ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আগের পর্ব- যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-১ (কাদেরকে বলা হয় যুদ্ধাপরাধী?)

যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-২ (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন ও দালাল আইন, কোনটা কাদের জন্য ছিল?)

দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলো ১৬ জিসেম্বর ১৯৭১ সালে। স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এক্ষেত্রে অপরাধীদেরকে দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়ঃ-
১। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার (অর্থাৎ পাকিস্থানী সেনাবাহিনী ও Auxiliary Force-এর মাঝে যারা অপরাধী ছিল তারা) – এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩।
২। স্বাধীনতা বিরোধী বা কোলাবরেটরদের বিচার (অর্থাৎ এদেশীয় লোকজন যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা ও বিভিন্ন অপরাধ করেছিল তারা) – এ ধরনের অপরাধীদের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী তারিখে প্রণয়ন করা হয় ‘দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

এখন এ দুটো আইনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরলেন ১০ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে। ওইদিন বিকেলে রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে তিনি যুদ্ধবন্দী ও স্বাধীনতা বিরোধীতাকারীদের বিচারের ঘোষণা দেন।

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং শপথ গ্রহণের পরই তিনি বলেন, ‘লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের কাহিনী আমি শুনেছি। তবুও বাংলার মানুষ এত নিচে নামবে না। বরং যা মানবিক তাই করবে। তবে অপরাধীদের আইনানুগ ব্যবস্থা করবে।’

কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করার আগে কলাবরেটর বা দালালদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি এক প্রেসনোটে বলা হয়, ‘সরকার দালাল বা এ ধরনের অপরাধীদের দেখা পেলে তাদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অসামরিক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।’

এর আট দিনের মাথায় ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীনতা বিরোধী কলাবরেটর বা দালালদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি পেছনে পড়ে যাচ্ছে মনে করেই সম্ভবত ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ শহীদদের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঢাকার রাজপথে মিছিল বের হয়। মিছিলে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা হয়।

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশে দেয়া বেতার ও টিভি ভাষণে পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গটি আবার সামনে নিয়ে আসেন। পাক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানে আটকে পড়া পাঁচলাখ বাঙ্গালীকে ফেরত দেয়ার বিষয়টি পাক যুদ্ধবন্ধীদের মুক্তির সঙ্গে শর্তযুক্ত করায় শেখ মুজিবুর রহমান এ ভাষণে বলেন, ‘তাদেরকে (পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙ্গালী) ফিরিয়ে দেয়া হোক। এ ইস্যুকে কোনোক্রমে যুদ্ধবন্দীদের সমপর্যায়ে ভাবা চলবে না। কারণ তাদের (পাক যুদ্ধবন্ধীদের) মধ্যে এমন অনেক আছেন যারা শতাব্দীর নৃশংসতম হত্যার অপরাধে অপরাধী। তারা মানবিকতাকে লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার ভিত্তিতে বিচার হবে।’

১৯৭২ সালের ১৬ মে বঙ্গবন্ধু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে পাক হানাদার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্ডিন্যান্স প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে কলাবরেটের আইনের অধীনে কলাবরেটর-দালালদের বিচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে।’

১৯৭২ সালের ২ জুলাই কুষ্টিয়ার এক জনসভায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

১৯৭২ সালের ২৯ আগস্ট আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সম্পর্কিত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা প্রকাশ করা হবে।’

এরপর ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারের এক প্রেস রিলিজে বলা হয়, তদন্তের মাধ্যমে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর মধ্য থেকে ১৯৫ জনকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, জেনেভা কনভেনশনের আর্টিকেল তিন এর লংঘন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটের অপরাধে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

১৯৭৩ সালের ১ জুনের এক খবরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে বলা হয়, ‘টোকিও ও নুরেমবার্গ বিচারের সময় যে মূল নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে একটি বিল পেশ করা হবে।’

১৯৭৩ সালের ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘ইতিপূর্বে তালিকাভুক্ত পাক যুদ্ধাপরাধীদের সংখ্যা ১২০০ থেকে কমে ১৯৫ জন হয়েছে। এই ১৯৫ জন পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।’

কিন্তু পাক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশেষে হয়নি। কেন হয়নি তার ইতিহাস দেখুন-
১৯৭২ সালের ২ জুলাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি হয়, যা ‘সিমলা চুক্তি’ নামে পরিচিত। পাকিস্থান ও ভারতের মধ্যে বিবদমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে দু’দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্যই এ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু এ চুক্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্থানের সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের সিমলা চুক্তির আলোকে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ-ভারত এবং ভারত-পাকিস্তানের কয়েক দফা আলোচনার পর বাংলাদেশ বিষয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ২৮ আগস্ট ১৯৭৩ সালে দিল্লিতে এক চুক্তি হয়। এ চুক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিদেশীয় নাগরিক বিনিময় কার্যক্রম শুরু হয় ১৯ সেপেম্বর ১৯৭৩ থেকে। এতে করে প্রায় ৩ লাখ নাগরিক নিজ নিজ দেশে ফিরে আসে।

