ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমি মনে মনে একটা পণ করেছি, একজন কে হত্যা করব!
আপনারা তো এবার প্রশ্ন করবেন কাকে? তাই না?

উত্তরে আমি বলব very Intelligent question. এই ধরনের প্রশ্ন সচরাচর সবাই করতে পারে না।
আবার এটাকে খুব সাহসী question-ও বলা যায়। কারণ, আমি একটা কথা বললাম আর ওমনি আপনারাও আমার মুখের মধ্যেই ঠাস করে প্রশ্নটা করে ফেললেন, এটা কি সাহসের পরিচয় নয়? এই সাহস কয় জনে দেখাতে পারে বলেন?

আর Intelligent বললাম কেন? আরে ভাই আমাদের দেশে বড় বড় সচিব রা এই ধরনের question করে জানেন? যেমন madam (আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) আমি কি পদত্যাগ করবো? একেবারে সরাসরি প্রশ্ন। প্রশ্নটি কার নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। আমাদের স্বনামধন্য সচিব মসিউর রহমান সাহেবের (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান যাকে সরানোর জন্য বিশ্ব ব্যাংক সর্ত আরোপ করেছিল এবং উনি ছুটিতে যেতে চাচ্ছিলেন না)। তাহলে কি আমি ঠিক বলেছি না?

এবার একটু ছন্দপতন করি লেখার মধ্যে, ব্যক্তিত্ব পুরুষ বা মহিলা সবারই আলাদা আলাদা থাকে, এটা ছাড়া মনেহয় মানুষ হয় না (যদিও গত কয়েক বছর অনেকগুলো ব্যক্তিত্ব ছাড়া মানুষ দেখলাম)। কেউ একটু উঁচু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন আবার কেউ একটু নিচু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়। কিছু মানুষ আছে যারা এই চিরাচরিত কথাটিকে ভুল প্রমানিত করে ‘ব্যক্তিত্ব শব্দটি’ ছাড়াই মহান তবীয়তে জীবন যাপন করতেছে (এদেরকে কু ব্যক্তিত্ব সম্পন্নও বলা যেতে পারে) এবং মজার বিষয় হল কিছু ‘ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন’ মানুষ এদের তাঁবেদারিতে নিজের ব্যক্তিত্বটুকু জলাঞ্জলি দিচ্ছে। তবে আমি মানি আর না মানি আপনারা নিশ্চয়ই মানবেন যে এই ‘ব্যক্তিত্ব’ ছাড়া মানুষ গুলো অনাকাঙ্খিত ভাবে আমাদেরদেশে রাজনীতি পেশার সাথে বেশি জড়িত।

যদিও সমাজ সেবার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বিশেষ প্রয়োজন হয়না কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা (অবশ্যই সবাই নয়, কিছু মানুষ এখনও ভাল কাজ করে বলে দেশটা দাড়িয়ে আছে) সমাজসেবার নামে নিজেদের ও তাদের ফ্যামিলির সেবা দিয়েই তাদের নরমাল ও এক্সট্রা ডিউটি শেষ করতেছে এবং এই নরমাল ও এক্সট্রা ডিউটির টাকা আবার আমাদের কাছ থেকেই সুদে-আসলে বুঝে নিচ্ছে।

আমরা যে যেখানে যেভাবে পারতেছি সে সেখানে সেভাবেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তেছি। ‘১ টাকা থেকে ইনফিনিটি’ সময়-কাল-পাত্র ভেদে, আগে শুধু সরকারি অফিসগুলোতে হত এখন আরও বেশি হয় কিন্তু এর গণ্ডি এখন প্রাইভেট অফিস থেকে শুরু করে ফ্যামিলি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এটাই এখন আমাদের প্রধান সমস্যা, তাই এত ক্ষমতার লভ !এত দম্ভ !

আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতিটাকে গোলা ধাক্কা দিয়া যদি দেশ ছাড়া করতে পারি তাহলে আমাদের উন্নতি তরান্বিত হতে খুব বেশি সময় লাগবেনা। কিন্তু আমরা অসহায় সবি দেখতেছি ও শুনতেছি কিন্তু কিছুই করতে পারতেছিনা, কারণ- আমরা জন্মসূত্রে দুর্নীতিবাজ, জন্মের সময় হাসপাতাল থেকে শুরু তারপর ইস্কুল-কলেজ- ভার্সিটি- চাকুরী বা বেবসা এমনকি অবসরের পেনশনের তাকাটাও নিতে দুর্নীতি করতে হয় অথবা করাতে হয়। আমার তো মনেহয় এমন ১ টি মানুষও আমাদের দেশে পাওয়া যাবেনা যে দুর্নীতির সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত না বা জড়িত হয়নাই (এটা হতে পারে নিজে করে বা অন্যকে দুর্নীতির সহায়তা করে বা দেখে বা বিশেষ সুবিধা নিয়ে)। তাই এবার অন্নরকম কিছু করতে হবে। ‘দুর্নীতিকে’ এবার ‘হত্যা’ করতে হবে।
কিভাবে করবেন? আরে “স্যার” আমি নিজের দুর্নীতিকে “খুন” করতেছি আর আপনি আপনার টা করেন। তাহলেই হবে। এমনকি আপনি অন্যকেও উৎসাহিত করতে পারেন। তাহলে কাজটি আরও সহজ হয়ে যাবে।

আসুন আমরা সবাই খুনি হই এবং অন্যকে খুনি হতে উৎসাহিত করি ! ! !