ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দালাল আইনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রেক্ষাপঠ ও ইতিহাস
আগের কয়েকটি পর্বে দেখিয়েছিলাম, বঙ্গবন্ধু উপমহাদেশের স্থায়ী শান্তির লক্ষ্য ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তির আওতায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ১৯৫ জন পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর সদস্যেকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে যুদ্ধাপরাধ ইস্যু close করে দিয়েছিলেন। এরপর এদেশীয় যারা অপরাধী ছিল তাদের প্রতিও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

সেই ক্ষমা ঘোষণার ইতিহাস কি তা আমরা জানার চেষ্টা করব।
কেউ কেউ মনে করেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কারী ও যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সৈন্যদেরই যখন অবস্থার কারণে বা প্রয়োজনে নিঃশর্তে ছেড়ে দিতে হলো, তখন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যারা পাকিস্তানি সৈন্যের সহায়তা করেছেন বা তাদের সহযোগী হয়েছেন, তাদের শাস্তি দেয়ার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি বলেই বাংলাদেশের তদানিন্তন বঙ্গবন্ধু সরকার কলাবোরেটরদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন। ঘটনা কিন্তু এটা নয়। কলাবোরেটরদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা এ ধরনের কোন চিন্তা থেকে হয়নি। সাধারণ দাবি ও সাধারণ জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা আসে। ১৯৭২ সালের মার্চ থেকেই আবুল মনসুর আহমদ, আবুল ফজলের মত দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে কলাবোরেটরদের সাধারণ ক্ষমার আবেদন ও দাবি উত্থিত হতে থাকে। এককালীন আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী একজন সর্বজনমান্য নেতা জনাব আতাউর রহমান খান এই সময় এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতি পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাযিত্ব সমাধা না করে সরকার সারা দেশে দালাল ও কল্পিত শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় রত আছেন। মনে হচ্ছে, এটাই যেন সরকারের সব চাইতে প্রধান কর্তব্য।… এই আইন জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলেছে এবং এই আইনের মাধ্যমে বিচার একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে।…. বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার ও সকল বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সুপারিশ করছি।”

আবুল মনসুর আহমদ বলেছেন, “সব কৃষিপ্রধান দেশের মতই বাংলাদেশের সমাজ জীবন পল্লী ভিত্তিক। দেশের শতকরা নব্বই জন আজো পল্লীবাসী। এদের প্রকৃতির দেওয়া ঐতিহ্যিক নেতৃত্ব গ্রাম্য মাতব্বর ও আলেম সমাজের হাতে।…. এঁদের অধিকাংশেই রক্ষণশীল বলিয়া রাজনৈতিক ও প্রগতির পথে বাঁধা স্বরূপ। কিন্তু পল্লী সমাজে আইনশৃংখলায় এঁদের শক্তি অসাধারণ ও অবদান অসামান্য। রাজনীতিতে এঁরা সব সময়েই প্রতিষ্ঠিত সরকারের সমর্থক। ইংরেজ আমলে এঁরা কংগ্রেস-প্রজা পার্টির বিরুদ্ধে আঞ্জুমানী রাজনীতি করিয়াছেন। পাকিস্থানী আমলে এঁরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ রাজনীতি করিয়াছেন। এটা করিয়াছেন তারা রাজনৈতিক মতবাদের জন্য ততটা নয়, যতটা আইন-শৃংখলার খাতিরে সরকারকে সমর্থনের জন্য।… সমাজজীবনের আর সবক্ষেত্রে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে’ ছাত্র-তরুণসহ নির্বাচিত নেতারাও এঁদেরই মানিয়া চলিতেন। ফলে আইন-শৃংখলা রক্ষার ক্ষেত্রে এঁরা ছিলেন বিপুল প্রভাবশালী। দালাল আইনের বিষক্রিয়াই পল্লীসমাজের এই স্বাভাবিক নেতৃত্ব বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হইয়াছে। …এদের অধিকাংশ হয় জেলে আছেন নয়ত যাঁরতাঁর এলাকা ছাড়িয়া আত্মগোপন করিয়া আছেন। বলাবাহুল্য রাজনৈতিক মতবাদই এঁদের একমাত্র অপরাধ।…. এঁদেরে যাঁরতাঁর এলাকায় সসম্মানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করিয়া নেতৃত্বের এই শূন্যতা পূরণ করিয়ে আইন-শৃংখলা রক্ষার কাজে এক বিরাট পদক্ষেপ নেওয়া হইবে বলিয়া আমার বিশ্বাস”।

