ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গনতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক চর্চা শব্দগুলো ব্যাবহারের মধ্যে থেকেও কেন জানি অপরিচিত মনে হচ্ছিলো, আগাগোড়ায়  পূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করেও মনেহচ্ছিল এই গনতন্ত্র বুঝি আমাদের না। গনতন্ত্রের যে ভাষার কথা আমরা পুস্তক – পত্রিকায় পড়ে থাকি, টকশো গুলোতে শুনে থাকে, বিদেশি মিডিয়ায় দেখে থাকি তা থেকে আমরা যেন অনেক দূরে। মনেহয় যেন আমাদের হাতেই তৈরি কিন্তু ছুঁয়ে দেখার বা অনুভব করার অধিকার আমাদের নাই। সবাই সবার মণ্ডপাত করে চলেছে, অকথ্য ভাষায় কথা বলেচলেছে, সবদলই বিপক্ষদল কে যত খারাপ বলে পারা যায় ততোই যেন উপকার। এই সংস্কৃতি যুগে যুগে যেন মহিরুপ ধারণ করতেছিল, কিছু শিক্ষিত – মার্জিত নেতৃত্ব দেখেছি, শালীন ভাষার প্রয়োগ দেখেছি কিন্তু তাঁরা যেন পেরে উঠতেছিলনা অপ্রায়গিক- অপ্রাসঙ্গিক ভাষা ও কথার মাঝে।

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের যে প্রাপ্যতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সেবা দেওয়ার মানসিকতা, নাগরিকদের প্রশাসনিক যে সুযোগ-সুবিধা তা যেন ভেবেই অঙ্গার হওয়ার শামিল। দেশের নাগরিক, যুবক সমাজ, ছাত্রছাত্রী অনেকের ‘আইডোল’ যেখানে হওয়ার কথা ছিল দেশের মার্জিত- শিক্ষিত, মিষ্টভাষী, আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন নেতা-নেত্রীগণ সেখানে তাদের আইডোল হল বিদেশি রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বগণ।

তবে আমি নতুন স্বপ্নের ঘুড্ডি উড়ানো শুরু করেদিলাম, নতুন করে ভাবা ও দেখা শুরু করেদিলাম, যেখানে একঘিয়েমিতে পেয়ে বসেছিল, গনতন্ত্রের কথা শুনলেই মনের ত্রাহি অবস্থা হত, নির্দিষ্ট যেনেও যেখানে তর্কে যেতাম না সেখানে আজ স্বপ্নবোনা শুরু করেদিলাম। নতুন আশায় পেয়ে বসেছে আমায় আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কে ঘিরে।

এই প্রথমবার দেখলাম প্রথম আলো পত্রিকার আয়োজনে সব মেয়র প্রার্থীগণ সমসুরে নাগরিক সেবা, নাগরিক সুবিধা এবং ঢাকা সিটির সমস্যাগুলো সমাধানে একত্রে কাজ করার জন্য জনসম্মুখে অঙ্গিকারবদ্ধ হলেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রার্থীগণ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সম্মুখ আলচোনায় বসতে দেখলাম, যুব সমাজের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখলাম পাশাপাশি নিজেদের মত, চিন্তা চেতনার প্রকাশ দেখালাম। তাদের প্রচারেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হল, সবাই অন্যদের প্রতি সম্মানরেখে কথা বলতেছেন, কিছু বিপরীতার্থক কথা হয়তো আছে যা গ্রহণযোগ্য সমালোচনা।

এ টি এন নিউজ এ মুন্নিসাহার উপস্থাপনায় ‘মিট ঢাকা’ নামক ভিন্নধর্মী বিতর্কে ঢাকা উত্তরের সব মেয়র প্রার্থীগণ একই মঞ্চে সমান ভাবে নিজেদের কে উপস্থাপনের সুযোগ পান, তাঁরা কে কিভাবে কাজ করবেন, কেন তাঁরা মেয়র প্রার্থী, মেয়র নির্বাচিত হলে কি কি কাজ করবেন, কোন কাজে অগ্রাধিকার দেবেন, কিভাবে সমন্বয় করবেন ইত্যাদি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। যা পিওর গণতান্ত্রিক দেশগুলতে হয়ে থাকে কোন নির্বাচনের আগে। প্রার্থীগণ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং সামনে বসা যুবারা করতালি দিয়ে তাদের সম্ভাষণ জানাচ্ছে। সত্যিই খুশির কথা যার প্র্যাকটিস এতদিন আমাদের ছিলনা। পাশাপাশি মাছরাঙ্গা টেলিভিশনেও ঢাকা উত্তরের ২ প্রধান প্রার্থীদের নিয়ে এরকমই একটি আলোচনার অনুষ্ঠান দেখেছি।

এই ধারাই আগামীতে গনতন্ত্রকে এবং আমাদের রাজনীতিকে সঠিক কক্ষপথে রাখবে, পরবর্তীতে এই প্রার্থীদের দেখে আরও অনেকেই উৎসাহিত হবেন যা ইতিবাচক হিসেবে সবাই গ্রহণ করবে। গনতন্ত্রের গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হক এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমেই।