ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বলছি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘স্বপ্ন’ এর কথা। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় গেলাম আজিমপুরে অবস্থিত স্বপ্নতে। উদ্দেশ্য এক কেজি শসা বা ক্ষিরা কেনা। গিয়ে গেট পারসনের কাছে হাতের বড় ব্যাগটা দিয়ে ছোট পার্স টা হাতে নিয়ে স্বপ্নের ভিতরে গেলাম। এরপর কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা চলে গেলাম সবজির স্থানে। সেখানে গিয়ে প্রথমে দেখলাম শশা আছে কিনা। দেখলাম আছে। তার তার সামনে থাকা নেমপ্লেটে দাম দেখলাম। হাতে লিখে একটা কার্ডে রাখা আছে ৬৫ টাকা। আমি নিশ্চিত হলাম শশার দাম ৬৫ টাকা।
আমি শশার কাছে পৌঁছাতেই একটা ছেলে ( সেলস বয়) দৌড়ে এল। বলল, আপা কী নিবেন? আমি বললাম, এক কেজি শশা। এরপর সে চারটা কী পাঁচটা শশা নিয়ে মাপতে গেল। দেখা গেল ৯২০ গ্রাম। সে আরও একটা দিল। এরপর সে একটা প্যাক করে দামের টোকেন লাগিয়ে দিল। আমি বললাম, দাম কত পড়ল। সে বলল, ৬২ টাকা। ভাবলাম, হয়ত এক কেজিতে সামান্য কোন কম আছে তাই- ৩ টাকা কম!
তারপর কাউন্টারে গেলাম। আমি আগের ৬২ টাকা হিসাব করে একটা একশ টাকার নোট আর একটা দুই টাকার নোট পার্স থেকে বের করে হাতে নিলাম। এবার কাউন্টারের ছেলেটি টোকেন বের করে বলল, ৮০ টাকা দেন। আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম। সে বলল, এক কেজি শশা ৭০ টাকা। এখানে কয়েক গ্রাম বেশি আছে তাই।
এবার আমি তাকে কিছু না বলে, টাকা পরিশোধ করে স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এলাম। বাইরে রাখা ব্যাগ নিয়ে বাসায় গেলাম। বাসায় ফিরে শশার প্যাকেটের গায়ে যে মানি টোকেন লাগানো সেটা দেখলাম। দেখি সেখানে লেখা কেজি ৫৫ টাকা। আর আমার দাম এসেছে ৬২ টাকা।

আমি ঝামেলা এড়াতেই স্বপ্নতে গেলাম। আর তিন স্থানে তিন রকম দাম দেখে পাঠক আপনারাই বুঝতে পারছেন আমার মাথায় কী ঝামেলার জট পাকালো! আর তাই সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতেই আমার স্বপ্ন নিয়ে এই ব্লগিং। সত্যি, এসব কারণেই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর স্বপ্ন আমার ভাল লাগে না।

১৩.১০.২০১৪