এই ধরনের বিভিন্ন বিবৃতি ও দাবির কারণে এবং দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে ১৯৭৩ সালের ৩০ নবেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার হত্যা, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এ চারটি অপরাধ ব্যতীত বাকিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের এ ঘোষণা সর্বমহল থেকে অভিনন্দিত হয়। সরকারের প্রবল বিরোধী এবং বাম আন্দোলনের গুরু বলে পরিচিত ভাসানী ন্যাপের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি তার এবং দলের সম্পাদক মণ্ডলী তখনই এক বিবৃতিতে বলেন, “ন্যাপ বহু আগে থেকেই নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি দাবি করে আসছে।” বিবৃতিতে বাংলাদেশ দালাল সংক্রান্ত আইনের ৮নং ও ৫০ নং ধারা বাতিল করার দাবি জানান। তিনি ১৫ ডিসেম্বর আরেক বিবৃতিতে বলেন, “ক্ষমা চাই, সমানাধিকার চাই। রাষ্ট্রপতি আদেশের ৫০ ও ৮ ধারা বাতিল চাই।” বাংলাদেশ জাতীয় লীগের সভাপতি জনাব আতাউর রহমান খান তার বিবৃতিতে বলেন, “আরো আগেই দেশের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। এর ফলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে এবং মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেবেন।” দেশের প্রবীণ রাজনীতিক ও চিন্তাবিদ জনাব আবুল হাশিম প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে অভিনন্দিত করে বলেন, “জনগণের ভাগ্যকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্যে সরকার সঠিক পন্থাই বেছে নিয়েছেন। গণতন্ত্রের এ উদ্যম বজায় থাকলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রয়েছে।” সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মনসুর আহমদ বলেন, “আমার ছোট্ট বিবেচনায় সরকার যখন একবার অনুকম্পার দরজা খুলিয়াছেন, ষোলো হাজারের মতো বন্দীকে ক্ষমা করিয়া দিয়েছেন, তখন বাকি সবার প্রতিও তেমনি উদারতা প্রদর্শন করুন। অন্যথায় দুই বছর পরে আজ যেমন চারশ লোককে প্রমাণের অভাবে মুক্তি দিতে হইল, বার বছর পর (৩৭ হাজার দালালদের বিচারে ১২ বছর লাগবে) মানে গ্রেফতারের সময় হইতে চৌদ্দ বছর পর আরো অনেক লোককে তেমনি মুক্তি দিতে হইতে পারে।” তদানীন্তন মুক্তিযোদ্ধা সংসদও বঙ্গবন্ধু সরকারের এই ঘোষণার সিদ্ধান্তকে অভিনন্দিত করে বিবৃতি দেয়।

