ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম


নারীর সমঅধিকারের দাবীতে একটি মানববন্ধন ও একটি সিনেমার গল্প…

এটি ঢাকায় অনুষ্টিত নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতকরন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের একটি মানববন্ধনের দৃশ্য। ছবিটি একটু ভাল ভাবে খেয়াল করুন। ব্যানারের বাম পাশে দু’জন নারীকে দেখা যাচ্ছে, গলায় প্লেকার্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাদের পাশেই ব্যানারের এককোনা ধরে আছেন আরেকজন নারী। এই তিন জনের শাড়ি দেখেই বুঝা যায় খুব বেশী দামি নয়। তাদের পাশেই ব্যানারের ভিতরে দু’জন নারী তারা নিশ্চয় ওই সংগঠনের নেত্রী হবেন, তাদের পোষাক এ তিন জনের চেয়ে বেশী দামী। আবার রোদ থেকে বাঁচার জন্য চোখে একজনের চশমা। অর্থাৎ পোষাকে সবাইকে সমঅধিকার দেয়া হয়নি। সেই ব্যানারের মাঝামাঝিতে একজন নারী দাঁড়িয়ে। সম্ভবতঃ তিনি ওই সংগঠনের সভানেত্রী হবেন। সভানেত্রী হিসেবে তিনি ওই সংগঠনের একজন কর্মীকে দিয়ে নিজের মাথার উপর ছাতা ধরিয়ে রেখেছেন। বাকী নারীরা কাঠফাঁটা রোদের ভিতর গলায় প্লেকার্ড ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন সেই নেত্রী যদি আসলেই সমঅধিকারে বিশ্বাস করতেন তাহলে সকল নারী যারা তার ডাকে ওই মানববন্ধনে হাজির হয়েছেন তাদের সবার জন্য সমান ছাতা ও ছাতা ধরার লোকের ব্যবস্থা করতেন।

এটি একটি সুক্ষ ব্যাপার। কিন্তু খেয়াল করলে ধরা পড়বে। এর মাধ্যমে কি প্রমাণিত হয়? আসলে যারা সমঅধিকারের কথা বলেন তারা নিজেরা তা মানেন না। মানেন না এ কারণে, সমঅধিকার সম্ভব নয়। সম্ভব ও প্রয়োজন সুষম অধিকার। অর্থাৎ যার যতটুকু অধিকার প্রয়োজন তার সবটুকুই দেয়া।

এই ছবি দেখে হুমায়ুন আহমদের একটি সিনেমার কথা মনে পড়ে গেল। দুজন নাতনী গ্রামে গিয়ে গরীবদের প্রতি দাদার বৈষম্যের খুব প্রতিবাদ করেন।
একদিন দাদা নাতনীকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার সাথে যে গ্রামের একটি মেয়ে সবসময় থাকে, খেলে- সে রাত্রে কোথায় ঘুমায়?
নাতনী বলেন- কেন মাটিতে!
দাদা বলেন- তুমি কোথায় ঘুমাও?
নাতনীর উত্তর- খাটে!

তখন দাদা বললেন, যে মেয়েটি তোমার সাথে সারাদিন ঘুরাঘুরি করে, তোমার সাথে সাথেই থাকে, তাকে তুমি ঘুমানোর সময় নিজের সাথে একই খাটে ঘুমাতে দাওনা, এক সাথে একই টেবিলে খেতে দাওনা, এটা কি বৈষম্য নয়? তখন নাতনী চুপ মেরে গেল।

আমাদের মধ্যে যারা নারীর সমঅধিকারের কথা বলেন তারা কি সিনেমার সেই নাতনির মতো?