ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

‘অ্যাটাক ইজ দ্য গুড ডিফেন্স; কোন স্থানে যদি পাঁচ জন পুলিশ থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা পাঁচ জনকেই আক্রমণ না করে একজনকে টার্গেট করবো। তখন আক্রান্ত পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতেই বাকিরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে।’ কথাগুলো এক জামাত-শিবির কমান্ডারের। কমান্ডার এই কারণে যে, গত কয়েকদিন ধরে জামাত-শিবিরের পুলিশের উপর হামলার নির্দেশনা মোবাইল মেসেজে এভাবেই পৌঁছে দেয়া হয়েছে তাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মী-সমর্থকদের কাছে। ‘বাঁচলে শহীদ মরলে গাজী, আল্লাহর নামে মরতে রাজী’ এমন সব সম্মোহনী মেসেজ দিয়ে কর্মীদের গায়ে জোশের সঞ্চার করা হয়।

বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে জামায়াত-শিবিরের উচ্চপর্যায় থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী বাছাই করে সাংগঠনিক নিয়মে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গত মে মাস থেকে শুরু করা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কর্মীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়। রাস্তায় নামলে পুলিশের নির্যাতনসহ সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দেয়া হয়। কর্মীদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে থাকার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। ‘অর্থ ও জীবন উৎসর্গ’ করার মানসিকতা নিয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে নেতা-কর্মীদের কাছে একাধিক পুস্তিকাও বিতরণ করা হয়।

গত কয়েকদিন জামাত-শিবিরের প্রধান লক্ষ্য ছিল পুলিশ। কারণ তারা জানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক তাদের শীর্ষ নেতাদের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে; যেকোনো অপরাধের বিচার করার জন্য আইন ও আদালত যথেষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এমন অনৈতিক দাবি নিয়ে মাঠে কর্মসূচি দিলে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল মেরে সেটাও পণ্ড করে দেয়। এমতাবস্থায় বিষয়টি গায়ের জোরে রাজপথে নিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। মূলত গত কয়েকদিনে বেপরোয়া সহিংসতা, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা গাড়ি পোড়ানোর পেছনে এই ভাবনাই কাজ করছে। এসব অসঙ্গত কারণে সামনে আরও বড় ধরনের সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কা এখন প্রকট। মানুষের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে, তেমন অবস্থায় দেশের পুলিশবাহিনী কি তাদের সহিংস ঘটনা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। অন্ততঃ গত কয়েকদিনে পুলিশের অসহায়ত্ব দেখে জনমনে এমন আশঙ্কা খুব স্বাভাবিক।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর মিজানুর রহমান স্যার প্রশ্ন করেছেন, পুলিশের ওপর জামাত-শিবিরের যে তাণ্ডব, তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রস্তুত নয়। তার মানে পুলিশ কি জামাতের মার খাওয়ার জন্যই প্রস্তুত? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, শুধু পুলিশ কেন কোন মানুষই কারো মার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। কোন আইনেই কাউকে আঘাত করার পক্ষে বলা নেই। পুলিশ বাহিনীর সৃষ্টি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে। রাজনীতির সাথে কিছু ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথাবার্তা থেকে জামাত-শিবির পরিকল্পিতভাবে পুলিশের উপর হামলা চালাচ্ছে। জামাত-শিবির কর্মীদের পরকালে সুখ ভোগের লোভ দেখিয়ে নিতান্তই ‘ধর্মগাধা’ পর্যায়ে উন্নীত করে এমন কাজ করাতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তাই দেশে গণতন্ত্রের নামে এই ধরণের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা আইন করে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের প্রয়োজনে দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।