এই ঘোষণার মত ১৯৭৬ সালে কোলাবরেট আইনের বাতিলও ছিল অবস্থার একটা স্বাভাবিক পরিণতি। ১৯৭২ সালে দালাল আইন জারীর পর ১৯৭৩ সালের ৩০ নবেম্বর সাধারন ক্ষমা ঘোষণা পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছিল ১ লাখ লোককে এবং ৩৭৪৭১ জন দালালকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের বিচারের জন্যে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এই ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে ২২ মাসে ২৮৪৮টি মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। এদের মধ্যে দণ্ডিত হয় মাত্র ৭৫২ জন, তাও প্রায় সবই ছোটখাট অপরাধের জন্যে। অবশিষ্ট ২০৯৬ জন খালাশ পেয়ে যান। এই পটভূমিতেই ১৯৭৩ সালের ৩০শে নবেম্বর সাধারণ ক্ষমা ঘোষিত হয়। সাধারণ ক্ষমার অধীনে ১৯৭৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ছাড়া পেয়ে যায় ৩০ হাজার বন্দী। কিন্তু হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ-এই চার অপরাধের অভিযোগে বিচার, গ্রেফতার ও শাস্তি বিধানের আইনী বিধান বহাল রাখা হয়। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে দালাল আইন বাতিল হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর এক মাস সময়ে উক্ত চার অপরাধের অভিযোগে একটিও মামলা দায়ের হয়নি। এই অবস্থার পটভূমিতেই ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে দালাল আইন বাতিল হয়ে যায়।

এখানে একটা বড় প্রশ্ন হলো, ১৯৭৩ এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে কোন মামলা দায়ের হলো না কেন? এই প্রশ্নের সুন্দর জবাব দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ তারেক মুহাম্মদ তওফীকুর রহমান তার “বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলেম সমাজ; ভূমিকা ও প্রভাব (১৯৭২-২০০১)” শীর্ষক গ্রন্থে। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পর অবস্থার উত্তাপ ঠাণ্ডা হয়ে আসার সাথে সাথে “দালাল আইনে ধৃত এবং বিচারের সম্মুখীন ব্যক্তিদের বিচার সংক্রান্ত বিষয়টি সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও জটিলতার সৃষ্টি করে চলছিল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে”- এই সামাজিক চিত্রটি এক কথায় সামনে আনার পর তিনি লিখেছেন, “আপাতঃ পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও শত্রুতার নেপথ্যে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ হলো ‘কমপ্যাক্ট সোসাইটি’ আবহমানকাল শাশ্বত গ্রাম্য সালিশ বিচার ব্যবস্থার প্রচলনে গ্রামীণ সমাজে যে ভারসাম্য বর্তমান ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সময় তা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তা নতুন আঙ্গিকে ও নেতৃত্বে স্থিতিশীল হয়ে আসতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের উত্তেজনা কেটে যেতে থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধাগণও সমাজের রূপও বাস্তবতার মুখোমুখি হতে থাকেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীতে উত্তেজনা প্রশমনে রক্তের বন্ধন, আত্মীয় সূত্রতা এবং সমাজ গোষ্ঠীর বন্ধনে অপরাধকৃত দালালদের আশ্রয় দেবার ব্যাপক প্রবণতা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে দেখা গেছে। ‘ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ’ এই মহানুভবতার চিরন্তনী আবহে লালিত বাংলার মানস-গঠন শাস্তি বিধানের পরিবর্তে সামাজিক সালিশ ও সমঝোতার পথেই অগ্রসর হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে একই পরিবারে পিতা শান্তি কমিটির সদস্য হয়েছে, অপরদিকে পুত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। পিতা ও পুত্রের এই বিপরীত অবস্থান দীর্ঘদিন আক্রোশী মনোভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধাপুত্র দালাল পিতাকে বাঁচানোর জন্য তদ্বির শুরু করতে কুণ্ঠিত হয়নি। অনেক দালাল এমনও ছিলো যে, তারা গোপনে মুক্তিবাহিনীকে আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে এবং প্রয়োজনমতো নিরাপত্তাও দিয়েছে। দালালির অভিযোগে অভিযুক্ত ঐ ব্যক্তিটি পরবর্তীকালে ঐ সব মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রার্থনা করেছে এবং আশ্রয় পেয়েছে। এখানে প্রকৃত অবস্থায় বা ভিন্নভাবে যাই হোক না কেন, মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রায় দু’হাতে ধৃত ও অভিযুক্ত দালালদের ছেড়ে দেবার সুপারিশ করতে থাকে। যা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দপ্তরকে পর্যন্ত আক্রান্ত করে তোলে।”

