ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শুধু লেখা-লেখি করে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে খুব বেশি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলতে একটা গঠনমূলক বা বাস্তবধর্মী বা কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তির একটা লেখাই যথেষ্ট, কিন্তু আমাদের দেশে এখনও গনতান্ত্রিক ধারার সেই প্রচলন শুরু হয়নাই বা বলাযায় একটু পিছিয়েই আছি এবং অনতিবিলম্বে শুরু হবে বলেও ধারনা করা সমিচিন হবে না। কিন্তু তাই বলে কলম তো আর থেমে থাকে না, গঠনমূলক বা বাস্তবধর্মী কিংবা কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অথবা প্রগতিশীল কোন বিষয়ের আলোচনা-সমালচনা হতেই থাকবে এবং গাঠনিক ও যুক্তিযুক্ত আলোচনা বা সমালচনা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও চিন্তাশীল ও যুক্তিবাদী ব্যাক্তিবর্গের কাছে তা সমাদৃত হয় এবং সমাজের সাধারণ মানুষ তা থেকে জ্ঞানঅর্জন করতেপারে যা তাদের পরবর্তী অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহনে ভুমিকা রাখে।

তবে লেখা ও বলার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকলেও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা অথবা প্রমাণ ছাড়া কারও বিষয়ে অনুচিত বলা ও লেখা থেকে বিরত থাকাই সমীচীন। ভাষা, অনুভূতি ও বল প্রয়গের সর্বক্ষেত্রেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ যাতে যৌক্তিকতা ছাড়াই কোন ব্যাক্তি/সংস্থা বা রাষ্ট্রের উপর কোন ধরণের আঘাত অথবা ক্ষতি সাধিত না হয়।

নাগরিক সুশাসনের প্রধান নির্ভরতা ‘পুলিশ প্রশাসন’ কে নিয়েই আমার বর্তমান অনুভুতির কিঞ্চিততোম বহিঃপ্রকাশ করতে যাচ্ছি যা আমার কাছে শুধুই আলোচনা ও অনুভূতির প্রকাশ কিন্তু অনেকের কাছে তা যুক্তিযুক্ত সমালচনা বলে গণ্য হলেও হতে পারে।

পুলিশ প্রশাসন  হল কোন দেশের ‘Organized Civil Force’ এবং যাদের কাজ হল সে দেশের আইন-কানুন কে রক্ষা করা ও তার প্রয়োগ করা অথবা প্রয়গে বাধ্য করা যা সম্পূর্ণ জনকল্যাণকর, পাশাপাশি জনকল্যাণ হিতকরন বা অপরাধকর কাজকে প্রতিহত করা এবং অপরাধিকে চিহ্নিত করে আইন এর হাতে সোপর্দ করা। অন্যভাবে বলতে গেলে জনগণের জন্য সুশাসনের ব্যাবস্থা করা।

এবং ব্যাক্তি ‘পুলিশ’  হল প্রশাসনেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যে মোটামুটি একই ধরণের দায়িত্তে ন্যাস্ত। তবে ‘প্রশাসন’ ও ‘ব্যাক্তি পুলিশ’ দুজনই সম্পূরক কাজে ব্যাবহৃত হলেও কিছুটা ভিন্ন। প্রশাসনের নির্দিষ্ট ‘চেইন অব কমান্ড’ এবং ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ আছে যেখানে কেউ কমান্ড দেয় এবং কেউ কমান্ড নেয়। কিন্তু প্রতিটি পুলিশ সদস্যকেই জবাবদিহি করতে হয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে। যাই হক সেটা বিস্তর আলোচনার বিষয়।

কিন্তু মিল হল “ব্যাক্তি পুলিশ” চাইলে “প্রশাসনের” সুনাম অথবা বদনাম করতে পারে তাদের কর্মের দ্বারা (যার নিকটতম উদাহরণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর গতবছরের রিপোর্ট) আর “প্রশাসন” চাইলে পুলিশ ব্যাক্তিটির সুনাম ও বদনাম করতে পারে তাদের আইন দ্বারা (যদি ব্যক্তি-পুলিশ আইন অমান্য করে বা বেআইনি কাজ করে তাহলে বদনাম বা শাস্তি আর ভাল কাজ করলে সুনাম বা পুরস্কার বা প্রোমোশন)।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর মতে গত বছর (২০১১ সাল) বাংলাদেশের সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা হল পুলিশ প্রশাসন। দেশের মানুষও হয়তো বিভিন্ন পত্রিকায় পড়েছেন বা টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখেছেন পুলিশের কিছু কিছু দুর্নীত বা ক্ষমতার অপব্যাবহার বা ব্যাক্তিগত শত্রুতার রেষ অথবা ঘুষের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা কেসের আসামি করার মত নেগেটিভ খবর। কিন্তু পজিটিভলি দেখলে দেখা যাবে সারাবছর হাজারো কিংবা লাখো কেসের মধ্যে নিতান্তই গুটিকয়েক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কিংবা প্রমাণ মিলেছে, তাই যেহেতু আমরা ভাল খবর গুলতে একটু কম আকর্ষিত হই তাই খারাপ খবর গুল গ-গ্রাসে গিলি এবং চতুর্দিকে দেশ গেল দেশ গেল রব উঠে যায়।

