ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর প্রায় ৭০ টি টেস্ট খেলে ফেলল বাংলাদেশ। এতদিনেও আমরা ভালো কোন খেলোয়াড় তৈরী করতে পারলাম না যে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারে যে কোন পরিস্থিতিতে। আমাদের খেলোয়াড়েরা যখন ব্যাট করেন তখন দেখতে ভালো লাগে। বাহারি সব শটে তারা বল বাউন্ডারি পার করেন। কিন্তু এসব করে আউট হবার ধরন দেখলে কষ্ট লাগে। স্লিপে ফিল্ডার আছে জেনেও খোঁচা মেরে আউট হওয়া কিংবা শর্ট মিড উইকেটে ফিল্ডার দেখেও পুল করতে গিয়ে টাইমিং-এ গন্ডগোল করে ফেলা আমাদের রোগ। এ অনেকদিন ধরে দেখে আসছি। আর এ রোগ সারানোর যেন কোন পথ্য নেই, এমন ভাব সংশ্লিষ্টদের। কেন এমন হবে ? আমি ছোটখাট একটা উত্তর দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। তা হলো আশরাফুল-জুনায়েদ টাইপ খেলোয়াড়দের নিয়ে পড়ে থাকা। আমাদের প্রাক্তন হেড কোচ মনে করতেন এরা ছাড়া আর কোন খেলোয়াড় দলে থাকার যোগ্য নয়। তাই তাদের নিয়েই তিনি তার পুরো সময়টা পার করেছেন। মিডিয়াও ছিল তার সাথে। আশরাফুল যতোই খারাপ করুক সেই কার্ডিফের শতরান দিয়ে সে প্রত্যেকবার পার পেয়ে যেত। মানছি সে সময়ে ঐ জয় এতো না আশরাফুলরে শতক ছাড়া। কিন্তু এর পাশাপাশি হাবিবুল বাশারের ৪৭ কিংবা রফিক-আফতাবের শেষ সময়ের চার-ছয়ের গুরুত্বও কম ছিল না। না, মিডিয়া তা বলবে না। তাদের চোখে আশরাফুল ছাড়া আর কাউকে চোখে পড়ে না। এবার উইন্ডিজের সাথে যখন সে বাদ পড়লো তখন একটি বিশেষ পত্রিকার চোখে দলটা ছিল হাস্যকর। কারন দলে নেই তাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় আশরাফুল। এর সাথে অলক কাপালি আর আব্দুর রাজ্জাকও যে বাদ পড়লো তা তারা হাইলাইট করেনি। আশরাফুল তখন জাতীয় লীগ খেলতে গিয়ে ৫৮ রান করলো, সেটাই তারা চরমভাবে হাইলাইট করলো। আর নাফিস ইকবালের শতরান কিংবা অলক কাপালীর ৫০ ও ৩ উইকেট চোখে পড়েনি। আমাদের মিডিয়ার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রভাব হয়তো নির্বাচকদের উপর পড়ে থাকবে। তাই তারা ভাবেন আশরাফুলের বিকল্প নেই। তারা ভেবেও দেখেন না এই আশরাফুল কতটা অধারাবাহিক। এক আশরাফুলের জন্য দলে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পজিশান নষ্ট হচ্ছে। আমরা কাউকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিচ্ছি না। রকিবুল-জুনায়েদে সীমাবদ্ধ থেকে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিচ্ছি না। এজন্য দলে সৃষ্টি হচ্ছে অসুস্থ মানসিকতা, পারফর্ম না করেও দলে থাকা যাবে এমন মনোভাব। এক আশরাফুলের ভারের জন্য আমরা অলক কাপালী বা আফতাব আহমেদের মতো খেলোয়াড়কে দলে নিচ্ছিনা বা নিতে ভয় পাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে অলক কাপালীর পারফরম্যান্স আশরাফুলের চেয়ে ভালো হতো। সে আমার পছন্দের খেলোয়াড় বলে হয়তো তার প্রতি একটা দুর্বলতা কাজ করছে। কিন্তু তাই বলে ক্রমাগত খারাপ করলেও তাকে দলে নিতে হবে আমি এই তত্ত্বে