ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

গত ১০ এপ্রিল প্রচণ্ড কালবৈশাখী আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকার অনেক অঞ্চলে। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় নোয়াখালীর হাতিয়া, পটুয়াখালীর বাউফল, এবং ভোলার মনপুরাসহ আরও কয়েকটি এলাকা। সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি, গাছপালা, গবাদিপশুসহ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা এখনও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে প্রায় চার হাজার পরিবার। ওই ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন এলাকার প্রায় আট জন মানুষ মারা গেছে। আর আহত হয়েছে এক হাজারেরও বেশি। হাস-মুরগী, গবাদি পশু যে কত মারা গেছে তার ইয়াত্তা নেই। আজ (১২ই এপ্রিল) বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ওইসব এলাকা নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রচারিত হয়(যদিও কম গুরুত্বসহকারে, কারণ এদের প্রথম সারির সংবাদ হয় রাজনীতি কেন্দ্রিক। কারণ অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমের মালিক রাজনীতিক অথবা রাজনীতির মদদপুষ্ট। সাধারণ প্রান্তিক মানুষের দুঃখগাঁথা এদের সংবাদের বিষযবস্তু হয় না প্রায়ই।) তাতে বলা হয়েছে, ভোলার মনপুরায় ঘুর্নিঝড়ের তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখনও সরকারি ত্রাণ পৌছায়নি। অথচ দেশে সরকার আছে, এসব বিষয় দেখার জন্য দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে,এমনকি ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও আছে। পাশাপাশি ওইসব এলাকায় জেলা প্রশাসনসহ আরও অনেক সরকারি অধিদপ্তর রয়েছে। কিন্তু থাকলে কি হবে। এসব মানুষকে নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের। তাদের দৃষ্টি অন্যখানে নিবদ্ধ। নিয়োগ বাণিজ্য করে কিভাবে নিজের আখের গোছানো যায়, তাই নিয়ে ব্যস্ত তারা। যার প্রমাণ গত ১০ এপ্রিলই পেয়েছি আমরা। সুরঞ্জিত বাবুর মত এমন একজন সিনিয়র লোকদেরও যদি বিশ্বাস না করা যায়, তাহলে প্রকাশ্যে হন্যে কুকুরের মত প্রধানমন্ত্রীর তোষামোদ করে তাদের নৈতিক অবক্ষয় কতদূর যেতে পারে তা বুঝতে গণক হওয়া লাগে না।

এইসব অসভ্যতা প্রতিহত করতে হবে। সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা দেশের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করবে। ঘূর্ণিঝড় আমাদের মাত্র পাঁচ হাজার পরিবারকে অসহায়ত্তের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, আর এইসব কুলাঙ্গাররা আমাদের পুরো জাতিটাকেই জিম্মি করে রেখেছে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের জীবনের প্রত্যেকটা বিষয় এরা নিয়ন্ত্রণ করছে। সব ক্ষেত্রেই তাদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। তাই আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব্বের জন্যই এদের বিকল্প ভাবতে হবে।