ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি হয়েছিল বিএনপি সরকারের আমলে। তার কাছে প্রমাণ আছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে সাবেক দুই যোগাযোগমন্ত্রীর নামে অভিযোগ করে তার কাছে চিঠি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর সেই দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলতে চাইছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি হয়েছে। এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা তারা ভাগাভাগি করে খেয়ে ফেলেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে নির্মাণ কারী প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করার সত্যতা পাওয়া গেছে। দেশীয় একটা এক প্রতিষ্ঠান এ কাজ করেছে এবং সেখানে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

অত্এব পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে এটা প্রমাণিত সত্য। যার কারণে বিশ্বব্যাংকের অর্থ স্থগিতের পর সেখানে টাকা দেবে না বলে জানিয়েছে এডিবি ও জাইকা। যারা এই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছিল। আর একটা সতি হল, এই দুর্নীতি করেছে রাজনীতিবিদরা। যাদের হাতে পদ্মা সেতু শুধু নয়, দেশের সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পদ্মা সেতু থেকে যে টাকা কমিশন হিসেবে আবুল হোসেন পেতেন, সেই টাকা সম্ভবত সরকারের আরও মহলকেও দিতে হত। এবং এই দুর্নীতি একসময় রাষ্ট্রীয় ভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হত। অথবা চুপ থাকা হত। বিএনপির আমলে হলেও এমনটা হতে পারত। কারণ তাদের চরিত্র আওয়ামী লীগের চাইতে কোন অংশে ভাল না। যার প্রমাণ তারা অনেকবারই দিয়েছে।

এখন আমাদের ভাবার সময় এসেছে রাজনীতিবিদদের কাছে দেশ, দেশের অর্থনীতি কতটা অনিরাপদ, কতটা ঝুকিপূর্ণ। পদ্মা সেতু শুধু নয়, যে কোন প্রকল্পের ঋণের টাকা কে শোধ করে??? রাজনীতিবিদরা নয় দেশের জনগণ। তাই আজ সময় এসেছে রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে ভাববার। সবাই ভাবুন একবার। কারণ দেশের কতজন রাজনীতিবিদ আমরা কতজন????