ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯১৫ সালে তুরস্কে সংঘঠিত বিতর্কিত “আর্মেনিয়ান গনহত্যা” নিয়ে তুরস্ক এবং ফ্রান্সে’র মধ্যকার সম্পর্ক নাজুক অবস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যার মূলে রয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের পার্লামেন্টে উত্থাপিত হতে যাওয়া একটি বিল, যা পাস হলে ফ্রান্সে আর্মেনিয়ান গনহত্যা’কে অস্বীকার করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং সেইসাথে অস্বীকারকারী ব্যাক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তিস্বরুপ ১ বছরের সাজা ও ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধানের প্রস্তাব করা হচ্ছে। তুরস্ক বিলটির বিরোধীতা করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে নিয়েছে এবং সরকারী-বেসরকারী প্রতিটি পর্যায়েই এই বিলটির ফরাসী সংসদে উত্থাপিত হওয়া প্রতিহত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তুরস্ক সর্বশক্তি দিয়ে বিলটির বিরোধীতা করছে। ইতিমধ্যেই দেশটির সরকারী দল, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি দল বিলটি পাস হলে এর প্রতিক্রিয়ায় পারস্পরিক সম্পর্কে আসন্ন ক্ষতিসমুহ সম্পর্কে ফরাসী সরকারকে সাবধান করতে প্যারিস যাত্রা করেছে। তুরস্কের সংসদীয় পররাষ্ট্র কমিটি’র প্রধান ভলকান বজ্কির আশাবাদ ব্যাক্ত করেছে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংসদীয় পররাষ্ট্র কমিটি’র প্রধান এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে, ২২ ডিসেম্বর ফরাসী পার্লামেন্টে বিলটি’র উত্থাপন রোধ করা যাবে।

তুরস্কের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও বিলটি পাস হলে ফ্রান্স ও তুরস্কের বর্তমান শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্কে তার বিরুপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আশংকা প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের ব্যাবসায়ীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে।

তুরস্কের আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক সুশিল সমাজও এই বিলটির সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন যে, এই আইন পাস হলে বাকস্বাধীনতা ক্ষুন্ন হবে। যেসকল ইতিহাসবিদ এই ঘটনার গবেষনায় লিপ্ত আইনী বাধা থাকায় তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তাই তারা দাবী করেন ফরাসী সরকার যেন ইতিহাসকে ইতিহাসবিদদের হাতে ছেড়ে দেয় নয়তো অযথাই দুই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে’র মাঝে দ্বন্দ তোৈরী হবে।

এদিকে গতসপ্তাহে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতওলু তুরস্কে বিনিয়োগকারী বৃহত ফরাসী কম্পানীগুলোর নির্বাহীদের তার মন্ত্রনালয়ে একটি বৈঠকে ডেকে নিয়ে এই বিল পাস হলে তার প্রতিক্রিয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে হুশিয়ার করে দেন।

গত রবিবার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স’কে সতর্ক করে বলেন, এই বিল পাস হলে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং তুরস্ক তার রাষ্ট্রদুত প্রত্যাহার করাসহ একই উপায়ে উপযুক্ত জবাব দিবে। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, “আমরা নথি খুলে গবেষনা’র জন্য প্রস্তুত আছি, অতীতে ফরাসী উপনিবেষসম্পর্তিক সকল ঘটনার প্রতি আমরা মন্তব্য করা শুরু করবো, আমরা যদি ইতিহাস খুড়ে তুলতে বাধ্য হই তাহলে সম্পুর্ন ইতিহাসই তুলে আনবো”। তিনি মুলত আফ্রিকায় ফরাসী ঔপনিবেশ আমলের দিকে ইঙ্গিত করেন।

এদিকে সামরিক বাহিনী থেকেও অভিযোগ করা হয় যে শনিবার একটি সামরিক যন্ত্রাংশ বহনকারী ফরাসী বিমান তুরস্কের দক্ষিন উপকুলে ৩ মিনিটের জন্য আকাশসীমা লঙ্ঘন করে!

আর তুরস্কের সংসদের স্পিকার বলেন যে, ফ্রান্সের উচিত কান্ডজ্ঞান কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে ইতিহাস বিকৃতি’র চেষ্টা না করা, যাতে আগামীতে এরজন্য ভারী মূল্য পরিশোধে বাধ্য না হয়!

এছাড়াও গত সপ্তাহ জুড়ে এমনই তীব্র ভাষায় নানা পর্যায়ের সরকারী-বেসরকারী প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল কিন্তু এসবের প্রতিক্রিয়ার ফরাসী কর্মকর্তাদের ভাষায় মনে হচ্ছে তারা এইসব প্রতিবাদকে ফাঁকাবুলি হিসেবেই দেখছে!

তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট