ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আওয়ামী লীগের ভিতর থাকা কথিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রথম তালিকাঃ
জাতির মৌলিক সকল আন্দোলনে এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্থানের উপর গৃহীত প্রস্তাবে জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্থান স্বাধীনের সময় ছিল। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ছিল। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে সকলে ঐক্যবদ্ধ ছিল, ১৯৫৮-৬৮ সাল পর্যন্ত আইয়ুবের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ছিল, ১৯৬৯ গণআন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ছিল, ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২৫ মার্চ সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভারতে চলে গেলেন। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলেন। এরপর স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয় নিয়ে জাতির মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় বিভেদ দেখা গেল। ঐতিহ্যগত ভাবে এক জাতি হওয়া সত্বেও স্বাধীনতার ইস্যুতে বিভক্ত মতের উত্থান ঘটল। আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতার পথে গেল, আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ সহ ইসলামপন্থী সকল দল ভারতের আধিপত্যবাদের ভয়ে ভিন্ন অবস্থান নিলো, বামপন্থী দলগুলোও ভিন্ন পথ অবলম্বন করলো। একটি দেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে জনমতের এ ধরনের বিভক্তি অভূতপূর্ব। ১৯৪৭ সালে সমাপ্ত ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এধরনের বিভক্তি ছিলনা, ব্রিটিশদের সমর্থন করা তো দূরে থাক শক্তিশালী কংগ্রেসের প্রচারণা সত্বেও এ অঞ্চল থেকে কোন জনশক্তি তার পক্ষে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে শুধু রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে নয়, বুদ্ধিজীবী মহলও ব্যাপক ভাবে বিভক্ত ছিল। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুতে বুদ্ধিজীবীরাও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। স্বাধীনতার পরও আমাদের মধ্যে এরকম বিভক্তি কাজ করেনি। এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, সুষ্টু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন, মইন উ’র বিরুদ্ধে অবস্থান সহ অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল। তাই ১৯৭১ সালের ওই বিভক্তি নিয়ে নির্মোহ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবেই বের হয়ে আসবে প্রকৃত ইতিহাস।

এখন আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভারতের সহযোগীতায় স্বাধীনতার পথে গেলেও অন্য একটি অংশ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেননি। সে সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আওয়ামী লীগের ভিতর থাকা কথিত যুদ্ধাপরাধীর প্রথম তালিকা দেখুন (পরে আরো অনেক অনেক নাম আসবে)-

