ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

হে বিবেকহীন ভাই-

তোমাদের কে ঘৃণা ও ধিক্কার জানানোর,

ভাষা আর আমাদের অবশিষ্ট নাই।

— ১লা বৈশাখে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও নিকৃষ্ট বিবেকবোধ ও রুচিবধের মানুষেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ার মধ্যে যে জঘন্য কাজ করেছে তাদের কিভাবে সংজ্ঞায়িত করব বুঝে উঠতেছিনা। তাদের হীন ও আত্মতাড়িত ঘৃণ্য ও নারীখেকো, নারীপিপাসু, সর্বদা লোলুপ কু-দৃষ্টিসম্পন্ন বলবো না নিছকই বখাটে বলে দায়সারবো।

তবে আর যাই বলি তাঁরা যে উচ্ছৃঙ্খল ও সমাজভিরু  জীবনের অধিকারী এটা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত।

বারবার বিকৃতরুচির কাজ গুলো একই এরিয়ায় ঘটে চলেছে কেন? এতে করে কি কেউ কোন মেসেস দিচ্ছে দেশের সবাইকে,  নাকি কাকতালীয়!

কোন কিছু ঘটলেই প্রতিবারের মত এবারেও দেখলাম সরকারে নিযুক্ত মন্ত্রীগণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ দায়সারা ও মনগড়া ভাষণ দিয়ে চলেছেন। এটা অমুক দলের কাজ! উমুক গোষ্ঠীর কাজ! এভাবে আর কত?

প্রতিবারের ন্যায় এবারেও প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর হুকুমের জন্য অপেক্ষা করতেছেন না নিজেরাই স্বপ্রনদিত হয়ে তাদের ধরার ব্যাবস্থা করতেছেন তাও পুরোপুরি পরিষ্কার না। কারণ একটা জনবহুল, নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এতগুলো মানুষ একসাথে ঘৃণ্য কাজটি করলো এবং এখন পর্যন্ত কেউ সনাক্ত হলনা এটা কিভাবে মানা যায়!

পরিষ্কার ভাষায় বলতে গেলে আমাদের প্রশাসনের সিকিউরিটিতে সমস্যা আছে, দায়িত্ব পালনের নাম করে পুলিশ সদস্যরা খোশগল্পে ব্যাস্ত থাকেন অথবা অন্য কিছু করেন অথবা এই ঘটনায় তাদেরও সংশ্লিষ্টটা রয়েছে – তাছাড়া এটা ২০ বছর আগের বাংলাদেশ নয় যে জনসম্মুখে এধরনের ঘটনা ঘটবে আর কেউ তাদের ধরতে সহায়তা করবেনা বা সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে দিয়ে হাতিয়ার উঁচিয়ে চলে যাবে এবং ভয়ে পুলিশও কিছু বলার সাহস পাবে না।

প্রতিটি ঘটনায় প্রায় একই ধরণের বক্তব্য দেখা যাচ্ছে যা নাগরিক সুশাসনের উপর বড়ধরণের  নেগেটিভ প্রভাব ফেলতেছে। এভাবে আর কতদিন চলবে? আমরা কি সুশাসন চাই সুশাসন চাই বলেই গলা ফাটিয়েই যাব? নাকি কোন একদিন সুশাসন পাব?

সিকিউরিটি ক্যামেরায় নাকি অনেক ফুটেজ পেয়েছেন এবং ফুটেজের ভিত্তিতেই অপরাধী সনাক্তকরনের কাজ করতেছেন, তাহলে কি আমাদের পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি সিকিউরিটি ক্যামেরা নির্ভর হয়ে গিয়েছেন? এটা কি তাদের দায়িত্ব অবহেলার মধ্যে পড়েনা? আমাদের আর কত বোকা হতে হবে?

— ১লা বৈশাখের উৎযাপন নিয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন, যেহেতু সুস্থমানুষ সবাই চিন্তাশীল এবং যে যার নিজস্ব বিবেক বুদ্ধি, চিন্তাবৃত্তি, ধর্মীয় উনুভুতি, পারিবারিক অবস্থান, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি থেকে চিন্তা করে থাকেন তাই এটার সাথে দ্বিমতপোষণ করতেই পারে এবং এটাতে খুব বেশি খারাবের কিছু আছে বলে মনে হয়না এবং অবাঙ্গালি হয়ে যাওয়ার কোন কারণও নাই। কারণ আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও ১লা বৈশাখের উৎযাপন এত বেশি পরিমানে ও এত বেশী মানুষের সমাগমে হত না কিন্তু দিনে দিনে বাঙ্গালীরা নিজস্ব স্বকীয়তায় এবং নিজস্ব ঢঙ্গে এটা উৎযাপন করে চলেছে এবং এটা বাঙ্গালীর মহা উৎসবে পরিণত হয়ে গেছে।

তাই দ্বিমত পোষণ করা মানুষজনও এখন ১লা বৈশাখ এলেই পান্তা ইলিশ খুঁজে বেড়ায় যা তাদের বাঙ্গালী সত্ত্বারই বহিঃপ্রকাশ।

পরিশেষে – এই হিংস্র, অমানবিক, মা-বোনদের ওশ্রদ্ধা কারি, বিকৃত রুচি ও মানসিকতা ও হীন উদ্দেশে যারাই করে থাকুক, তাদের দ্রুত ধরে বিচারের মুখমুখি করা হক।

উৎসবের রঙে তাঁরা শুধু আমাদের বোনদেরকেই বিবস্ত্র করে নাই- তাঁরা আমাদের বিবেক কে, সামাজিক সম্প্রীতি কে, আমাদের নৈতিকতা কে, বাঙ্গালিয়ানার চেতনাকে বিবস্ত্র করেছে।

এধরনের যৌনসন্ত্রাস কারিদের শিকড়সহ উৎপাটন করতে পারাটাই হবে এবারের ১লা বৈশাখে প্রশাসনের পক্ষথেকে দেশের মানুষের প্রতি, দেশের সব নারীদের প্রতি পক্ষান্তরে নিগৃহীত বোনদের প্রতি অমূল্য উপহার।