ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি কারাগারে আট বছর বন্দী থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশি স্থপতি রশিদ আহমেদ ও তাঁর পুত্রবধূ নূর নাহার।ঘটনাটি অন্য আর দশটি ঘটনা থেকে আলাদা কারন এর সাথে জড়িত একজন মহান স্থপতির জিবনের মূল্যবান আটটি বছর যিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছের ভাস্কর্যসহ মুক্তিযুদ্ধের ওপর বেশ কিছু ভাস্কর্যের নকশা তৈরি ও নির্মাণ করেছিলেন ।গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিহার কারাগার থেকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগের ঘটনাটি বড়ই করুণ।যে কারনে (জাল টাকা বহনের অভিযোগে ) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল ছিল তা ছিল সাজানো, যদিও উক্ত অভিযোগে তাদেঁর সাত বছর জেল ও দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তাও মুক্তির কিছুদিন আগেই সাজা ঘোষনা হয়। আমাদের দুতাবাসের কর্মকর্তাদের অবহেলা আর অদক্ষতার জন্যই জিবন সায়ান্নে একজন মহান ব্যক্তিকে বাকি জিবন মিথ্যা অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে কাটাতে হবে।একই সময়ে দৃত দুজনের জামিন ২ বছর পরে হলেও একজন স্থপতি কে পুত্রবধু সহ আটটি বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে। আমাদের দুতাবাসের কর্মকর্তাদের অবহেলা যদি থেকে থাকে কোন পর্যায়ে তা কোন ভাবে ক্ষমা করা যায়না। কারণ এর সাথে দেশের মান মর্যাদাও জড়িত। গ্রেফতারের পর দুতাবাসের যে কর্মকর্তা তাঁহার সাথে দেখা করেছিলেন এবং বলেছিলেন তাকেঁ চিনতে পেরেছেন, অথচ মুক্তি ব্যাপারের কোন ব্যবস্থা নেয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি। সে কর্মকর্তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্থক্ষেপ কাম্য।

ভারত সরকার তাকে মুক্তি পূর্বে সাজার রায় দেয়ার উদ্দেশ্যটি পরিস্কার নহে। যেহেতু এর সাথে দেশের মর্যাদার প্রশ্নটি জড়িত তাই আমাদের সরকারের উচিত এব্যাপারে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া সত্যিই অভিযোগটি মিথ্যা এবং এর সাথে সাজাভোগকৃত ব্যক্তিগন জড়িত নহে এটি প্রমাণ করা। আর প্রয়োজনিয় ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া। আমি এব্যাপারে সকল মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পূণশ্চঃ ভারতের দিল্লির আশিষ সহ যে সকল ব্যবসায়ি ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে এ মহান স্থপতি ও তাঁর পূত্র বধুর মুক্তির ব্যপারে সহযোগিতা করেছেন এবং টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক ইন্দ্রাণী বসু তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল।দিক্কার জানাই ভারতের বাংলাদেশ হাই কমিশনকে যাদের অবহেলার জন্য মিথ্যা সাজা ভোগ করতে হল এক জন নিরাপরাদ ব্যক্তিকে।