ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

রাজধানীতে শোনা যায়, ৬৫টি খাল ছিল(শোনা যায়, দেখা যায়না)। তবে ওয়াসার হিসেবে ২৬টি। অর্থাৎ তারা শনাক্ত করতে পেরেছে ঐ পরিমাণ। বাকি থাকল আরও ৩৯টি খাল। এই খালগুলোর হদীস কেউ দিতে পারে না। কারণ মানচিত্র থেকেও হারিয়ে গেছে সেগুলো।

বিশাল জনগোষ্ঠীর ঢাকা শহরে জলাশয়ের পরিমাণ এত কম যে,এই প্রজন্মের ঢাকাবাসীরা হয়ত কোন খাল বা জলাশয় দেখেইনি। যে গুলো খাল নামক স্থানগুলো রয়েছে সেখানে গেলে বা তার আশপাশ গুলো দিয়ে গেলে নাক তো বন্ধ করতে হবেই। চোখও বন্ধ করতে হয় মাঝে মাঝে। এখানকার পানি এতটাই নোংরা যে অনভ্যস্ত যে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। নাগরিক জীবনে একটু প্রশস্তির জন্য এর আশেপাশে একটু বসা বা সময় কাটানো মানে ভয়ানক শাস্তির মুখোমুখি হওয়া। দুর্গন্ধে বমিও হতে পারে। তাই সাধারণত নগরবাসীরা এসব জায়গায় পা দেয় না। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাজধানী শহর সাজানো হয় সুদৃশ্য সব স্থান দিয়ে। যেখানে ছোটবড় জলাশয় থাকাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের ঢাকাতেও অনেক খাল ছিল একসময়। সংষ্কার আর সচেতনতার অভাবে সেগুলো আজ পরিত্যক্ত তো বটেই, কোথাও কোথাও তা হয়ে উঠেছে চরম অভিশাপের। নানা ধরনের বর্জ্য মিশে জলাশয়গুলো হয়ে উঠেছে দুষিত সাগর যেন। আর দখল তো আছেই। রাজনীতিবিদ আর প্রভাবশালীরদের কবলে আর প্রাণ নেই জলাশয়গুলোর। নগরবাসীর কত বড় দুর্ভাগ্য দেখেন। দখলদারের দলে কিন্তু সরকারও রয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করতে সরকার অনেক খাল ভরাট করেছে।

কয়েক বছর আগে একটা উদ্যোগে নগরবাসীর মনে একটু আশার আলো দেখা দিয়েছিল। সরকার বলেছিল, ঢাকা শহরকে ঘিরে থাকা নদীগুলো সংষ্কার করা হবে। যেখানে বিভিন্ন নৌযানও চলবে। শুধু শোনাই গেল। দেখা মিলল না। বর্তমানে ঢাকার চারদিকের নদীগুলো এত সংকুচিত; যে এখানে যান চলাচল করতে পারেনা। আর এতটাই নোংরা যে এখানে কোন মাছ তো দুরে থাক কোন পোকাও বাস করে না। তাই নদীগুলো একপ্রকার প্রায় পরিত্যক্তই রয়ে গেছেকর্তৃপক্ষের কোন দায়িত্ব নেই নদীগুলো উদ্ধার করার। ঢাকা শহরের খালগুলোরও একই অবস্থা। তবে সম্প্রতি সরকার খালগুলো উদ্ধারে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা হোক ২০০৯ সালে এ লক্ষে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল নৌমন্ত্রীকে প্রধান করে। মন্ত্রী বলতে চাচ্ছেন তাদের সরকারের আমলে ২৬টি খাল উদ্ধার করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। আড়াই বছরে টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে মাত্র ৬টি খালে। যদিও তা এলাকাবাসীর মতে নামে মাত্র। উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই আবার দখল হয়ে যায় সেগুলো। আর এ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে তো রাজকীয় হালে। কাজকর্ম তো নেই;একটু দেখাশুনা করতেই যেন তাদের কত কষ্ট। ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা শুধু বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে তাদের জলাশয় উদ্ধার অভিযান।

তাই শুধু আফসোস করা ছাড়া নগরবাসীর আর কোন সাধ্য নেই। অথচ সরকার বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যায় করছে কত কত টাকা তার ইয়ত্তা নেই। স্থাপনার নাম পরিবর্তন, অতিরিক্ত বিমানবন্দর নির্মানসহ আরও কত খাতে। কিন্তু একটু জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে হয়ত বাচিয়ে রাখার সম্ভব হত মহানগরীর খালগুলোকে। এটা শুধু আমাদের হাহাকার; যা উপর মহলের কাছে কোনওদিন পৌছাবে কিনা সন্দেহ।