ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

(একটি ধর্ষিত শহরের ক্ষয়ে যাওয়া )

পুরুষত্বের আভার ছটায় যখন একটি কিশোরী হারায় তার জীবন,যৌবন ও সতীত্ব,তারপর দশ মাস দশ দিন পর কি কেউ নিবে তাদের সেই অনাকাংক্ষিত স্বাদের ফলটাকে? কেউ কি নিতে চায় তার পরিচয়ের দায়ভার ? তেমনি হয়েছে এই শহুরে শহরের অবস্থা । স্বাদ নেবার বেলাই সবাই এক পায়ে খাঁড়া কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখার বেলায় নেই, কেউ নেই……..!!!
অনেকেই আবার ঘোমটার আড়াল থেকে বলছেন , ঘাটের মরা মেরে কে আবার খুনের দ্বায় নেবে ।কিন্তু নাচতে নেমে ঘোমটা দিলে কি চলে… ।

এমনি এক আজব ঘোমটা ওয়ালা শহরের বাসিন্দা যেখানে প্রায় দু’কোটি মানুষের বসবাস।। সেই রাজধানী ঢাকার আজ কোন অবিভাবক নেই। অভিভাবক ছাড়া যেমন বাড়ী অচল ঠিক তেমনি ভাবেই চলছে ঢাকা। দেশের বৃহত্তম দুই স্থানীয় সরকার ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশন। বলতে দ্বিধা নেই যে এক রকম পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে রাজধানী ঢাকার প্রায় দুই কোটি মানুষ চরম বঞ্চনার শিকার। ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে গত ডিসেম্বর মাসে। তার আগে পাঁচ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি কর্পোরেশন কাজ করেছে দায়-সাড়া ভাবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় রাজধানী বাসীর প্রতি তাদের দ্বায়বোধ কতটুকু ছিল তা প্রশ্নবিদ্ধ।

নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার নামে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ বিভক্ত করা হলেও জনপ্রতিনিধিত্বের অভাবে এটি এখন আমলাদের ক্ষমতা চর্চার উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বলা হয়েছিল নব গঠিত দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে কিন্তু সময় স্বল্পতার খোড়া যুক্তি দিয়ে সে সময়কার বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা নির্বাচন করতে রাজি হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষনা করলেও এক রিটের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত রয়েছে।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার কারনে প্রতিনিয়ত জনগন আমলাতান্ত্রিক যথেচ্ছতার শিকার হচ্ছে। নগরবাসীকে যারা সেবা দেওয়ার কথা বলেছিলো তাদের মধ্যে অঙ্গীকারের অভাব থাকায় আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছে, ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অভিলাষের কারণে নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা হচ্ছে। সরকারের দিকে সন্দেহের তীর নিরিখ করে বলা হচ্ছে নির্বাচন করতে চাইলে ভোটার তালিকার ক্রটি দূর করে তা হালনাগাদ করা ।এটা কোন কঠিন কাজ ছিলনা । বোধ করা যায় নির্বাচনে অনিহা থাকায় এসব বিষয় সামনে আসছে ।বিশিষ্ট জনেরা এটা আবার বলছেন, এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ বাজে দৃষ্টান্ত । স্থানীয় সরকার হল জনগনের সরকার অথচ দেশের বৃহত্তম স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পাঁচ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের দুই কোটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা । রাজধানী ঢাকা ক্রমান্বয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়লেও তা দেখার কেউ নেই ।

রাজধানীর প্রাই দুই কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারই শুধু নয় মানবাধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হওয়া উচিত । এই ক্ষেত্রে কোন অবহেলাই কাম্য হতে পারেনা ।