ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

প্রথমদিকে ভাবতে বা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না কিন্তু এখন না করার আর কোন উপায় ছিলনা ! সত্যি-সত্যিই অনিয়ম,দূর্নীতি ও ঘুষের ভয়ঙ্কর হিংস্র থাবার নিকট বিশ্বব্যাংকও টিকতে পারলো না।যেন ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েই সরে দাঁড়ালো।একদিকে যেমন দীর্ঘ ১০ মাস ধরে চলতে থাকা ( স্নায়ুযুদ্ধের )টানাপোড়নের অবসান হল অন্যদিকে অভিযোগের সন্দিহান সুযোগ্য ব্যক্তিরা পদ্মার তরী থেকে বিজয়ী হয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষদের কত বড় সর্বনাশ হল তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?

দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও তদন্তে সরকারের ‘আন্তরিকতা’ না থাকার অভিযোগ তুলে প্রস্তাবিত ঋণ বাতিল করেছে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংক।এতে করে আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে। গত বছরের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পদ্মা সেতুর ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল।

বিশ্বব্যাংক সদর দফতর শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা, কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভলিন এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের যোগসাজশে দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ও প্রমাণ বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের হাতে যাওয়ার পর থেকেই তারা অত্যন্ত সজাগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলো।কিন্তু কে কার কথা শোনে এমন অবস্থা চলছিলো।

ওই সব অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের কাছে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে দুই দফায় দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ভেবেছিল, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে এবং দুর্নীতির অভিযোগ গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দিবে কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের চাওয়া ছিল,
প্রথমত, যেসব সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরিয়ে দেওয়া।
দ্বিতীয়ত, এই অভিযোগ তদন্তের জন্য দুদকে একটি বিশেষ তদন্ত দল নিয়োগ করা।
তৃতীয়ত, বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত একটি প্যানেলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সরবরাহ করা যা আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবেন।

উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্বব্যাংক আশাহত।এমন অবস্থায় দুর্নীতির তদন্তে চাপ না দেওয়াকে সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্নীতিতে জড়িত কানাডার প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের হেডকোয়ার্টারে কয়েক দফায় সার্চওয়ারেন্ট ও বছরব্যাপী তদন্ত চালাচ্ছে ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিসেস।যে সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি অবগত ।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাংক অনুভব করে।এ কারণে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান ব্যাখ্যা করা ও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে উত্তর জানার জন্য একটি উচ্চপর্যার দল ঢাকায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু সরকার যে প্রতিক্রিয়া বা উত্তর দিয়েছে তা সন্তোষজনক ছিল না।এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক চোখ বুঁজে থাকতে পারার কোন অবকাশ নেই।

বিশ্বব্যাংক একটি প্রকল্পে তখনই অর্থায়ন করতে পারে,যখন প্রকল্পের স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং কার্যক্রমের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হয়।কারণ,বিশ্বব্যাংকেরও সব দাতা দেশগুলোর কাছে একটি নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে বলেই হয়তো তারা এমন পদক্ষেপ নিল।

বাংলাদেশ সরকার বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নের পথও খুঁজতে থাকে।সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে অর্থায়ন প্রশ্নে চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আশাবাদী বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আমরা আশা করি যে পক্ষের সঙ্গেই হোক তাড়াতাড়ি চুক্তি করে দ্রুত কাজ শুরু করা হোক।
দেশের মানুষ আপনাদের দিকে চেয়ে আছে চাতক পাখির মতো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অপেক্ষায়।আর কতো দিন বা কাল অপেক্ষার প্রহর গুনবে স্বপ্নরাজ শান্তি প্রিয় অসহায় মানুষ।।