বাংলা বিজয় করল। মগের মুল্লুক আর কি!!! তের আফগানের বাংলা জয়!!! হুজুগ দিয়েই বাঙালিকে আজীবন ঠেলা মারা হয়েছে। বাঙালী তাই আজ হুজুগের মগডালে উঠে বসে আছে। এমন হুজুগে মেতেছে যে, কুকুর মনে করে রাস্তায় পিটিয়ে মানুষ হত্যাও বাদ পড়ছে না আজকাল। সেই হুজুগ দিয়েই ইতিহাসে বাঙালীকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে অসীম সাহসী মুসলিম সেনাপতি খলজী মিয়া হিন্দু শাসনের অবসান করে মুসলিম হ্যাভেন বানিয়ে দেবে। (হ্যাভেন অবশ্য মোটামুটি বানাইতে পারছে,, শোনা কথা যে.. আমার দাদার দাদার মাত্র ত্রিশটার মত সন্তান ছিল। তবে সত্তর টা হুরের গর্ভে না মাত্র একটা হাড্ডিসার নারীর গর্ভে।) ইতিহাসে এভাবে আসা দরকার ছিল কোন শালার বিশ্বাসঘাতক রাজার কাছে মিথ্যা খবর পাঠিয়েছিল, লুচ্চা লক্ষণ সেনকে পালাতে প্ররোচনা দিয়েছিল। ইতিহাসের সীমাবদ্ধতা নাকি আমার সীমাবদ্ধতা জানি না. এই সত্য আজও জানা হল না। কোন সেই বিশ্বাসঘাতক রাজা লক্ষণ সেনকে পালানোর প্ররোচনা দিয়েই ক্ষান্ত হয় নি; ইতিহাসের মোড়কেই ঘুরিয়ে দিয়েছে।

বঙ্গভঙ্গের কথা মনে থাকার কথা সবার। বঙ্গভঙ্গের মুল হোতা ছিল ইংরেজরা। শাসন শোষনের জন্য ছোট রাজ্য ভাল। এই ভাবনা থেকেই বাংলাদেশকে তারা ভাগ করতে চেয়েছিল। বাধ সাধলেন মহাত্না গান্ধি আর ঠাকুর পরিবার। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক আর পা চাটা লোভীরা যে সজাগ ছিল!! নবাব না হয়েও নবাব(নওয়াবও হতে পারে) খেতাব পেয়ে ইংরেজদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বঙ্গকে ভেঙ্গে রাজা সেজে বসতে চাইল জমনিদারেরা। ইংরেজদের শঠতাই আর এসব নবাব না নওয়াবদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলা হারালো আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা ইত্যাদি রাজ্য যেগুলো আজ ইন্ডিয়ার সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত।

আজ এই পর্যন্তই…… একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কিছু গণতান্ত্রিক বিশ্বাসঘাতকার চিত্রও আছে। পারলে পোস্ট দিব।