ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

* শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার : সূত্র সাপ্তাহিক দেশসময়
* চট্টগ্রামে কাজের মেয়ে হত্যার অভিযোগে পালাতক গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার
সূত্র : স্টেটনিউজবিডি ডটকম।
* ইফতারি তৈরিতে দেরির অপরাধে কাজের মেয়েকে নির্মম নির্যাতন
সূত্র : আজকালের খবর।
* বগুড়ায় গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার : সূত্র সংবাদ।
* নড়াইলে স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় নির্যাতন রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী
সূত্র : আমার দেশ অনলাইন।
* জয়পুরহাটে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্ত্রী আটক : সূত্র : বাংলানিউজ ।

… এমনি অসংখ্য সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন দেখছি। যেসব গৃহকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার সবাই শ্রমিক। তাদের অধিকার আছে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থেকে কাজ করে যাওয়া। ঠিক যেমন অধিকার ছিল তাজরিন গার্মেন্টসকর্মীদের?

আজ রোববারও এক রাব কর্মকর্তাকে পুলিশ আটক করেছে কাজের মেয়েকে নির্যাতনের দায়ে। কিন্তু আজও কেন তাজরিন গার্মেন্টেসের মালিককে পুলিশ আটক করছে না? কি রহস্য এর পেছনে? নিশ্চয় কোন কাল শক্তির ভয়ঙ্কর হাত রয়েছে।

হ্যাঁ, সবাই বলবে, তাজরিন গার্মেন্টসের মালিকের এতে কোন হাত ছিল না। এটি ছিল নিছক ই একটা দূর্ঘটনা। যদি তাই হয়ে থাকে। তাহলে তাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করুক। এরপর তিনি জামিনে ছাড়া পাবেন। কিন্তু এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণ, শ্রমজীবী মানুষ মালিকের অবহেলার কারণে মৃত্যুবরণ করল অথচ ঐ মালিককে পুলিশ আঁচড়ও কাটবে না। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাজরিন গার্মেন্টসের মালিককে গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া।

আমি দেশের নীতি নির্ধারক ও আইন প্রণেতা, পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই – তাকে গ্রেফতার না করার পেছনে মূল কারণ কি? তার অনেক টাকা আছে? শক্তিশালী বিজিএমইএ তার পক্ষে আছে? তিনি বিদেশ থেকে দেশের জন্য টাকা আনেন?

এই যে আমাদের দেশের একজন কাজের মেয়েকে নির্যাতনের জন্য যেসব মালিককে ধরা হয়, তাদের কি শুধু তাদের অর্থের দাপট নেই বলে? এ দেশে আইন বলে কিছু নেই? আমরা এ কোন দেশে বাস করছি!

তাহলে কি ধরে নেব এদেশে আইনের শাসন দুই ধরণের! যাদের টাকা আছে., তাদের জন্য এক আইন আবার যাদের টাকা নেই তাদের জন্য এক আইন।
আশা করি, আমরা এমন চিন্তা কোনভাবেই সত্যি নয়।

তাজরিন গার্মেন্টসের কারণে সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করলেন! বিজিএমইএ টাকা দিতে চাইলো। সব ঠিক আছে। মালিক বললেন, আমি না আমার মিড ম্যানেজমেন্টের ভুলের জন্য এত হতাহত। সব মেনে নিচ্ছি। তারপরও জানতে চাই, কেন তাজরিন গার্মেন্টস মালিককে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করছে না? কেন?

১২৪ জন মানুষ জীবন্ত কাবাব হয়ে গেলেন? তাদের জন্য কি তাজরিন গার্মেন্টস মালিক কোনভাবেই দায়ি নয়? তার প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল না বলে, জানানো হয়েছে। তিনি এমণভাবে সিঁড়ি বানিয়েছিলেন যে, সেখানে শ্রমিকরা পা দিয়ে সরে আসে , আগুনের তাপে সিঁড়ি- অনেক গরম হয়ে গেছে।

তাজরিন গার্মেন্টের্সের মালিকের অপরাধ কি সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য? আমাদের দেশের সরকার ও সুশীল সমাজ এবং মিডিয়া কি অবহেলার কারণে আরও মৃতু্যর মিছিল দেখতে চান? যদি না চান তাহলে দায়িত্বে অবহেলার কারণে অবিলম্বে গ্রেফতার করুণ তাজরিন গার্মেন্টস মালিককে। তার অবস্থা দেখে অন্য মালিকরা কিছুটা হলেও সাবধান হবে। অন্তত হতে বাধ্য হবে!

গত ২৫ নভেম্বর যখন সারাদেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব মহরমের ছুটি ছিল, ঠিক সেই সময় তাজরিনে আগুনে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের লাশ নিয়ে চলল আপনজনদের ছুটোছুটি।

কিন্তু তাদের আপনজনদের হাহাকার হাহাকার হয়েই রইল। ফি রে এল না তাদের অনেকেই। তাদের আপনজন এখনও কাঁদছে। তাদের আপনজন আর ফিরবে না। তাদের মৃতু্র পর আহতরা সঠিকচিকিৎসা পাচ্ছে না। মিডিয়ায় এত হৈহৈ রৈরৈ। কিন্তু তাদের সঠিক সেবা মিলছে না। মালিক এ ব্যাপারেও অবহেলার পরিচয় দিচ্ছে। অন্তত মিডিয়ায় তেমন তথ্যই আসছে। বিজিএমইএ অফিসে মিটিং করতেই ব্যস্ত। একেবারেই কম লেখাপড়া করা এ সব হতভাগ্য শ্রমিকদের আত্নীয় স্বজনদের কাছে যাচ্ছেনা সরকার বা মালিকপক্ষের কেউ। এ গরীব মানুষগুলোর বেশিরভাগই যে সংবাদপত্র বা অনলাইন বোঝে না সেটাও বোঝেনা দেশের নীতিনির্ধারকেরা। তাদের হাহাকার আরও বাড়ছে। কিন্তু কারও সে অর্থে উদ্যোগ নেই।

এ অবস্থায় অন্যান্য গার্মেন্টস মালিকদের সঠিক পন্থায় সঠিক পথে আনতে কোন ভাবেই তাজরিনের মালিককে ক্ষমা করা কি কোন বিবেকবান জাতির জন্য উচিত কাজ হবে?

০২.১২.২০১২