ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

গৃহশ্রমিকের ওপর নির্যাতন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু দিন দিন গৃহকর্মীদের প্রতি পাশবিক অত্যাচার ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর পরিসংখ্যানানুযায়ী, গত ১০ বছরে গৃহশ্রমিকের ওপর ৭৯৮টি নির্যাতনের ঘটনায় ৩৯৮ জন মারা গেছে। শুধু এ বছর ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ জন।

গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন এরকম একেকটি পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। তন্মধ্যে গৃহকর্মী শিশু হাসিনা (১১), তানিয়া আক্তার (১০), রোমেলা খাতুন (১০), রাশিদা বেগমের (২৪) ওপর হওয়া শারীরিক নির্যাতন আমাদের হতবিহবল করে দেয়। হাসিনার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিতে পর্যন্ত জখমের চিহ্ন। তার দেহের পা থেকে গলা পর্যন্ত দগদগে ঘা। এমনকি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পচন পর্যন্ত ধরে গিয়েছিল। রোমেলা নির্যাতনের শিকার হয় সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহেদ আলী ও তাঁর স্ত্রী সুইটি বেগমের বাসায়। রোমেলা বলেছে, একবার পিটুনিতে মুখ কেটে গেলে সুইটি বেগম সুঁই-সুতা দিয়ে তা সেলাই করে দেয়। তানিয়ারতো জীবনটাই উবে গেল। আর সর্বশেষ বিগত ১৬ ডিসেম্বর রাশিদা বেগমকে রাজধানীর শাহবাগ থানার আনন্দবাজার এলাকায় একটি বাড়ির তিন তলা থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। কাজ করতে দেরি হওয়ায় গৃহকর্ত্রী রাশিদাকে তিন তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

এভাবে একের পর এক গৃহকর্মী নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। নির্যাতনকারী বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হওয়ায় দরিদ্র অসহায় নির্যাতিতা এসব মানুষ ন্যূনতম বিচারটুকু পাচ্ছে না। যেন গৃহশ্রমিকরা মানুষ নয়, ভিনগ্রহের কোন বাসিন্দা। মালিকরা তাদের নিয়ে যাচ্ছেতাই করতে পারেন। তারা যেন মালিকের কেনা সম্পত্তি। ঠিক মধ্যযুগের দাসপ্রথার মতো।

দেশের সিংহভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মে সহযোগিতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। দেখা যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা হন অসহায় কিংবা বিধবা (বা স্বামীপরিত্যক্তা) নারী অথবা মেয়েশিশু। ২০০৬ সালে পরিচালিত এক জরিপ থেকে জানা যায়, দেশে যে ২ মিলিয়ন শিশু শ্রমভিত্তিক কাজে নিয়োজিত আছে তার মধ্যে ১২.৭ শতাংশ গৃহকর্মে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই মেয়েশিশু এবং ৯৪ ভাগ পূর্ণকালীন কাজ করে। ওই একই গবেষণা হতে জানা যায়, ৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৬ জন গৃহশ্রমিকের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জনই ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসায় এবং বাকিরা সারা দেশের বাসাবাড়িতে নিয়োজিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শিশু (৫-১৭ বছর) শ্রমিক হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মেয়েশিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী গৃহশ্রমিকের সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার। তবে খসড়া “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা”-য় বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে, দেশে বর্তমানে গৃহশ্রমিকের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি।

গৃহশ্রমিকদের আবার বিভিন্ন শ্রেণীবিন্যাসের মাধ্যমে কাজে নিয়োজিত করা হয়। যেমন বান্ধা (অর্থাৎ, যিনি স্থায়ীভাবে সর্বক্ষণ ঘরে থেকে কাজ করেন), ছুটা (যিনি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করেন) এবং যে শিশুরা গৃহকর্মে নিয়োজিত থাকে তাদের পিচ্চি নামে অভিহিত করা হয়।

বিলস এর গবেষণা থেকে জানা যায়, শিশু গৃহকর্মীদের ৫০ শতাংশের বয়স ০৫-১৫ এর মধ্যে। যাদের ৭৬.৬৭ শতাংশ মেয়ে এবং ৪৬.৬৭ শতাংশ দরিদ্র বলে এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের ৪৬.৬৭ শতাংশই কাজ করে দিনে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা। কাজের তুলনায় এদের বেতনের পরিমাণ খুবই সামান্য। গড়ে ৫০৯.৬ টাকা। এদের ৫০ শতাংশেরই বেতন ৩০১-৬০০ টাকার মধ্যে। তা-ও ৬০ শতাংশ নিয়মিত বেতন পায়, বাকি ৪০ শতাংশ নিয়মিতও বেতন পায় না।

