ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

ছোটবেলায় গ্রামে বড় হওয়ার দরুন প্রকৃতির ওপার সৌন্দর্যে বেড়েওঠার সুযোগ হয়েছিল। কাঁচা রাস্তায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার হেটে স্কুল এ যাওয়া, চৈত্র মাসে রোদের প্রখরতায় ঘেমে লাল হয়ে নলকূপের পানি অথবা পুকুরের পানি পান করা। বর্ষাকালে কাদার মাঝে খালি পায়ে হেটে হেটে দুই পায়ের আঙ্গুলের মাঝে ঘা করে ফেলা এবং পরে খাঁটি সরিষার তেলের সাথে হলুদগুড় মিলিয়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে সেরে ওঠা। সারাদিন রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে মার্বেল/দলছুট/কাবাডি ইত্যাদি খেলাশেষে রাতে বাড়ি ফিরে বাবা-মার বিচারের সম্মুখীন হওয়া। চাষআবাদি জমিতে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার মাঠ বানিয়ে পাড়ার সব ছেলেপুলেকে নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে খালি পায়ে খেলে পায়ের আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলা এবং ভয়ে কাউকে কিছু না বলে বেথা পায়ে কষ্ট করে হেটে চলা। নিজেকে গ্রামের সব আম ও জামগাছের মালিক মনেকরে ইচ্ছেমত আম/জাম চুরি করে সবাইকে বিলিয়ে দেওয়া। আইছক্রিম কিংবা কটকটির ঘণ্টা বাজলেই টাকা/পয়সা না থাকলেও চুরি করে কিনে খাওয়া। গ্রামের সব পুকুর/খাল-বিলে ঝাকি জাল বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা। সবকিছু মিলিয়ে পারফেক্ট গ্রামীণ জীবনের মজাটুকু চুমুকে চুমুকে পান করে এবং দুঃসাহসী জীবনের মজবুত ভিত স্থাপিত করে বেড়ে ওঠা।

গ্রামীণ জীবনের পূর্ণ মজাটুকু হয়তো এখন আর কেউ সেভাবে পাচ্ছেন না কারন যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রামীণ পটভূমিরও অনেকটা পরিবর্তন লক্ষণীয়, আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রত্যেন্ত গ্রামেও আজ নাগরিক সুবিধার অনেকগুলো উপকরণ লক্ষণীয়। টিভিতে ডিস লাইন সংযোগ, হাতে মোবাইল, ঘরে কম্পিউটার তথা ইন্টারনেট সংযোগ এখন প্রায় সব গ্রামেই বিদ্যমান।

দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিষয়াদির উপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক। উন্নতির শিখরে যেতে হলে শিকড়কে যতটুকু সম্ভম সক্ত-পক্ত করেই এগুতে হবে অন্যথায় নড়বড়ে ভিতে ঝড় হাওয়ায় সব ফিকে হয়ে যেতে পারে।

অনেকেই বিভিন্ন দেশ বা শহর ঘুরে এসে বা টি ভি চ্যানেলে সুন্দর সুন্দর শহরের মনরম পরিবেশ এবং রাস্তাঘাট দেখে আমাদের “ঢাকার” সাথে তুলনা করেন এবং নিজে নিজেই বকা-বকি করেন হায় আমরা কোথায় বাসকরি!

উন্নত নাগরিক সুবিধার যতগুলো সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন যেমন – নাগরিক চলাচলের উন্নত ও যানজটমুক্ত রাস্তাঘাট, পরিকল্পিত নগরায়ন, আধুনিক স্থাপত্য, বসবাসের উন্নত পরিবেশ, পড়ালেখার উন্নত পরিবেশের সাথে উন্নতমানের স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটি, সুষম খাদ্দ্যের নিশ্চয়তা ও সর্বোপরি নাগরিক নিরাপত্তা।

এগুলোর খুব কম সুবিধাই আমরা পেয়ে এসেছি কিংবা পাচ্ছি অথবা কোনটিও পুরোপুরি পাইনি, নগর পরিকল্পনাবিদগণ এবং রাজউক যতই বলুক ঢাকায় প্রয়জনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বসবাস করছে কিন্তু এর সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ বা দীর্ঘ প্ল্যান আমরা নিতে দেখতেছিনা এবং পূর্বেও নেয়া হয়নি তাই এখন সমস্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনও যত্রতত্র আবাসন গরে উঠতেছে। রাস্তাঘাট সঙ্কীর্ণ হচ্ছে-খেলার মাঠ দখল হয়ে যাচ্ছে- অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন চোখে পরলেও তা প্রয়জনের তুলনায় অতি অপ্রতুল। একটি পদক্ষেপ আমাদের মনে আশার সঞ্চার করেছিল – DAB = DETAIL AREA PLAN (http://www.rajukdhaka.gov.bd/rajuk/dapHome) যেখানে মোটামুটি সুন্দর একটি পরিকল্পনা ছিল বা আছে কিন্তু কতগুলো অদৃশ্য কারনে তা এত ধিরগতি নিয়ে এগুচ্ছে (নাকি বন্ধ হয়ে আছে সঠিক জানা নাই) যে আমাদের জীবদ্দশায় এর সুফল পাব বলে মনেহচ্ছেনা।

পৃথিবীর বহু দেশ নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পুরাতন সহরগুলোকে বাসযোগ্য ও আধুনিক করে তুলতেছে এবং নতুন সহরগুলোকে তো আরওগুছিয়ে এবং আধুকভাবে নাগরিক সুবিধার সব উপকরন দিয়ে সাজিয়ে রাখতেছে রিজার্ভ বেঞ্চের মত যাতেকরে ভবিষ্যতে বসবাস করা যায়। তাই আমরা কথায় আছি !!

মানুষের আয় হয়তো বেড়ে চলেছে, দেশের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও মোটামুটি হচ্ছে, গ্রামীণ পটভূমির আধুনিকায়নও হচ্ছে, শিক্ষার হার তো বহুগুণে বেড়ে চলেছে (মানদণ্ডে গেলাম না), কর্মক্ষেত্র প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভাটেরও নির্মাণ হচ্ছে সর্বোপরি মানুষের গড় আয়ুও বেড়েচলেছে কিন্তু এতকিছুর পরেও বসবাসের জন্য মানুষ শহরমুখি এখনও প্রতিদিন অশঙ্খ মানুষ ঢাকায় এসেই চলেছে যার গতিরোধ করতে পারাটাই উন্নত সমাধান।

এবং অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি ঢাকাকে আধুনিক, বাসযোগ্য এবং নাগরিক সব সুবিধার নুন্নতম উপকরণ দিয়ে ঢেলে সাজাতে না পারলে অন্যান্য সব উন্নয়নই ভেস্তে যাবে। ঢাকাকে উন্নত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে দেখা ও বসবাস করার স্বপ্ন শুধু ঢাকায় বসবাস করা পনেদুইকটি মানুষেরই নয় এ স্বপ্ন পুর দেশের। আমরা বর্তমান প্রজন্ম হলাম পুরাতন সপ্নের নতুন ধারক ও বাহক যা পুরন না হওয়া পর্যন্ত একজন থেকে আরেকজনের মাঝে মৃদু হাওয়ার ন্যায় বইতেই থাকবে।