ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

বিন লাদেনকে নিজেদের নাগালের মধ্যেই পায়নি মার্কিন সিল বাহিনী। ধরা পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতেই নিজেই নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন আল-কায়েদার এই বিশ্বত্রাস নেতা। অভিযানের সাফল্য ও সিল বাহিনী প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন প্রেসিডেন্টের গর্ব চূর্ণ করে এই দাবি করেছেন মার্কিন বাহিনীর ঘনিষ্ঠ আফগানিস্তানের এক গোয়েন্দা অফিসার। সন্ত্রাসবাদ দমন দলের সদস্য ঐ অফিসারের দাবি, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন বিন লাদেনের ছবি প্রকাশের কোনও উপায়ই নেই মার্কিন প্রশাসনের। তাই তারা অজুহাত খাড়া করেছে, আল-কায়েদা নেতার মৃতদেহের ছবি প্রকাশ হলে বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাসের সম্ভাবনা বাড়বে |

পাকিস্তানের সেনা শহর এবোটাবাদের গোপন আস্তানায় বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকে আল-কায়েদা নেতার ‘শেষের সেই মুহূর্ত’ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রচার শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরস্পর বিরোধী বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতির ঢল নেমেছে। কখনও বলা হয়েছে, গায়ে পোশাক থাকলে বিন লাদেনকে গুলি করে মারা হত না। কখনও দাবি করা হয়েছে, এক মহিলাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে বাঁচতে চাওয়ায় তাকে গুলি করে মারতে হয়েছে। বিন লাদেনের ইয়েমেনি স্ত্রী ও ২ বছরের এক মেয়ের বিবৃতি বলে এও প্রচার করা হয়েছিল, ধরে ফেলা সত্ত্বেও মেরিন সিল সদস্যরা বিন লাদেনকে গুলি করে। কিন্তু জীবন্ত ধরার সুযোগ থাকতেও কেন টুইন টাওয়ারে হামলার মূল হোতাকে মেরে ফেলা হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল ওয়াকিবহাল মহলে। আফগান গোয়েন্দার দাবিতে যেন সেই জিজ্ঞাসার উত্তর মিলল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ অফিসার ‘দ্য নেশন’ পত্রিকার এক সাংবাদিকের কাছে দাবি করেছেন, আমেরিকা বিন লাদেনকে জীবন্ত ধরারই পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু হিসাবে একটু গোলমাল করে ফেলেছিল তারা। ধরা পড়া এড়াতে নিজেকেই উড়িয়ে দেন বিন লাদেন। বোমায় ছিন্নভিন্ন আল-কায়েদা নেতার দেহ মার্কিন সেনার পক্ষে চেনা শক্ত ছিল। একমাত্র ডিএনএ পরীক্ষাই ছিল বিন লাদেনকে শনাক্ত করার উপায়। আমেরিকা ঐ ছিন্নভিন্ন দেহ প্রকাশ করতে দ্বিধা করছে। সেই কারণেই ছবি প্রকাশ করলে বারবার হিংসা বাড়ার কথা বলছে।

আফগান গোয়েন্দা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানব বোমার যথেচ্ছ ব্যবহারকারী বিন লাদেন ১৯৯৫ সালে পাকিস্তানে প্রথম মানব বোমা ব্যবহার করেছিলেন। আল-কায়েদার এক সদস্য বিস্ফোরক ঠাসা গাড়ি নিয়ে পাকিস্তানে অবস্থিত মিসরীয় দূতাবাসে হামলা চালায়। তিনি আরো জানিয়েছেন, এলটিটিই বিশ্বে মানববোমার প্রচলন করে। আর আল-কায়েদা নেতা বিন লাদেন সেই পদ্ধতিতে নিজের প্রতিভায় আরো কিছু যোগ করেন।