ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সাবিহার ফোন। কিরে বের হসনি?
না, মাত্র গোসল সারলাম।
কি বলিস! আমরা বের হয়ে গেলাম। তারাতারি চলে আয়। তুই, জেরিন আর ফাতিমা এখনও বের হসনি। লঞ্চ কিন্তু আট টায় ছাড়বে। আর এখন সকাল ৭.২০মিনিট। কখন বের হবি? পৌঁছতেই লাগবে অন্তত আরো আধা ঘন্টা। তাই তারাতারি কর।

আগের রাতেই পৌঁছে গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম। উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের বান্ধবীদের সাথে সপ্তাহ খানেক থাকা ও বেড়ানো। প্রথমে যাওয়ার পরিকল্পনা কাপ্তাই। চট্টগ্রাম শহর থেকে লঞ্চে কাপ্তাই যাওয়া যায়।

হাতে সময় নেই, তারাতারি রেডি হয়ে বের হয়ে গেলাম। আমিই সবচেয়ে দেরীতে ৮ টা বাজার ৫ মিনিট আগে পৌঁছেছি। তবে লঞ্চ আরো কিছুক্ষণ পর ছেড়েছে। লঞ্চে এই প্রথমাবারই উঠলাম। খুব ভাল লাগছে। বান্ধবীরা লঞ্চে খাওয়ার জন্য বিভিন্ন কিছু নিয়েছে। আমি নিয়েছি কিছু বাদাম। কোথাও গেলে অন্য কিছু না খেলেও বাদাম আর কলা খাই। কারন এ দুটো প্রাকৃতিক ভাবে প্যাকেট করে থাকার কারণে ভেজাল হওয়ার সুযোগ কম। অবশ্য এখন কলাতেও নাকি কেমিক্যাল ব্যবহার শুরু হয়েছে।

লঞ্চে উঠে দেখলাম তিনজন বিদেশী। চেহারা দেখে জাপানি অথবা চাইনিজ হবে। মেয়েটি আমাদের বয়সী বাকী দুজন তার মা-বাবা মনে হলো। ইচ্ছে জাগল পরিচিত হবো। হ্যাঁ, মেয়েটি জাপানী, নাম Fusa. তার বাবা এদেশের একটি কোম্পানীতে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করে। সে ও তার মা এসেছে বেড়াতে, কয়েকমাস থাকবে। সে জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ইংলিশ বলতে পারে মোটামুটি। খুব মিশুক ও হাশিখুশি। কথা বলার ফাঁকে তাকে ও তার মাকে বাদাম দিলাম। দুজনই নিল। বাদাম খেতে খেতে কথা বলা। আমি মাঝে মাঝে জাপানি ভাষা জিজ্ঞেস করি, তার সাথে উচ্চারণ করি। তাকে বাংলায় বলি, সে আমার সাথে উচ্চারণ করে। ভালই লাগছিল।

একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম। সে বাদাম খাচ্ছে কিন্তু বাদামের খোলস তার প্যান্টের পকেটে রেখে দিচ্ছে। আমি তো অবাক! জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যাপার? এসব তুমি পকেটে রাখছ কেন? সে বলল, তো কি করব? এখানে কোন ডাষ্টবিন নেই যে ফেলব। আমি বললাম, কেন নদীতে ফেলে দাও। সে বলল, কি বলো?! নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাবে না? আমি থতমত খেয়ে গেলাম। বলে কি! আমরা কত সহজে নদীতে, পানিতে, রাস্তায় যত্রতত্র কতকিছু ফেলি! আর এই তরুণীটি বাদামের খোলস পানিতে ফেলছে না, নদীর পানি নষ্ট হবে বলে!

পরিবেশ নিয়ে তারা কত সচেতন! চিন্তা করলাম, আসলে তারা কেন উন্নত আমাদের চেয়ে।

উপরের ছবি গুলো আমাদের বুড়িগঙ্গা নদীর…