ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

হ্যা।

আমি এই ডিজুস জেনারেশনের একজন প্রতিনিধি।

আবেগ ব্যাবসায়িদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক তরুন।

বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে দেশপ্রেমে মত্ত হওয়া এক ছেলে।

দেশের প্রতি ভালোবাসা আমার উপচে পড়ছে।

আজ একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য সেই এক মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রথম আলোর নকশা পাতার উপর চোখ সরাইনি বলা যেতে পারে। ক্যাটস আই কিংবা অন্যমেলা এই একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে নতুন কি টি শার্ট কিংবা পাঞ্জাবী আনছে সেটা দেখার জন্য ছিলো অনেক আগ্রহ। শুধু পাঞ্জাবী পরে যাবো শহীদ মিনারে ফুল দিতে! একেবারে সাদামাটা হয়ে গেলে কি চলে? বছরে একটাই তো একুশে ফেব্রুয়ারী। তাই না?

আচ্ছা! পাঞ্জাবীর সাথে একটা ওড়না লাগিয়ে নিলে কেমন হয়! হিন্দি একটা ফিল্মে তো দেখলাম সালমান খানকে ওড়না পরায় বেশ লাগছে।

যাই হোক! একুশে ফেব্রুয়ারী আসলেই একটা ঝাক্কাস ব্যাপার। মোবাইল কোম্পানীগুলো কত্তো অফার দেয়। ২১ টা FNF, ২১ পয়সা মিনিট, ২১ পয়সা এস এম এস। ওয়াও!

২১ পয়সা এস এম এস-এর ব্যাপারটা সব চেয়ে এক্সাইটিং। রেডিওতে আরজে ভাইয়্যা ও আপুদের এস এম এস করতে পারবো। রিকোয়েস্ট করতে পারবো “মাই নেম ইজ শীলা” বাজানোর জন্য।

অবশ্য আমি না বললেও তারা সেগুলো বাজান। এখন রেডিওতে বাংলা আর হিন্দি গান বাজানোর অনুপাত তো প্রায় ৩:২।

পত্রিকা আর টিভিওয়ালারা বেশ হ্যান্ডসাম সাইজের ক্রোড়পত্র বের করবে আজ। দেখতে ভালো লাগে। ওগুলোর পাতায় পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশপ্রেম আর ভাষা প্রেমের দীক্ষা দিয়ে যাবে মিশরের বাংলালিংক কিংবা নরওয়ের গ্রামীনফোন।

কে জানে! ভারতের এয়ারটেল হয়তো আগামী বছর প্রভাত ফেরীকে স্পন্সর করে বসতে পারে। নাম হবে- “এয়ারটেল প্রভাত ফেরী”।

ওয়াও! ভাবতেই আমার ভালো লাগছে। তখন প্রভাত ফেরীতে যারা যাবে তাদের সবাইকে নিশ্চয়ই বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য একটা করে এয়ারটেল সংযোগ ফ্রী দেয়া হবে। ও মাই গড! কত্তো দারুন ব্যাপার হবে!

আজকে তো টিভিতে অনেক লাইভ প্রোগ্রাম হবে। তাই না? মিস করলে হবে না ওগুলো। দেশ প্রেম আর ভাষা প্রেম শেখাবে ওগুলোতে। মিস করলে চলবে? ফাকে ফাকে স্টার প্লাসে ঢু মেরে আসবো সপরিবারে।

আচ্ছা! আবার আবদুল গাফফার চৌধুরী কোন পত্রিকায় লিখবেন জানেন? যুগান্তর? কালের কন্ঠ? নাকি সমকাল? নাকি তিনটাতেই লিখবেন। উনার লেখাগুলো ভালো লাগে বেশ। তাছাড়া “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো…”ও তো তার লেখা। এখন উনার কলামই যদি না পড়ি তাহলে কিসের ভাষা প্রেম?

ও হ্যা! প্রথম আলো কি এবারও দুনিয়া কাপানো ৩০ মিনিট টাইপ কিছু করবে?
তাদের আইডিয়াটা চমৎকার। কয়েকযুগের ইতিহাসকে মাত্র ৩০ মিনিটে বন্দি করে ফেলেছে। স্যালুট টু প্রথম আলো। ১৬ কোটি মানুষের দায়ীত্ব এই পত্রিকাটার কারনে অনেক কমে গেছে। একাই দেশকে ভালোবাসার ইজারা নিয়ে বসে আছে প্রথম আলো।

এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি আলাদা উৎসবময়। একে তো বিশ্বকাপ। সাথে একুশ উৎসব। হোয়াট এ কো- ইন্সিডেন্স।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বের হয়ে গেলেই ভারত কিংবা পাকিস্তান নিয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেবো। ইয়াহহু! কি বলছেন? “আত্মসম্মানবোধ কোথায় গেলো?”
ধুর! এই আত্মসম্মানবোধ শব্দটা তো অনেক আগেই ভুলে গেছি।

যাই, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিতে হবে। না না। হিন্দি কোন স্টাটাস না। আজকে বাংলায় স্ট্যাটাস দেবো। ফেসবুক ভাসিয়ে ফেলবো বাংলা প্রেমে।

গেলাম। মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।