ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

একটা দেশের মুক্তির জন্য কারও কারও অবদান একটু বেশি থাকে। কিন্তু সেই মুক্তির স্বাদ পেতে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হয়। তাই আমাদের আজ দায়িত্ব এসেছে দেশকে এগিয়ে নিতে। কারণ আমাদের পূর্ববর্তীরা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার স্বাদ আমরা আজ্ও পাচ্ছিনা কারণ সঠিকভাবে স্বাধীনতার অর্থটাই উপলব্ধি করতে পারিনি আমরা। পৃথিবীতে যেসব দেশ এখনও স্বাধীনতা পায়নি তাদের অবস্থা যদি আমরা জানতে পারতাম তাহলে বোধ হয় একটু উপলব্ধি করা যেত। যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের সাধারণ বাঙালীরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তার কতটুকু পুরণ হয়েছে, তা এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে। স্বাধীনতা হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পণ্য, আর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ভোটব্যাংক।

যখন যে সরকারই ক্ষমতাই এসেছে, তারাই আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে রাজনীতি করেছে। একটা শোষণমুক্ত, উদার গণতান্ত্রিক দেশের স্বপ্নে যে সব লাখো শহীদ তাদের জীবন উৎসর্গ করলেন তাদের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সব সরকার। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে স্মৃতি সৌধে ফুল দেয়া, বক্তব্য বিবৃতি সেমিনার করা ছাড়া সরকার আর কিছু করে কি? যা করার আমাদেরই করতে হবে। মনে রাখা দরকার,রাজনীতিবিদরা দেশটাকে ইজারা নিয়ে নেয়নি। তাই দেশের সবকিছু তাদের হাতে ছেড়ে দেয়া যাবে না।

আমরা যতদুর জেনেছি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন সাধারণ কৃষক বা মেহনতি মানুষ। তাদের স্বপ্ন কী ছিল? সবার জন্য সমান ব্যবস্থা। আজ কোথায় সেই সমান আয়োজন? এখনও অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যাদের দিন আনতে পান্তা ফুরোয়। আবার অনেক স্বাধীনতাবিরোধী আছে যাদের জন্য আছে রাজ আয়োজন। আর এগুলো রাষ্ট্র তথা সরকার তথা রাজনীতিবিদরাই সুযোগ করে দিয়েছে। তাই অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য দেশকে শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের ওপর ভরসা করা যাবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের ভালোর জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।