ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

kejriwal

“Common Man’s Party”  বা হিন্দিতে “আম আদমি পার্টি (এএপি)”-র প্রতিষ্ঠাতা আরভিন্দ কেজরিওয়াল কে এখন ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশ ছাড়াও সমগ্র পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষই চেনে ও জানে। কেজরিওয়াল সাহেব ২০১২ সালে আম আদমি পার্টি তথা এএপি প্রতিষ্ঠার পর এত দ্রুত দিল্লির মত মেগাশহরের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন এটা উনি নিজেও কল্পনা করেছিলেন বলে দৃঢ়ভাবে বলা কঠিন। কিন্তু দ্বিতীয়বারের মত বাস্তবতা আমাদের সামনে এবং কেউ কল্পনা করুক আর নাই করুক কেজরিওয়াল সাহেব দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। গত ২০১৩ সালের শেষের দিকে উনি প্রথমবারের মত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ৪৯ দিন ক্ষমতায় থাকার পর নিজে থেকেই পদত্যাগ করেন। আমি তার পদত্যাগের কারন আর অনুসন্ধানে গেলাম না (লেখার পরের অংশে যা সহজেই আপনাদের অনুমানযোগ্য হবে)। কিন্তু একটা সাধারন মানুষ এত অল্পসময়ে বিপুল জনগণের আস্থা অর্জন করে ক্ষমতায় আশার পেছনে অনেকগুলো দৃশ্যমান কারন রয়েছে-

দুর্নীতি শব্দটির সাথে আমাদের একটু বেশিই পরিচিতি (আমার অন্য আরেকটি লেখার মধ্যে কিছুটা বর্ণনা দিয়েছিলামঃ (http://blog.bdnews24.com/Razwanul/124080) তবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশও দুর্নীতিতে আমাদেরমত ‘পি এইচ ডি’ না করলেও ‘গ্রাজুয়েশন’ তো অবশ্যই করেছে এবং আমাদের মত ভারতের জনগণও দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ চায় এবং কেজরিওয়াল সাহেব ভারতের ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট এ জয়েন্ট কমিশনার থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি/ রাজনৈতিক ক্ষমতাবান ব্যাক্তিদের রাতের ঘুম হারাম করে দুর্নীতির সাথে আপোষহীন বক্তব্য ও কাজের জন্য সরকারিভাবে পুরস্কার প্রাপ্তি এবং এ এ পি গঠনের পূর্বথেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দেশটির মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করে এবং দ্রুত থেকে অতি দ্রুততার সাথে তা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ভাবে ছড়াতে থাকে এবং তাকে রাতারাতি একজন আইডল হিসাবে  প্রতিষ্ঠিত করে যা তার দলের জয়ে অন্যতম প্রধান কারন।

যেকোনো বড় ধরণের পরিবর্তন বা আন্দোলনের শুরুতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কিন্তু একবার পরিবর্তনের ঝড় শুরু হলে তা অভীষ্ট লক্ষে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলতেই থাকে (বড় পরিবর্তন বা আন্দোলনের রক্তিম সাক্ষী আমাদের বাবা-দাদারা এবং আমাদের জাতির সবথেকে গর্বের জায়গাও এখানেই। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ যা আমাদেরকে জাতি হিশেবে গর্বিত করে) এবং আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি ভারতের এই দুর্নীতি বিরোধী ঝড় এক কেজরিওয়াল সাহেব বা আম আদমি পার্টি না থাকলেও আগামী সময়ও সুপ্রতিম ভাবে ধাবমান হতে থাকবে।

আমাদের দেশেরও অন্যতম প্রধান সমস্যার নাম দুর্নীতি যা দিনে দিনে শেকড় থেকে শিখরে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপিত হয়ে কয়েকতলা উপরে উঠেছে এবং এর ব্যাপ্তি ক্রমেই ভয়ানক ভাবে জনসমাজের মাঝে ক্যান্সারের ন্যায় ছড়িয়ে পড়তেছে।

আমাদের দেশ যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে – দুর্নীতির ডাল-পালাও তার থেকে ১০০ গুন বেশি গতিতে বেড়েই চলেছে, ক্ষমতাবানরা নিজে অথবা ক্ষমতাবানদের ছায়ায় বা পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিবাজরা মহা ধুম-ধাম ও শোরগোল পাকিয়ে দুর্নীতিতে নেমে পড়তেছে এবং সরকারের প্রতিটি প্রতিস্থান/সংস্থা – হক সেটা জনগণের জান-মাল রক্ষায় অথবা সরকারকে রক্ষার, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বা বিদেশে ভাবমূর্তি রক্ষার সবখানেই দুর্নীতির মহা আগ্রাসন।

কবিতার ছন্দে লিখলে – “যাদের হাতে দুর্নীতির গতিরধ করার দায়িত্ব ন্যাস্ত – তারাই আজ দুর্নীতির মহাভোজে ব্যাস্ত”।

তাই আমাদের দেশে দুর্নীতির ব্যপ্তি ঠেকাতে একজন কেজরিওয়াল সাহেবের উত্থান হলেই হবে না। অন্তত ৩ জন লাগবে।

প্রথমজন – ইতিমধ্যেই যারা দুর্নীতি করে ব্যাংক-ব্যালেন্স, বাড়ি-গাড়ি, নামে-বেনামে সম্পত্তি করেছে এবং ভুলেই গেছে যে সবকিছু দুর্নীতি করে এবং সাধারণ মানুষের পকেট কেটে করা তাদের খুঁজে বেরকরে ন্যায় বিচারের মুখমুখি করবেন।

দ্বিতীয়জন- বর্তমানে যারা বিভিন্নভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত – সরকারি/আধা-সরকারি/সায়ত্তসাশিত/বে-সরকারি ইত্তাদি সংস্থায় বনভজন করে আমাদের রক্ত শুষে খাচ্ছেন এবং আমাদের ভাবতে বাধ্য করছেন যে নিজেদের দেশে আমরা পরবাসী তাদের ধরে ধরে আমাদের সম্মুখে বিচার করবেন এবং পরিশেষে…

৩য়জন – দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে বা দেশে আকাম-কু-কাম করে পালিয়ে গিয়ে যারা অন্যান্য দেশে স্থায়ী বশত গড়েছে (অনেকে পাসপোর্ট ও পরিবর্তন করে ফেলেছে) বা অন্যদেশে গিয়ে ভুলেই গেছে বাংলাদেশ নামে একটা রাষ্ট্র আছে এবং তাদের সবটাকাই এ দেশের মানুষের তাদের ধরে এনে বিচার করবেন।

আশাই আমাদের সামনে চলার পাথেয়…