ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সুশীলীয় মানবিক বুদ্বুদ আর প্রথম আলো মার্কা মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন চিল্লাফাল্লা কই গেলো? একজন নয়, দুই জন নয় শ’য়ের অধিক (সঠিক সংখ্যাও আমরা জানিনা) শ্রমিককে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারা হল, চট্টগ্রামে গার্ডার ধ্বসে মারা পড়ল ১৪ জন, কিছুদিন পূর্বে বউ বাজার বস্তিতে পুড়ে মরল আরো অনেক শ্রমজীবী মানুষ…….। অথচ প্রথম আলো হাহাকার করছে মালিক সর্বস্বান্ত হয়ে গেলো বলে…..। আর সুশীল মানবিক বুদ্বুদওয়ালা বুদ্ধিজীবী আর তারুণ্যের প্রতীকরা মানবিকতার বুদ্বুদ ছড়াতে ছড়াতে মনে হয় ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তাই এক্কেবারে চুপ তারা। কারণ কি? এই কয়েক শ মানুষ কি মানুষ হবার উপযুক্ত না? নাকি মানবিক বোধ শুধু সেলিব্রেটিদের জন্য? একজন হুমায়ুন আহমেদ, একজন তারেক মাসুদ মারা গেলে কাঁদে সারা দেশ। মানববন্ধনের খবরের ভরে যায় নিউজ পেপার আর মিডিয়া। আবুল মকসুদের সাথে শহীদ মিনারে ঈদ করতে জড় হোন শত শত। অথচ এই কয়েকশ শ্রমিককে পরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও আমাদের মানবিক অনুভূতিকে আঘাত করে না।

আমরা কি বেঁচে আছি? নাকি মারা গেছে আমাদের মনুষ্যত্ব এবং মানবিকতা? না হলে আমরা কি পারতাম মেনে নিতে এমন হত্যাকাণ্ড? এমন একটি গণহত্যার পরও আমাদের জীবন স্বাভাবিক….
কি চমৎকার কাটছে আমাদের জীবন! এই তো বেশ ভালো আছি!

কয়েকশ শ্রমিক মরলে আমাদের কি আসে যায়! কিছুই না। তাই আমরা স্বাভাবিক আছি।

প্রতিদিনের নিয়ম মাফিক রুটিনে আমাদের কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। ঘটনার পরদিনও আমরা ক্লাসে যাই, পরীক্ষা দেই, বন্ধুর সাথে আড্ডাও দেই, বাসে চড়ি, চাকরি করতে অফিসে যাই….. দিনশেষে ফিরি, টিভি দেখি, দেশ গোল্লায় গেল বলে গালাগালি করি… তারপর ঘুম…

নিশ্চিন্তপুরের বাতাসে পোড়া মানুষের গন্ধও এখনো রয়েছে। সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই বিজয়ের উল্লাস মিছিল, ঢা.বি.তে স্মরণকালে বিশাল খাবার-দাবার, চুরাশির বাঁশিতে মগ্ন ভদ্রলোকেরা…
এই যদি হয় আমাদের জীবন তাহলে আমরা বেঁচে নেই, মরে গেছি। এত জীবন্ত লাশের ভিড়ের অল্প কিছু মানুষ যখন প্রতিবাদ করে তখন আমরা জীবন্ত লাশগুলো হাসাহাসি করি। পাগল বলে অবজ্ঞাও করি।

নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েই শুধু মানুষ মরে না, মানুষ মরে ভয়ে, মানুষ মরে যখন সে তার মানবিকতা ও সহমর্মিতা হারায়।
আর তাই মরে গিয়ে আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, ভয় করি আমরা জীবনকে।
আর সেই ভয়ে আমরা উঠে দাঁড়াই না, রুখে দাঁড়াই না, প্রতিবাদ করি না।
একদিন জীবন্ত লাশের গায়েও আগুন লাগবে। কথায় আছে শহরে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না।
অপেক্ষায় থাকুন….. সামনে আসছে আপনার পালা!
——————————————————————————————–
যারা এই অপেক্ষায় থাকতে চান না তাদের জন্য এই আহবান

মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদ, ভারত ও তাদের দালাল শাসকশ্রেণীর রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে শ্রমিক- কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে-
শ্রমিকশ্রেণী এক হও! শ্রমিক হত্যার বদলা নাও!
শ্রমিক-কৃষকের সাথে ছাত্র-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতিকর্মী একাত্ম হও!

আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে আগুনে পুড়িয়ে শ্রমিক হত্যা, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরন, বকেয়া বেতন পরিশোধ, মালিককে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ও আহত শ্রমিকদের তালিকা ঠিকানাসহ প্রকাশের দাবীতে জাগরণের পাঠশালা, মার্কসবাদের প্রথমপাঠ, বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ, প্রগতির পরিব্রাজক দল(প্রপদ), গণমুক্তির গানের দল, ল্যাম্পপোষ্ট, শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগার, মঙ্গলধ্বনি এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গের আহবানে-

::::::বিক্ষোভ সমাবেশ:::::::
৮ ডিসেম্বর, শনিবার, বিকাল ৪.০০ টা,
জাতীয় যাদুঘর প্রাঙ্গন, শাহবাগ।
সভাপতিত্ব করবেন- হাসান ফকরি

উপস্থিত হোন! অন্যদের উপস্থিত হতে অনুপ্রেরণা দিন! শ্রমিক হত্যার বদলা নিতে শ্রমিকদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হোন!
ফেসবুক ইভেন্ট এ যোগ দিন, মতামত দিন।

(ছবি: গত ২৮ সেপ্টেম্বর উল্লেখিত সংগঠনসমূহ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টের পাশে সমাবেশ করে)

ব্লগার বন্ধুগণ!

গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশনের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত শ্রমিক নিহত হয়েছে। সরকার ও গণমাধ্যমগুলো ১৩০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে জানালেও স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি অন্তত দেড় হাজার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আজই উক্ত কারখানার মালিক কর্ণফুলী ইন্সিওরেন্স থেকে ক্ষতিপূরণের চেক গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এসব কোন দুর্ঘটনা নয়। বরং, মালিক শ্রেণীর পরিকল্পিত নৃশংস শ্রমিক গণহত্যা। আর এতে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে মালিক সমিতি বিজিএমইএসহ রাষ্ট্র ও সরকার।

একই দিনে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মানাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙ্গে নিহত হয়েছে আরো ১৪ জন শ্রমজীবী। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে শতাধিক। কিছুদিন আগে বউ বাজার বস্তিতে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন আরো ১৫জন শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষ।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আজ উত্তরার দক্ষিণ খানে সোয়ান গার্মেন্টসে আবারো আগুন! আবারো শ্রমিকের পোড়া লাশ!
আগুনে পুড়ে, ভবন ধ্বসে, গার্ডার ধ্বসে শ্রমিকদের মৃত্যুই শুধু নয়, শ্রম শোষণের শিকারে দুর্বিষহ জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে শ্রমিকরা যখন আন্দোলনে নামে তখন শ্রমিকদের গুলি করে, গুম করে হত্যা করা হয়।

এর আগেও স্পেক্ট্রাম, কেডিএস, গরীব এন্ড গরীব, হা-মীমসহ বিভিন্ন কারখানায় দূর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। আর, প্রতিবারই এ ধরণের ঘটনার পর সরকার ও মালিকের পক্ষ থেকে লোক দেখানো তদন্ত কমিটি, ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু, আজ পর্যন্ত কোন তদন্ত রিপোর্ট যেমন জনগণের সামনে আসেনি তেমনি কারখানার অব্যবস্থাপনার জন্য কোন মালিকের শাস্তি হয়নি। বড় বড় মালিকদের রক্ষা করে সরকার ও রাষ্ট্র বারংবার শ্রমজীবী জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগের মহাজোট এবং বিএনপি-জামাত জোট যারাই যখন ক্ষমতাই ছিল তাদের ভূমিকা ছিল একই। বরং শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করার কাজেই ছিল তাদের অধিকতর মনোযোগ। এ জন্য র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা মোতায়েন করা এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করাই শ্রমিক বিষয়ে এসব সরকারের একমাত্র কাজে পরিণত হয়। অথচ এখন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল মালিক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষাকারী এসব দলগুলো শ্রমিকদের জন্য মায়াকান্না করছে।

সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসকশ্রেণী এদেশের শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শোষণ-নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ কারণেই শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অবকাশ তাদের নেই। ঘরে-বাইরে-কারখানায় কোথাও শ্রমিকের জীবন আজ নিরাপদ নয়। প্রতিটি কারখানা, বস্তি পরিণত হয়েছে মৃত্যুকূপে। আজ যে কোন সময় যে কোনখানে শ্রমিকের মৃত্যু ঘটতে পারে।

সাম্রাজ্যবাদ এবং তার দালাল শাসকশ্রেণীর বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজে শ্রমিকের প্রতি এ নির্মমতার অবসান ঘটতে পারেনা। সুতরাং সাম্রাজ্যবাদসহ এ শাসক শ্রেণীকে, তাদের নির্মম শোষণমূলক ব্যবস্থা এবং তাদের নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রকে উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেই কেবল শ্রমিকশ্রেণী ও জনগণ এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। একারণে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই আসুন, শোককে শক্তিতে পরিণত করি, শোষক-নিপীড়ক মালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর একটি দৃঢ় ঐক্য ও সংগ্রাম গড়ে তুলি। সেইসাথে মুক্তির বৃহত্তর সংগ্রামে কৃষক-মেহনিতসহ নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধ হই।

দাবী সমূহ:
১. প্রত্যেক নিহতের পরিবারের জন্য ২০ লক্ষ টাকা ও গুরুতর আহতদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে
২. অবিলম্বে আগুনে পুড়িয়ে শত শত শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী তাজরিন ফ্যাশনের মালিক, ব্যবস্থাপককে আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে
৩. তাজরিন ফ্যাশনসহ অন্যান্য দায়ী গার্মেন্টস মালিকের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে
৪. মালিক ও সরকারকে অবিলম্বে কর্ম ও আবাসস্থলে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য নিচ্ছিদ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারখানায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. চট্টগ্রামে ফ্লাই ওভারের গার্ডার ভেঙ্গে মৃত্যুর জন্য দায়ী ঠিকাদার কোম্পানি এবং সিডিএ কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার, বিচার-দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে

আয়োজনে:
মঙ্গলধ্বনি, প্রগতির পরিব্রাজক দল-প্রপদ, গণমুক্তির গানের দল, ল্যাম্পপোস্ট, ছাত্র গণমঞ্চ, জাগরণের পাঠশালা, বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ, ‍মার্কসবাদের প্রথম পাঠ, শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগার এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গ