ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

০১. এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কি কিছু করার নেই। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনশন করেছিলো সংখ্যালঘুদের উপর চারদলীয় জোটের অমানবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে এইসব ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দিন যায় নতুন দিন আসে, কারও কথার ঠিক থাকে না। আবারও ২০১২ সালে এসে ঠিক একই কায়দায় নির্যাতন। এবারের ফলাফল প্রশাসন নিরব, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীকে অন্তত এবার এখনও বলেননি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

০২. ধন্যবাদ জানাচ্ছি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মীজানুর রহমান কে, তার কাছে এখন মনে হচ্ছে না যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন মানবধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। সংখ্যালঘুদের উপর চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরাতে যে অমানবিক নির্যাতন হল তার বিরুদ্ধে মহামান্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য নেই। এখন মনে হচ্ছে সরকারের সাথে সাথে উনিও নাকে খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

০৩. ধন্যবাদ আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত আলোচিত গণমাধ্যম কে। তারা নিজেদের স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বার্থে অনেক চেঁচামেচি করে থাকে কিন্তু স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশে মানুষের উপর প্রস্তরযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চলল সেই খবর টা কে দেশের কয়েকশ পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এর চোখ এড়িয়ে গেল। মনে হয় সেদিন আমাদের বাকপটু সাংবাদিকদের কলমের কালি ফুড়িয়ে গিয়েছিল। নাকি তাদের কাছে এটা বিছিন্ন একটি ঘটনা মনে হয়েছিল। ধন্যবাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নামক যুগপোযোগী ঘটনার সাথে আমাদের গণমাধ্যম কে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

০৪. সবার কাছে একটাই প্রশ্ন, জাতির বিবেকের কাছে আমার আপনাদের সবার তরফ থেকে কিছু প্রশ্ন করুন তো…

” আমি মিনা রানী এই কি আমার অপরাধ।”
“আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক, আমার কি সবার মত গণতান্ত্রিক অধিকার নেই।”
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের কি আপনারা রাজনৈতিক দলগুলো গিনিপিগ মনে করেন?
বাংলাদেশ কি আমার দেশ না?

০৫. সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, সমগ্র জাতি যেখানে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ সেখানে সরকারের তরফ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে প্রহসন শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের খেলা। সরকারের খোঁয়াড়ে এত জ্ঞানী ব্যক্তির সমাহার তাদের মাথায় কি এতোটুকু গোবর নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে এই প্রহসন যত বেশি দীর্ঘায়িত করবে, ততদিন কিছু ধর্মান্ধ স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি,দল তাদের বাঁচানোর জন্য মাঝে মাঝে জানান দিয়ে যাবে যে আমরা আছি। যার কশাঘাতে পড়বে সংখ্যালঘুরা।