১৯৭০ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর তৈরি মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০ ইং তারিখে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (নেত্রকোনা-৫) একটি তারকা চিহ্নিত (১১৫ নং) প্রশ্ন সংসদে করেছিলেন। প্রশ্নটি হলো, “এটা সত্য কিনা যে, ১৯৭০ সালে তৎকালীন জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ৭১ এ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য কতিপয় সদস্যদের সদস্য পদ স্বাধীন বাংলাদেশে গণপরিষদ গঠনকালে বাতিল করা হয়েছিল। উত্তর হাঁ হলে বাতিলকৃত সদস্যদের নাম ও নির্বাচনী এলাকার নাম কি?”
জবাবে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, “হ্যাঁ, ময়নমনসিংহ থেকে নুরুল আমিন ও পাবর্ত চট্টগ্রাম হতে মেজর রাজা ত্রিবিদ রায় তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ ১৯৭২-এর ৪ অনুচ্ছেদ কার্যকরি হওয়ার ফলে তারা বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য নন। তারা ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর তারিখে একটি বিদেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাই তারা কখনই বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না। এছাড়া গণপরিষদ সদস্যদের মধ্য হতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হতে মোট ৪৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হচ্ছে- মোঃ হাবিবুর রহমান, সৈয়দ হোসেন মনসুর, মোঃ আব্দুল গফ্ফার, আবুল কালাম ফয়জুল হক, এবিএম নুরুল ইসলাম, আজমাদ হোসেন খান, মোঃ নুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, মোঃ ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, একেএম মাহাবুবুল ইসলাম, মোঃ সাঈদ, মোশাররফ হোসেন, আক্তারুজ্জামান, সৈয়দ বদরুজ্জামান, ডাঃ আবুল হাশেম, অধ্যাপক শামসুল হক, মোঃ আবদুল বারেক, ডাঃ আজহার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম আহাদ চৌধুরী, এ হাদী তালুকদার, আদিল উদ্দিন আহমেদ এডভোকেট, মুজিবুর রহমান তালুকদার, শামসুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আব্দুল মালেক, ডাঃ আবু সোলায়মান মন্ডল, ডাঃ জাহিদুর রহমান, তাহেরুল ইসলাম খান, রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ, মোঃ আব্দুস সালাম, কেবিএম আবু হেনা, জহুরুল হক, মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান, কাজী হেদায়েত হোসেন, আব্দুল হাকিম মাস্টার, মোঃ সাজেদ আলী মিয়া, মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, ডাঃ কাজী সিরাজউদ্দিন আহমেদ, গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ হাশেম, এম. সাখাওয়াতুল্লাহ এডভোকেট, মীর্জা আবু মনসুর এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী।”
অর্থাৎ উপরোক্ত নেতারা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধী ছিলেন। কিন্তু তাদের বিচারের কথা কি কেউ বলছে? বরং প্রশ্ন করা হয়েছে তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে কিনা! উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেছেন, “এসব সদস্যের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কিংবা আদেশ বহাল রাখা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রালয়ের কিছু করণীয় নেই।” অর্থাৎ কোন বিচার তো নয়, তাদের বহিস্কারাদেশ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যাহার করে সম্মানিত করা যায় কিনা তার চিন্তা চলছে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যাহার করা না হলেও তারা সবাই আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছিলেন।

এরপর চট্টগ্রামের প্রাদেশিক আসন ২৪ থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মুজিবুর রহমান তালুকদার, যশোর থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী, খুলনার ‘এমপিএ’ হাবিবুর রহমান খান, বগুড়া থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচিত ‘এমএনএ’ জহির উদ্দিন, লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)। উল্লিখিত ২০ নেতার প্রত্যেকে জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসব নেতার স্বাধীনতাবিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। এসব আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষই নেননি, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।

আওয়ামী লীগের আত্মীয়স্বজনের মাঝেও যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা কম নয়। যেমন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের বেয়াই মুসা-বিন শমসের, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজমের বাবা মীর্জা কাশেম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের শ্বশুর বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও উনার পিতা ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা খন্দকার নুরুল হোসেন নুরু মিয়া। আরো অনেকের নাম পরে আসবে।