এসব গৃহশ্রমিক দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও বিনিময়ে কিছু সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা সহানুভূতিটুকুও পায় না। কাজের সময় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগকারী তার দায়বদ্ধতা নেন না বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন না। উপরন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মালিকের কোন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে এদের মজুরি থেকে সমপরিমাণ টাকা কেটে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হয়।

গৃহকর্মীদের কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। দেখা যায় কাকডাকা ভোরে তারা জেগে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন আর রাত দ্বিপ্রহর হলে পরে অবসর মেলে। বাকি পুরোটা সময় গৃহস্থালি কাজে নিমগ্ন থাকতে হয়। তাই ওভারটাইম হিসেবে অতিরিক্ত শ্রমঘণ্টার জন্য বাড়তি মজুরি পাওয়া তাদের জন্য এক পরাবাস্তব স্বপ্নের নাম। অথচ আইএলও সনদ অনুযায়ী, সপ্তাহে ৪৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই তা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদেরও নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়। তবে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজের যে খসড়া তালিকা তৈরি করেছে, তাতে গৃহশ্রমিকদের বিষয়টি নেই।

অসুস্থাবস্থায় এমনকি গর্ভকালীন সময়ও এদের ছুটি মেলে না। তাই এখানে সাপ্তাহিক ছুটির প্রসঙ্গ উত্থাপন বাহুল্যই বটে। তা ছাড়া এদের কাজকে ঠিক শ্রম হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের নেই কোন ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান এবং এর জন্য তারা সবচেয়ে বেশি অধিকারবঞ্চিত।

বাংলাদেশের শ্রম আইন গৃহশ্রমিককে শ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত করেনি। গত ১০ এপ্রিল একটি দৈনিকে প্রকাশ, প্রায় ২০ লাখ গৃহশ্রমিক শ্রম আইনের সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে। গৃহপরিচারিকাদের কাজের সময় কোন নিয়োগপত্র দেয়া হয় না। তাই মালিকের ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির ওপরই চাকরি নির্ভর করে। বেতনও মাসের কোন নির্দিষ্ট সময় মেপে দেয়া হয় না। তাদের খাবারের পাতেও বেশির ভাগ সময়ই উচ্ছিষ্টের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।

বিলস সুত্রানুযায়ী গৃহকর্মীদের রাতযাপনের নির্দিষ্ট কোন ঘর নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই (৪০%) বৈঠকখানা বা শোবার ঘরের মেঝেতে তাদের শোবার জায়গা মেলে। ৩৩.৩৩ শতাংশ থাকে রান্নাঘরে, ১৬.৬৭% থাকে বারান্দা/ব্যালকনিতে, ৩.৩৩% এর স্থান মেলে স্টোররুমে এবং মাত্র ৬.৬৭% শোবার জন্য আলাদা কক্ষ পায়।

পত্রিকার পৃষ্ঠা মেললে প্রায় দিনই আমরা গৃহকর্মীদের ওপর যৌন নিপীড়নের খবর পাই। সিংহভাগ ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী থাকে গৃহকর্তা বা তার কোন আত্মীয়। এমনকি ছেলেশিশুরাও এদের বিকৃত লালসার হাত থেকে রেহাই পায় না। অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যাপারে পরিবার থেকেও মদদ দেয়া হয়। কালেভদ্রে যৌন নিপীড়ন বা শারীরিক নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হলে লোক দেখানো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে আপসের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যথা ধুঁকে ধুঁকে পচে মরার পর উৎকট গন্ধ বেরোলে আমরা নাগরিক সমাজ সোচ্চার হই। আইন-আদালত যেন এসব শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে দেখে উপহাসের হাসি হাসেন। নিযার্তনকারীরা থেকে যায় বিচারের বাইরে। আইনের হাত তাদের নাগালও পায় না।

গ্রামের যে অবুঝ শিশুটি সারা দিন চার দেয়ালের মাঝে খেটে মরে তাদের জন্য ন্যূনতম বিনোদনের ব্যবস্থা তো নেই-ই, নেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ বা শিক্ষার সর্বনিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থা। তা ছাড়া এসব শিশু সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থেকে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতার এক অনিশ্চিত জীবন নিয়ে বেড়ে উঠছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানবসম্পদের ওপর।

২০১০ সালে পাস হওয়া পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনে গৃহকর্মীরা উপেক্ষিত। ওই আইন অনুযায়ী তাদের বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কারণ কেবল আত্মীয়রা এ আইনের অধীনে সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। তবে প্রচলিত দণ্ডবিধি বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে খুব সহজে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। কিন্তু গৃহকর্মীরা একে দরিদ্র তার ওপর অশিক্ষিত। তা ছাড়া প্রভাবশালী অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করাও তাদের জন্য কঠিন। তাই শ্রম আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে এসব ক্ষেত্রে সালিশের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

