ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

‘কথায় আছে শক্ত মদ্দের দখিন দুয়ার ‘ আমাদের দেশের যদি কোন কৃষক সামান্য কিছু টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে খেলাপি হলে যেন আর তার রক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যত্রতত্র আইন-আদালত করে পুলিশের মাধ্যমে কোমড়ে রশি বেধেঁ নিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে দ্বিধাবোধ করে না। আর বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে হাজার-হাজার কোটি টাকা লোপাট করেও হলমার্ক গ্রুপের কর্মকর্তারা খোশমেজাজে রয়েছেন। তারা মনে হয় আসলেই শক্ত মদ্দে অধিকারী তা না হলে এতক্ষণ………..যেতে হতো?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতের সবচেয়ে আলোচিত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমের হলমার্ক গ্রুপের কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাটের কাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা যতই ‘না-না-না’ বলুক কিন্তু তার ঘনঘন রুপসী বাংলা শাখাতে পদচারনা,হলমার্কের কারখানা পরির্দশন,এমডির সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক মিডিয়াতে প্রকাশিতব্য ঘটনা শেষ পর্যন্ত খাটের নিচে কে রে আমি কলা খাইনি এমন ঘটনায় রুপ নেয় কি না তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর বিনিয়োগ বন্ধ ঘোষণা করে তা নিরসনের জন্য কিছু শর্ত দিলেও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও সরকার তাল গাছের শিকারের মতো করে গোঁ-ধরে আকড়ে ধরে ছিলো।তার পর যখন মাথা ভেঙ্গে গেল তখন ঠিকই মস্তিষ্ক বিহীন দেহাবশেষ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হল। তাতে বাংলার মানুষের কতটুকু লাভ-ক্ষতি হল সেদিকে কি কারো নজর আছে?

যখন বিশ্বব্যাংকের কলমের কালি ফুরিয়ে মুখও যখন বন্ধ করে দিল তখন বলা হলো হে ‘ বিশ্বব্যাংক আমরা আপানাদের সব শর্ত পূরণে রাজি’। কিন্তু ততক্ষণে আর কিছু … নেই।
হতভাগ্য আবুল হোসেন বিগত আ’লীগ সরকারের সময়ে মন্ত্রী হলেন কিন্তু পাসপোর্ট কেলেংকারির কারণে কপাল পুড়ল আর এবার খেল সর্বনাশা পদ্মার করাল ঢেউ।তার পরও আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার দেশ প্রেমিক খেতাবে ভূষিত করেছেন।ফলে, বিড়ালের গলায় আর ঘন্টা কে পড়াবে?

সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখা(সাবেক শেরাটন শাখা)’র কেলেংকারী এক বিস্ময়কর ঘটনা এখন সবার জানা।যে হলমার্কগ্রুপ হাজার-হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে সেই গ্রুপের এমডি তানভীর রহমানের সঙ্গে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দহরম-মহরম সম্পর্ক।ওই শাখায় উপদেষ্টার পদচারনা। লোপাটকারী এমডি দলের অনেক লোককে চাকরি দিয়েছে,স্থানীয় সাংসদ ও আ’লীগ নেতারা ভালো বলে সার্টিফাইড করে দিয়েছিল তাই প্রধান মন্ত্রীর নিকট থেকে জাতীয় রপ্তানী পদক পাওয়ার পর আশুগঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন।পরবর্তীতে আইন প্রতি মন্ত্রী সার্টিফাইড করার পর হেমায়েতপুর গিয়েছিলেন উপদেষ্টা।আবার হলমার্ক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনের অনুষ্ঠানেও অতিথি ছিলেন। গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ওই টাকা লোপাটের ঘটনা তদন্ত করতে রুপসী বাংলা শাখায় এলে সেখানেও উপদেষ্টা উপস্থিত হয়ে নিজের ভিজিটিং কার্ড প্রদান করেন তদন্তকারীদের। এসব তাহলে কিসের আলামত বহন করে? স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে চেনে না এমন চাকুরিজীবী খুব কমই আছে মনে হয।

সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিক পত্র দিলেও অর্থমন্ত্রী বলেছেন সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নয়।সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সরকার দলীয় তিনজন পরিচালক রয়েছে।দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই শাখার বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি থাকলেও সেটার দিকে কেন কারো নজর ছিলো তাও দেখার বিষয়।

কোন অশ্বশক্তি আছে বলেই হয়তো হলমার্ক গ্রুপ এতো হাজার কোটি টাকা লোপাট করার পরেও এখনো দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো বা তাদেরও যে কেউ ব্যাংক প্রেমিক বলে সার্টিফাইড করতে দ্বিধাবোধ করবে না। আর আমাদের দেশের কোন কৃষক যদি সামান্য টাকারও খেলাপি হতো এতক্ষণে কোমড়ে রশি বেধে জেলহাজতে পাঠানোর জন্য টেনেহেঁচড়ে আনার দৃশ্য দেখানোর জন্য ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা ক্যামেরার ফ্লাশের অজস্র ঝলকানি ফেলতো কৃষকের শরীরে।