ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

মুসলমানদের জন্য নামাজ ফরজ করার অনেক গুলো কারণ আছে। কিন্তু আমার কাছে যে কারণটি সবচেয়ে বেশী আখাংকিত মনে হয়েছে তা হলো নামাজ অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে। কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা নিজেই নামাযের এ স্বার্থকতা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন : “নিশ্চই নামায মানুষকে পাপ, অন্যায় ও অশ্লীলতা এবং লজ্জাহীনতার কাজ হতে বিরত রাখে।” সূরা আনকাবুত আয়াতঃ ৪৫। অর্থাৎ নিশ্চয়ই নামাজ, নামাজী ব্যক্তি এবং নামাজীদের সমাজ (যেহেতু ব্যক্তির সমষ্টিই সমাজ) থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ দূর করে।

কিন্তু বর্তমানে সে অশ্লীলতার দিকে দেশের জনগণকে ভয়ানক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে অশ্লীলতার প্রতি উৎসাহী করা হচ্ছে। অথচ কুরআনে অশ্লীল কাজ করা তো দূরে থাক ধারে-কাছেও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। “প্রকাশ্যে বা গোপনে অশ্লীল বিষয়ের ধারে কাছেও যাবে না” আল আন’আম: আয়াত ১৫১। আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, “যারা চায় মু’মিনদের সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক তারা দুনিয়ায় ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে।” আন নূর: আয়াত ১৯।

আমাদের দেশে প্রচলিত অশ্লীলতা তো চলছেই এরপরও বাইরে থেকে অশ্লীল নায়ক-নায়িকাদেরকে এনে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা চলছে। এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে মানুষ এমনসব পাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছে যার পরিণাম হবে খুবই ভয়াবহ। একটি জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকা এবং সুন্দরভাবে তার উন্নতি ও অগ্রগতির বিষয়টি নির্ভর করে সুন্দর নৈতিকতা সম্পন্ন একটি জাতি তৈরি করার মাধ্যমে। কিন্তু সেরকম কোন ব্যবস্থা তো পরিলক্ষিত হচ্ছেই না বরং মানুষকে পাপের স্রোতে ভেসে যাওয়ার উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। তার পরিণতি আমরা আমাদের সমাজে দেখতে পাচ্ছি। যেখানে অশ্লীলতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে চরিত্রহীনতা ও অশ্লীলতাকে উৎসাহিত করা এবং সে জন্য আবেগ-অনুভূতিকে উদ্দীপিত ও উত্তেজিতকারী এমন অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় করার মাধ্যমে মনে হচ্ছে একটি জাতিকে ধ্বংসের কোন মহা পরিকল্পনার অংশ। সে ধারাবাহিকতায় গত ১০ ডিসেম্বর ২০১০ আর্মি স্টেডিয়ামে ভারতের শিল্পী শাহরুখ খানের লাইভ কনসার্ট অনুষ্ঠানে অশ্লীল নাচ-গানের আয়োজনের পর ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১১ আরেকটি তার চেয়েও অশ্লীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতে পারে। আমরা নৈতিকতা বিধ্বংসী এ ধরনের সকল অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদ জানাই।

একবার সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসুল (সাঃ) আমাদের মাঝে সৎকর্মশীল থাকাতেও কি আমরা ধ্বংস হবো? নবীজী বললেন, ‘হ্যা! যখন পাপকাজ ও অশ্লীলতা বেড়ে যাবে” (বুখারী ও মুসলিম)। এখন কি আমরা সেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমরা কি এর কোন প্রতিবাদ করবো না? আরেকটি হাদীসের মর্মবাণী দিয়েই শেষ করতে চাই, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের সামনে যখন কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত হয় তখন তোমরা হাত দিয়ে তা প্রতিরোধ কর, না পারলে মুখে তা প্রতিরোধ কর, সেটাও যদি না পার তাহলে মনে মনে অন্ততঃ ঘৃণা কর, আর এটাই হলো ঈমানের সর্বশেষ স্তর।”