দুর্নীতির সাখা-প্রশাখা সব সংস্থার উপশিরায় অতিতেও ধাবিত হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে (এটা নিয়ে আগেও আমার অন্য লেখাগুলতে লিখেছি), তবে কোনটাতে কম আর কোনটাতে বেশি। তবে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্বে যারা নিয়োজিত, যাদেরকে ভরসার স্যুইটকেস অর্পিত করে আমরা ঘুমাই, যাদের উপর আমাদের জান-মাল এর নিরাপত্তার দায়িত্ব, সর্বোপরি যাদের উপর আমাদের জনজীবন নির্ভরশীল তাদের দারা সংগঠিত কোন খারাপ কাজ বা অন্যায় বা দুর্নীতি দেখলে বা শুনলে কষ্ট বা ক্রোধের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। ভালোবাসার মানুষ যেমন অল্প কষ্ট দিলেও তার গভীরতা আমাদের কাঁদায় পক্ষান্তরে অন্যের দারা প্রাপ্ত ঘা আমারা চুলকানি হিসেবেই ধরে নেই।

তাই অন্য সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারিদের দারা বিপুল ক্ষতির হিসাবের খতিয়ানও আমাদের কাছে ব্যালেন্সসিটের সূক্ষ্ম ভুলবলেই ধৃত হয়।

আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারি কোন সংস্থাই পুরপুরি নির্ভার বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনা তেমনি পুলিশ প্রশাসনও পারেনা বলেই মনেকরি। তাই রাজনীতিমুক্ত প্রায় ৯০% সাধারণ কেসের ক্ষেত্রে যদি তাঁরা নিরপেক্ষতার পরিমান কিছুটা বর্ধিত করেন তাহলে জনগণের বিশ্বাসের ক্ষেত্রটা বহুলাংশে বেড়ে যাবে যা পুর প্রশাসনের উপর আমাদের বিশ্বাসের নড়বড়ে ভিতটাকে কয়েকগুণ মজবুত করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

প্রশাসনের সুশৃঙ্খল নিয়ম-কানুন মেনে দেশের সেবা তথা দেশের মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই যদি প্রত্যেকটি সদস্য তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন তবে সাধারণ মানুষের স্রদ্ধার সর্বচ্চ শৃঙ্গে তাদেরই পথচলা থাকবে। সারাদিন একজায়গায় দাড়িয়ে প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টি উপেক্ষা করে যখন দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তখন কাছে গিয়ে একটু পানি পানকরানোর ইচ্ছা জাগে কিন্তু যখন পত্রিকায় তাদের কে নিয়ে নেগেটিভ খবর পড়ি বা দেখি বা আমাদেরি চারপাশে তাদের দারা সংগঠিত কোন অনিয়ম কিংবা অত্যাচার দেখি তখন দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে যাই যা ওই ভালবাসার মানুষটির কাছ থেকে দুঃখ পাওয়ার মতই।

আমরা যেমন বিপদে বা প্রয়োজনে আপনাদের কাছে ছুটে যাই তেমনি সুখের সংবাদ দিতেও যেতে চাই। গনতন্ত্রের পূর্ণতা আপনাদের নিরপেক্ষতাতেই।

পরিশেষে এটুকু বলব যে দেশ ও দেশের জনগনের জন্যই পুলিশ প্রশাসন। আপনাদের ভাবমূর্তি উন্নত করার সঠিক সময় এখনই।

প্রথম লেখাঃ ১৯সেপ্টেম্বর২০১২, পূর্বাহ্ণ ০৯:৫৪

পরিমার্জিত ঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি ১০ঃ১৬