১৯৭৪ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল ভারতের নয়াদিল্লিতে ত্রিদেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন ডঃ কামাল হোসেন, ভারত থেকে সরদার সারওয়ান সিং এবং পাকিস্তান থেকে আজিজ আহমদ। বৈঠক শেষে ত্রিদেশীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ চুক্তি অনুসারে পাক যুদ্ধাপরাধীদের forget and forgive এর অংশ হিসেবে ক্ষমা ও ছেড়ে দেয়া হয় এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু ক্লোজ করে দেয়া হয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যে ক্লোজ করা হয় তা বঙ্গবন্ধুর কথার মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়-
১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতীতের সমস্ত গ্লানি ভুলিয়া গিয়া পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের জন্য আমরা কোনো উদ্যোগ বাদ দেইনি এবং সর্বশেষ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা ঘোষণা করিয়া আমরা চূড়ান্ত অবদান রাখিয়াছি। ঐ সকল যুদ্ধবন্দি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ মারাত্মক অপরাধ করিয়াছে। ইহা হইতেছে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও উপমহাদেশে ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থায়িত্ব গড়িয়া তোলার পথে আমাদের অবদান।’

অবশেষে ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে আবারও বলেন, ‘পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা আমরা করেছি, এমনকি মানবতা বিরোধী জঘন্য অপরাধের জন্য যাদের বিচার হওয়ার কথা ছিল সেসব যুদ্ধাপরাধীরও আমরা মার্জনা করে দিয়েছি। বাংলার মানুষের বদান্যতা ও ঔদার্য ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

যুদ্ধাপরাধের বিচার সংক্রান্ত এ ঘটনার গুলোর ভিতরও কিন্তু দালাল আইনে এদেশীয় যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তাহের বিচার কার্যক্রম চলছিল।

এদেশীয় জনগণ যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তাদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী দালাল আইন প্রণয়নের পর ৬ ফেব্রুয়ারী, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট তারিখে তিন দফা সংশোধনীর পর আইনটি চূড়ান্ত হয়।

এ আইনের অধীনে প্রায় একলাখ লোককে আটক করা হয়। এদের মধ্যে থেকে অভিযোগ আনা সম্ভব হয় ৩৭৪৭১ জনের বিরুদ্ধে। বাকীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযুক্ত ৩৭৪৭১ জনের মধ্যে থেকে দালালী বা অপরাধের কোন প্রকার প্রমাণ না পাওয়ায় ৩৪৬২৩ জনের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করাই সম্ভব হয়নি।

সারাদেশে ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ২২ মাসে বাকী ২৮৪৮জনের বিচার হয়। তাদের মধ্যে বিচারে মাত্র ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয়। বাকী ২০৯৬ জন বেকসুর খালাস পায়।

যে ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও গুরুদন্ড দেয়ার মত ছিল না। শুধুমাত্র চিকন আলী নামের একজনের ফাঁসির আদেশ হয়।

এ অবস্থা দেখে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু দালাল আইনে যাদের বিচার হয় তাদের ব্যাপারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। সাধারণ ক্ষমার অধীনে ১৯৭৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ছাড়া পেয়ে যায় ৩০ হাজার বন্দী। তবে একমাত্র মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত চিকন আলী ছাড়া পাননি। সেই চিকন আলীও দন্ড বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই মারা যান। (তথ্য সুত্রঃ একাত্তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায়? প্রকাশক মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র)।

স্বাধীনতা-উত্তর বঙ্গবন্ধু সরকারের উপরোক্ত বক্তব্য, বিবৃতি, ঘোষণা ও কাজের মাধ্যমে এ কথা পরিষ্কার হয় যে, ১৯৭৩ সালের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট প্রণীত হয়েছিল শুধুই পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর মধ্যে থেকে তদন্তের মাধ্যেমে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য। বঙ্গবন্ধু ও উনার সরকার কেউই কোন সিভিলিয়ানকে যুদ্ধাপরাধী বুঝাতেন না এবং এদেশের সাধারণ জনগণ কাউকে হিসেবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিতও করেননি

আর স্বাধীনতার বিরোধীতা সহ সাধারণ অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত বাংলাদেশীদের বিচারের জন্যে করা হয়েছিল দালাল আইন। এদেশের যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী বা কোলাবোরেটর হিসেবে অভিহিত করা হতো। কখনো্‌ই তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী বলা হয়নি

বঙ্গবন্ধু সরকার উপমহাদেশের স্থায়ী শান্তির লক্ষ্য যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্থানী সেনা সদস্যেদের ফেরত পাঠিয়ে দেন, অন্যদিকে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থে এদেশের নাগরিক যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তাদের ক্ষমা করে দেন। এর মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল তা শেষ করাও একটি উদ্দেশ্য ছিল। পরের পর্বে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আসবে।

পরবর্তী পর্ব- যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৩ (বঙ্গবন্ধু জেনেশুনে যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিহার করেছিলেন)