গৃহকর্মীদের জন্য দেশে একটি মাত্র আইনই বিদ্যমান। তা-ও নিবন্ধনসংক্রান্ত। এ আইনের অধীনে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। আইনটি সম্বন্ধে অনেকে জানেনও না। আইনটি হল গৃহপরিচারিকা নিবন্ধন অধ্যাদেশ-১৯৬১। আইনটি শুধু ঢাকা সিটি করপোরেশনে প্রযোজ্য। আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী নিকটবর্তী থানায় গৃহকর্মী নিয়োগের পর নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের জন্য গৃহকর্মীর নাম, ঠিকানা, ১ কপি ছবি, শরীরের মাপ, হাতের ছাপ ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কেউ কাজ করতে পারবে না। করলে ৬ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক মাসের জেল বা ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আশার কথা সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে বিভিন্ন এনজিও কর্মীদের সমন্বয়ে গৃহশ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকারের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা” নামে খসড়া একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। কিন্তু নীতিমালাটির খসড়া প্রণয়নের ২ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বিবিধ অজুহাতে সরকার এখনও খসড়া নীতিমালাটি কার্যকর করছেনা।

নীতিমালানুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকাজে নিয়োগ করা যাবে না। কোনো গৃহকর্মীকে তালাবদ্ধ করে রাখা যাবে না। তবে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়ি তালাবদ্ধ করতে হলেও একটি চাবি তার কাছে রাখতে হবে।

বয়স ও সামর্থ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য বিবেচিত ভারী ও বিপজ্জনক কাজে কিশোর-কিশোরীদের নিয়োগ করা যাবে না। দেশের সব সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ গৃহশ্রমিকদের নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে। শিশু গৃহশ্রমিক নিয়োগে অভিভাবকের সঙ্গে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই ব্যক্তির সঙ্গে নিয়োগকর্তার চুক্তি থাকতে হবে। এ চুক্তিতে নিয়োগের ধরন, মজুরি, কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের সময় ও ছুটি, লেখাপড়ার ব্যবস্থা, কাজের ধরন, থাকা-খাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।

নীতিমালায় গৃহকর্মীর ছবিসহ পরিচয়পত্র ও সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন ছুটির কথা বলা হয়েছে। গৃহকর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হলে সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। গর্ভকালীন ও প্রসূতিকালীন সুবিধা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও নীতিমালায় বলা আছে।

কেন্দ্র ছাড়াও জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদে নজরদারি করার জন্য বিশেষ কেন্দ্র গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের তৈরি পরিদর্শন দল পরিস্থিতি বুঝতে বাড়ি বাড়ি যাবে। তবে নির্যাতন বা হয়রানির শিকার গৃহশ্রমিক ওই কেন্দ্রে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জানাতে পারবে। একই সঙ্গে তারা ফৌজদারি মামলাও করতে পারবে।

জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় ২৩, ২৪ ও ২৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের মানবাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সব কর্মী বা শ্রমিকের সমমজুরি, বিশ্রাম, অবসর, যুক্তিযুক্ত কর্মঘণ্টাসহ শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার্থে সব অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও গৃহশ্রমিকদের জন্য ‘শোভন কাজ’ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশনে (নং-১৮৯) দেয়া অধিকারসমূহ সরকারের দ্রুত অনুসমর্থন করা উচিত।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত নারীর এ গৃহশ্রম ও পরিবারকে ভালোবেসে যে শ্রম প্রদান করে তাকে ‘ভালোবাসার অর্থনীতি’ আখ্যায়িত করে ভালোবাসার অর্থনীতির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করেছেন প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। জিডিপিতে এই মূল্যমান যোগ করা হলে জিডিপি বেড়ে দাঁড়াবে ৭ লাখ ১৭ হাজার ১২ কোটি টাকা। সে হিসাবে ভালোবাসার অর্থনীতির আয়তন হবে বর্তমান জিডিপির ৫৩ শতাংশ। এ হিসাবের ভিত্তি হলো বাংলাদেশে ১০ বছর ও তদূর্ধ্ব নারীরা গৃহস্থালি কাজে বছরে সময় ব্যয় করেন ১৬ হাজার ৬৪১ কোটি শ্রমঘণ্টা।

তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪, ১৫, ১৭, ২৮(৪) ও ৩৪ অনুচ্ছেদ গৃহশ্রমিকের অধিকার প্রচ্ছন্নভাবে হলেও রক্ষা করেছে। কেবল আইন করে বা আইন প্রয়োগ করে গৃহশ্রমিকের ওপর নির্যাতন নিবারণ করা সম্ভব নয়। মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক সচেতনতাই এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। পাশাপাশি সরকারি কিছু পদক্ষেপ নির্যাতন নিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেইসঙ্গে গৃহশ্রমিকদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা তাদের জন্য মুক্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে। সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে: দৈনিক সমকাল