বিশ্বাসি নই। এরকম আশরাফুল টাইপ খেলোয়াড়দের জন্য দল আজ পিছিয়ে আছে। বর্তমান নির্বাচক কমিটি বারবার নতুন মুখ উপহার দেয়ায় নির্দিষ্ট পত্রিকার হাস্যরসের পাত্র হলেও তাদের সিদ্ধান্তগুলো যে সবই বাজে তা নয়। দলে আমি এখনো সোহরাওয়ার্দী শুভ’র প্রয়োজনীয়তা দেখি না। শুভাগত হোমকে আরো কিছুদিন পরে সুযোগ দেয়া দরকার ছিল। তবে সানীর অন্তর্ভূক্তিতে অফ ফর্মে থাকা রাজ্জাক বাদ পড়ায় অনেকে সন্তুষ্ট তাদের উপর। তাদের উচিৎ হবে ওয়ানডে-টেস্ট ও টি-২০ এর জন্য কিছু খেলোয়াড় ঠিক করে রাখা। যেমন নাইম ইসলাম, রকিবুল হাসান, সোহরাওয়ার্দী শুভ এরা টি-২০ প্লেয়ার নয় যেমনটা আফতাব – অলক – তামিম বা সাকিব। টেস্ট দলে আবার নাইমকে নিয়মিত রাখা দরকার। এই কমিটির সেরা আবিষ্কার বলবো নাসির হোসেন ও ইলিয়াস সানীকে। তবে তারা আশরাফুলকে বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে ভালো করবে, এজন্য দরকার শক্ত মানসিকতা ; মিডিয়ার রঙ-মাখা খবর এড়িয়ে যাওয়া। আর সিনিয়র বললে তেমন সিনিয়রকে আনা দরকার যার আসলেই কিছু দেওয়ার আছে। আশরাফুলকে মনে হয় বাতিল মাল, সে এখনো ম্যাচিউর নয়। কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যাট করতে হবে তা শেখা হয়নি তার। তাই ৫৬ টেস্ট খেলার দোহাই দিয়ে, ২০০৮ সালের পর ২০১১ সালে করা টেস্ট ফিফটি দিয়ে সে দলে থাকতে পারে না। গত ১৮ ওয়ানডেতে তার গড় ১০ এর সামান্য বেশি। এরকম একজন ব্যাটসম্যান মূল খেলোয়াড় হলে সে দলের অবস্থা কি হতে পারে আন্দাজের জন্য গবেষণার দরকার হয় না। মিডিয়ার বেহায়ার মতো আশরাফুলগীত শুনে কান জ্বালা করে, আমাদের তথাকথিত সাবেকরাও তাকে নিয়ে অন্ধ। এই এক আশরাফুল আমাদের ক্রিকেটকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। একথা হলফ করে বলা যায়। লক্ষ্য করলে দেখবো সাম্প্রতিককালে বা নিকট অতীতে বাংলাদেশের সাফল্যে আশরাফুলের অবদান প্রায় নেই বললেই চলে। বরং তার শিশু মস্তিষ্কের ব্যাটিং-এ প্রায়ই বিপদে পড়তে হয়েছে। সাকিবও বলতে বাধ্য হয়েছিল আশরাফুলের জন্য আমরা হেরেছি। আশরাফুলকে বাদ দেয়ার “দু:সাহস” দেখানোয় হয়তো সাকিবকে চলে যেতে হয়েছে নেতৃত্ব হতে। মিডিয়াও তিলকে তাল করেছে শুধু আশরাফুলের জন্য। এখনো তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। সুযোগ পেলেই শুরু হবে আশরাফুল বন্দনা।

এখন নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। দলের নতুন নেতা, নতুন কোচ। দল গঠন প্রক্রিয়াও নতুন হওয়া উচিৎ। সময়ই বলে দেবে এতে আমরা সফল হবো কিনা। নতুন নির্বাচক কমিটির প্রতি অনুরোধ তারা সিনিয়রিটির নামে যেন আশরাফুলকে দলে না নেন। পাশাপাশি অন্যান্য সিনিয়র প্লেয়ার অলক কাপালী, আফতাব আহমেদ, নাফিস ইকবাল (টেস্ট দলের ওপেনার হতে পারে সে), রাজিন সালেহ প্রমুখের প্রতি যেন অবিচার না করা হয়। কম বয়সে তাদের দলে ঢুকিয়ে ২৬-২৭ বছরে সিনিয়র বানিয়ে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া মোটেও যে ঠিক নয়।