সামাজিক, রাজনৈতিকসহ নানা ধরনের সম্পর্ক ও আত্মীয়তার বাঁধন স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষদের সমন্বয় ও সমঝোতার দিকে নিয়ে যায়। সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোতে এ কথাই লিখেছেন এইভাবে, “কোনো যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দালালদের বিচার না হওয়ার মূল কারণ, অনেক মন্ত্রী, সাংসদ নেতা ও বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়্বজন, বন্ধু-বান্ধব মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীদের সহযোগী ছিল। তাদের বাঁচাতে গিয়ে সকলকেই বাঁচিয়ে দেয়া হয়। (প্রথম আলো, ১৩ নবেম্বর, ২০০৭)”। শুধু বাঁচিয়ে দেয়া নয়, দীর্ঘ দুইবছর ১ মাস সময় পর্যন্ত দালাল আইন বহাল তবিয়তে থাকলেও খুন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ- এই চার অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের না হবার এটাও একটা কারণ। আরেকটা কারণ হলো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান ছিল কিংবা পাকিস্তান বাহিনীর সহায়ক হিসাবে ‘রাজাকার’-এর মত যে সব বাহিনী কাজ করছে, যুদ্ধাপরাধী বা অপরাধী শুধুমাত্র তাদের মধ্যেই ছিল না, অন্যান্য দল ও গ্রুপের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধী বা অপরাধী ছিল। এ বিষয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদ লিখেছেন, “এখনকার পত্রিকা পড়লে মনে হয়, শুধু মুসলিম লীগ, জামায়াত বা নেজামে ইসলামীর লোকেরাই পাকিস্তানীদের দালাল ছিল। বস্তুত সবশ্রেণী ও গোষ্ঠীর মধ্যেই পাকিস্তানীদের সহযোগী ছিল। আব্দুল হক তার কম্যুনিস্ট পার্টির নামের সাথে বাংলাদেশ হওয়ার পরও ‘পূর্ব পাকিস্তান’ই রেখে দেন। অত্যন্ত ‘প্রগতিশীল’ বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ পাকিস্তানীদের সহযোগিতা করেছেন। (প্রথম আলো, ১৩ নবেম্বর ২০০৭)”। দালাল আইনে বিচার করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আরেকটি কঠিন বাস্তবতার সম্মূখীন হয়েছিলেন। তিনি দেখলেন, দালাল আইনে গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই আওয়ামী লীগের এবং তাদের আত্মীয় স্বজন। এ ব্যাপারটি নিয়ে তিনি তৎকালীন পুলিশ প্রধন জনাব আবদুল খালেকের সাথেও আলোচনা করেছিলেন। পরে সবকিছু বিবেচনা করে সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেন।

এটাই ঘটনা, এটাই ইতিহাস। এখন অনেকে সে ইতিহাস ভূলে যেতে চান। কিন্তু কারও ভুলে যাওয়া ইতিহাস পাল্টায় না। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এসব সিদ্ধান্ত সবাইকে জানতে হবে, জানাতে হবে। এভাবে তিনি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে যুদ্ধাপরাধ চ্যাপ্টার ক্লোজ করেছেন এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে নিছক ‘কোলাবরেট’ হওয়াকে শাস্তিযোগ্য করার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।

পরবর্তী পর্ব- যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৫ (বিভিন্ন দলে থাকা কথিত যুদ্ধাপরাধীরা-আওয়ামী লীগ)
আগের পর্ব গুলো-
১।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-১ (কাদেরকে বলা হয় যুদ্ধাপরাধী?)
২।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-২ (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন ও দালাল আইন, কোনটা কাদের জন্য ছিল?)
৩।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৩ (বঙ্গবন্ধু জেনেশুনে যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিহার করেছিলেন)