ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

শুরু হয়েছে চৈত্র মাস। সামনে আসছে কাঠ ফাটা রোদ নিয়ে গ্রীষ্ম। যদিও ইতোমধ্যেই রাজধানীবাসী কালবৈশাখীর স্বাদ একবার আস্বাদন করে ফেলেছেন। তথাপি তা এই নাগরিক জীবনে শান্তির শীতল পরশ বুলিয়ে যেতে পারেনি। নগরবাসী গ্রীষ্মের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গরমের উষ্ণ হলকার সাথেও মোলাকাত করা শুরু করেছেন।

যাই হোক দেশবাসী অবশ্য এখন আরো একটি উষ্ণতায় পুড়ছে। তা হল এশিয়া কাপ জ্বর। কিছুদিন আগে ভুগেছিল বিপিএল জ্বরে। ভুগেছিল বলছি কারণ এই দুটি ক্রিকেট উৎসব ঢাকাবাসী বিশেষ করে মিরপুরবাসীকে ভোগাচ্ছে। দুটি সিরিজেই দিবা-রাত্রির ম্যাচ হচ্ছে। খেলা শেষ হতে হতে বাজে প্রায় রাত ১০টা। তাই ফ্লাড লাইটের বাতি নিভতে বাজে কমপক্ষে সাড়ে ১১টা। দিবা-রাত্রির খেলা হওয়ার কারণে ফ্লাড লাইটের আলো জ্বলে যায় ৬টা বাজতে না বাজতে। ফ্লাড লাইট জ্বালাতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন তা নিশ্চয় যে কারো দ্বারা সহজেই অনুমেয়।

রাত প্রায় সাড়ে ১১টা ব্যাপী ফ্লাড লাইট জ্বালানোর কারণে গোবেচারা শহরবাসীদের ভুগতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যন্ত্রণায়। যে দেশে বিদ্যুতের এতো অভাব। যেখানে এখনো নতুন কোন কল-কারখানা বা বাড়ি বানাতে গেলে সরকার চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করাতো দূরের কথা, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানই বন্ধ রেখেছে; সে দেশের মানুষকে দিবা-রাত্রির ক্রিকেট খেলা দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোড শেডিংয়ে ভুগিয়ে লাভ কী? কোথাও কোথাও ঘণ্টায় নিয়মিতই একাধিক বারও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।

সাধারণ মানুষের কথা বাদ দিয়ে যদি শুধু জরুরি প্রয়োজনের কথাই ধরি (হাসপাতালের রোগী, পরীক্ষার্থী ইত্যাদি) তা হলেও দেখা যাবে ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা একদম কম হবে না। কর্তৃপক্ষ সেখানে কোন বিবেচনায় দিবা-রাত্রির খেলা আয়োজন করেন তা এই অধমের বোধগম্য নয়। কারও বিনোদনের জন্য অন্য কারও জীবন সংকটাপন্ন হতে দেয়া নিশ্চয় কোন সুস্থ বোধ সম্পন্ন মানুষের কাজ নয়।

পুনশ্চঃ জানিনা মত প্রকাশের জন্য নতুন কোন যন্ত্রণায় পড়ি।