ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

অনেক দিন থেকেই একটা কথা মনের মুকুরে গুমরে মরছে। বলতে চাই আবার ভয় হই না জানি কী বলে ফেলি। তারপরও বলে ফেলা ….।

আমার বর্তমান বয়স 29 বছর তাই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যতটুকু জানা তার সবটাই বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জন করা, যেমন পাঠ্য বই, পত্রিকা, সিনেমা, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি। আমি মনে করি বর্তমানে যাদের বয়স 40 বছর এর কম তাদের সবার ই এক অবস্থা। যা বলছিলাম, 1971 সালে আমাদের যে অর্জন তা অবশই বিরাট বিশাল অতুলনেও একটা জাতির জন্য সে জন্য এই জাতির ঐ সব বীর সন্তানদের কে শ্রদ্ধা জানাই। জাতি হিসাবে 40 বছর পর করলেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের অর্জন খুবই অল্প তার কারণ আমি যেটা মনে করি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় এদেশের রাজনীতিতে বড় মনের কিছু আঘাত বিশেষ করা 1975 সালে। 1975 এর পরেই যে ঐক্য জাতীয়তাবাদ নিয়ে জাতির বীর সন্তানেরা স্বাধীনতা এনেছিল সেটা টুকরো টুকরো হয় অবঙ্গ জাতি আন্ত কোন্দলে লিপ্ত হই তার ফলে আজ আমদের মত নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতা সম্পর্কে যা মনে হই, আওয়ামি লীগ ক্ষমতায় থাকলে মনে হই তার বিপরীত। স্বত্বা বলতে কী আপনাদের ঐ 2 দলের কাদা ছড়া ছুড়ি দেখে দেখে আজকের নতুন প্রজন্ম বীতশ্রদ্ধ প্রায়। যখন একটা ছেলে বা মেয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেকার থাকে, দিনের পর দিন হতাশা তাদের গ্রাস করে তখন আর জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা কোনও কিছুই ভাল লাগার কথা না। আর তাই তারা যে কোনে জঘন্য অপরাধ করতেও দ্বিধা করেন, কারণ তাকে টিকে থাকতে হবে সমাজে আর তাই দিনের আলোর সর্বোচ্চ বিদ্যা পিঠের ছাত্রও রাতের অন্ধকারে ছিনতাইকারী!! এটাকে আপনি কী বলবেন স্বভাব নাকি অভাব ? আমি বলব অবশই এটা অভাবের ফসল। এর থেকে আজকের নতুন প্রজন্ম মুক্তি চাই। আর সে জন্য এমন কিছু করুন যেটা জাতির ক্রান্তিকালে এ মুক্তির পথ বাতলে দেবে। যেমনটি করেছিলেন আপনের পিতা বঙ্গবন্ধু, দেশ এবং জাতিকে ঐক্য বদ্ধ রাখার জন্য জঘন্য যুদ্ধ অপরাধীদের ও সাধারণ ক্ষমা করে সব দ্বন্দ্ব সংঘাত ভুলে দেশ গঠন এবং দেশ কে এগিয়ে নিতে যা কিছু করার সবকিছুই তিনি শুরু করেছিলেন। তাই তার যোগ্য কন্যা হিসেবে আবারও জাতিকে ঐক্য বদ্ধ করে এগিয়ে যাবার জন্য প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে অনুরোধ করছি।

একজন বাংলাদেশী হিসাবে কখনো কখনো নিজেকে বেশ হীন মনে হয় যখন দেখি অন্য দেশ বা জাতির সাহায্য ছাড়া আমরা অনেক কিছুই করতে পারছিনা তখন। জানিনা আপনারা যারা দেশ কে নেত্রীত দিছেন তাদেরকে যখন অন্য দেশের কর্ণধারেরা সাহায্য প্রার্থী বলে অবজ্ঞা করে তখন আপনাদের কেমন অনুভূত হয় ? আমি বিশ্বাস করি সেটা একজন মানুষ হিসাবে অবশই কোনো ভাল অনুভূতি হতে পারেনা।