ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু লিখবো অনেকদিন ধরেই ভাবতেছিলাম কিন্তু সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আজ যখন একটু সময় পেলাম তাই মনের কথা গুলো কাগজে না আনা পর্যন্ত অস্থির লাগতেছিল।

আমাদের দেশে ৩১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ২টা স্পেশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ওপেন ইউনিভার্সিটি), সর্বমোট ৩৩ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাশাপাশি ৫২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ২টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic University of Technology & Asian University for Women) সর্বমোট ৫৪ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ গুলো এবং ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি সর্বোপরি প্রতি বৎসর হাজারো ছেলে-মেয়ে তাদের পড়ালেখা শেষ করে চাকুরী প্রার্থী হচ্ছে (সরকারি বেসরকারি সব নিয়ে এবং গ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট সহ) বা বেবসা বাণিজ্য করতেছে। সব মিলায়ে শিক্ষিতের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে এটা অবশ্যই দেশের জন্য শুভ লক্ষণ। শিক্ষিতের হার যতই বাড়বে দেশ ততো উন্নতি সাধন করবে এটাই স্বাভাবিক।

একটা ভাল কাজের বিপরীতে কিছু মানুষ ওটা নিয়ে খারাপ কথা বলে, এটা সব ধরনের কাজের বেলাই ঘটে (কারণ ভালটা সবাই সহ্য করতে পারেনা)। তাই আমিও কিছু নেতিবাচক দিক দেখতেছি এবং আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেছি। আমাদের দেশ এ যেগুলো ভাল বিশ্ববিদ্যালয় বলে আমরা জানি ও মানি আজ প্রায় প্রতিটা (প্রায় বললাম কারণ বাকিগুলোর খারাপ খবর এখন পেপার-পত্রিকায় ছাপায় নাই) বিশ্ববিদ্যালয়েই সমস্যা! কোনটাতে প্রশাসনে সমস্যা (শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বা ভিসি নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি), কোনটাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল দ্বন্দ্ব, কোনটাতে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ সর্বোপরি ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ এবং এগুলো সাধারণ কোন সংঘর্ষ বা লড়াই বা সমস্যা নয়, জীবন-মরণের যুদ্ধ! ক্ষমতার দাপট দেখানোর লড়াই, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই!

আজ আমাদের বাবা-চাচারা বুঝি বসে বসে সুখি হচ্ছে এই ভেবে যে- ছেলেরা বড় হয়ে গেছে। আজ ওরা নিজেদের ভাল মন্দ বুঝতে শিখেছে। নিজেদের উন্নতির জন্য জীবন পর্যন্ত হুমকির মুখে রাখতেছে! এক তারা ছিল যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের জন্য স্বাধীন ও অবলীলায় বিচরণ যজ্ঞ ভুমির জন্য তাদের জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, আর আজ আমরা তাদেরই উত্তরাধিকার নিজেদের জীবন বাজি রাখতেছি বা জীবন কেড়ে নিচ্ছি নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য, ক্ষমতা দেখানোর জন্য, বড়ভাইদের খুশি করার জন্য। হায় রে ক্ষমতা তর রঙ বুঝলাম না! এটাই বুঝি যুগের পরিবর্তন!

“ছোটবেলায় শুনতাম আমরা শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির উন্নতি করবো বা উন্নতিতে ভুমিকা রাখব। শিক্ষক রা বলতেন বাবারা তোরা শুধু চাকুরির জন্য পড়িস না, মানুষ হওয়ার জন্য পড়ালেখা কর”।

আজ বুঝি আমাদের শিক্ষক মশাই রা এরকমটা আর বলেন না, এখন বুঝি বলেন বাবারা তোরা মানুষ হয়ে কি করবি? ভাল শিক্ষা অর্জন করে কি করবি? পড়ালেখা কর তোর জন্য! ক্ষমতার জন্য! টাকার জন্য! মানুষ হয়ে তোর পেট ভরবে নাকি? তাই বুঝি আমরা কলেজ-ভার্সিটিতে টাকা ইনকাম এর জন্য ভর্তি হই। দাপট দেখানোর জন্য ভর্তি হই (অবশ্যই সবাই না বা বেশিরভাগই না, কারণ সবাই ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত নয় বা জড়িত হলেও গুন্ডামি/মাস্তানি/ক্ষমতার দাপট এগুলো দেখায় না)।

ছাত্র রাজনীতি কে আমি কখনই খারাপ বলি না। আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। কিন্তু কষ্ট পাই যখন শুনি আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেছে, দুঃখ পাই যখন দেখি এক ছাত্র আরেক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে বা পঙ্গু করেছে, বিষণ্ণতায় ভুগি যখন শুনি ছাত্ররা মেয়ে নিয়ে হস্টেলে থাকতেছে, ভয় পাই আমাদের আগামি দিনের ভয়াবহতার কথা ভেবে!

ছাত্ররা শিক্ষিত হয়ে দেশের কাণ্ডারি হবে, দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবে, নিজেরা মানুষ হবে এবং অন্যকে মানুষ হতে সহায়তা করবে এটাই নিয়ম। এভাবেই আমাদের সিনিয়ররা গেছে আমরাও যাব। কিন্তু কেন এই নির্লিপ্ততা ? কেন এই অহমিকা ? কেন এই ক্ষমতার দম্ভ ? কেনই বা খুনি হওয়া ?

আমরা তো একতাই জাতি, আমরা তো একই সমাজ, আমরা তো একই ভাষার কাণ্ডারি, আমাদের তো সবার সমান অধিকার। তাহলে কেন আমরা বেশি ক্ষমতাবান হওয়ার লড়াইয়ে ধাবমান? স্রোতের বিপরীতে কেন আমাদের যাত্রা, যেখানে সমকুলে স্পষ্ট পথ?

পরিশেষে আমি দৃঢ়তায় বলতে চাই- ছাত্ররাজনীতি (ছাত্রদল/ছাত্রলীগ/ছাত্রশিবির) যারা নিয়ন্ত্রণ করেন আপনারা এর দ্বায় থেকে মুক্তি পাবেন না। কোন কল হারা মায়ের ক্রন্দনরত আঁখি আপনাদের দিকেই তাকিয়ে জল মুছতেছে, তাদের ধিক্কার আপনাদের দিকেই। শিক্ষার আস্থাচলে এহনও ফায়দা লোটার পাঁয়তারা এই দেশের মানুষ মানবে না। লাগাম ছাড়া ঘোড়ার লাগাম এই দেশের মানুষ একদিন না একদিন টানবেই। আপনারা নিজেদের স্বার্থে ব্যাবহার করে আমাদের ছাত্রদের মানুষ থেকে পশুতে আর রুপান্তর করতে পারবেন না। আজকের হিংস্রতা কাল আপনাদের জন্যই।