এরপর ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম একাত্তর সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তিনি দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আরেক মন্ত্রী এ কে ফায়জুল হক দালাল আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের ভিতর থাকা আরো পরিচিত ও চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীরা হলেন, ১৯৭১ সালে তৎকালীন ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন, মামুদ-উস সামাদ, টাঙ্গাইলের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপিএ খোদাবক্স মুক্তার, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্য মো. ফিরোজুর রহমান, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুস শুকুর মিয়া, ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল মিয়া মোক্তার, অ্যাডভোকেট কাজী খলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন মিয়া, চট্টগ্রাম সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল বাশার, নেত্রকোণার আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম খান, নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি চাঁদবক্স পাটওয়ারী মোক্তার, নেত্রকোণার বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সদস্য সোহরাব হোসেন, নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামী লীগ সদস্য এমদাদুল হক, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী মোক্তার, চাঁদপুর রেডক্রস সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য খুরশিদ আলম চৌধুরী, মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্য বজলুর রহমান শেখ, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজ শেখ পাটওয়ারী, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম, রাজশাহীর সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, যশোর আওয়ামী লীগ নেতা মীর তৈয়ব, মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বিক্রমপুরী প্রমূখ আওয়ামী লীগ নেতা পাকিস্থানের পক্ষে এবং স্বাধীনতা বিরোধী কাজ করেন।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালে জামায়াত ছিল একটি ক্ষুদ্র দল। জামায়াতের তুলনায় মুসলিম লীগ ছিল শতগুণে বড় দল। আর আওয়ামী লীগ ছিলো হাজার গুণ বড়। যেহেতু জামায়াত ছোট দল ছিল সেহেতু ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকাও খুবই নগণ্য ছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার ইত্যাদি সংগঠন ও বাহিনীর তালিকা দেখলে বোঝা যাবে জামায়াতের উপস্থিতি সেখানে নেই বললেই চলে। সারাদেশে ১৯৭১ সালে গঠিত শান্তিবাহিনীতে জামায়াতকে কোন চেয়ারম্যানের পদ দিতে চায়নি অতি ক্ষুদ্র দল ছিল বলে এবং নেতা-কর্মী ছিলনা বলে। বরং শান্তি কমিটি, রাজাকার সহ অন্যান্য বাহিনীতে আওয়ামী লীগ ও মুসলিম লীগের লোক জনই ৯৫% এর চেয়েও বেশী ছিলো। একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হবে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ভোট পেয়েছিলো ১৫০ মতো। আর ১৯৭১ সালে ঐ এলাকায় তালিকাভূক্ত রাজাকারই ছিলো ১১০০০ জনের উপরে। যার মাত্র ৩৫ জন ছিল আওয়ামী লীগের কথা মতো যদি জামায়াতের প্রাপ্ত সকল ভোটকেই রাজাকার হিসেবে ধরা হয় তাহলে বাকি ১১ হাজারেরও বেশী লোকগুলো কারা? নিশ্চয়ই তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক বা ভোটার ছিল। কারণ ঐ এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। সে হিসেবে সারাদেশের রাজাকার সহ অন্যান্য বাহিনীর তালিকা প্রকাশ করলেও দেখা যাবে ৯০% রাজাকার আওয়ামী লীগ থেকে এসেছে।

গত ১৩ নভেম্বর ২০০৭ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত উপ-সম্পাদকীয়ের মাধ্যমে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ খুব প্রযোজনীয় কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষায়, “এখনকার পত্রিকা পড়লে মনে হবে, শুধু মুসলিম লীগ, জামায়াত বা নেজামে ইসলামীর লোকেরাই পাকিস্থানের দালাল ছিল। বস্তুত সব শ্রেণী ও গোষ্ঠীর মধ্যেই পাকিস্থানের সহযোগী ছিল। আবদুল হক তাঁর কমিউনিষ্ট পার্টির নামের সঙ্গে বাংলাদেশ হওয়ার পরও ‘পূর্ব পাকিস্থানই’ রেখে দেন। অত্যন্ত ‘প্রগতিশীল’ বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ পাকিস্থানিদের সহযোগীতা করেছেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত না হলে, আর বছরখানেক টিক্কা খাঁরা বাংলাদেশ দখল করে রাখতে পারলে অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিকে আজ মানুষ ভিন্ন পরিচয়ে জানত।” সেই ‘শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিরা’ কারা? কবির চৌধুরী পুরো ৯ মাস টিক্কা খান সহ পাকিস্থান সরকারের অধীনে চাকুরি করার পরও অপরাধী নয়, বরং ঘাদানিকের সভাপতি! কেন আজ তারা অপরাধী নয়? তারা কি আজ আওয়ামী লীগ করে বলে? বা আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে?

পরবর্তী পর্ব- যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৬ (গোলাম আযম-নিজামী কি তখন যুদ্ধাপরাধী ছিল?)

আগের পর্ব গুলো-
১।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-১ (কাদেরকে বলা হয় যুদ্ধাপরাধী?)
২।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-২ (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন ও দালাল আইন, কোনটা কাদের জন্য ছিল?)
৩।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৩ (বঙ্গবন্ধু জেনেশুনে যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিহার করেছিলেন)
৪।
যুদ্ধাপরাধঃ পর্ব-৪ (বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দালাল আইনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার প্রেক্ষাপঠ ও ইতিহাস)