ক্যাটেগরিঃ বিবিধ

একটু ঝুঁকে সে চলত, তার শরীর ছিল লোমশ, শক্তপোক্ত নিয়ানডার্থাল। সায়েন্স জার্নাল বলছে, মানুষের প্রাগৈতিহাসিক এই পূর্বপুরুষ নাকি রাশিয়ার মেরু অঞ্চলেই ঘোরাফেরা করত। এ খবর সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফসল। আজকের যে আমি-আপনি, সেই আধুনিক মানুষের প্রথম পূর্বপুরুষের নাম নিয়ানডার্থাল। একটু ঝুঁকে সে চলত, তার শরীর ছিল লোমশ, শক্তপোক্ত। বিরুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে লড়ে বাঁচতে হতো তাকে। ঠিক আজকের মানুষের মতো তার চালচলন ছিল না! অনেকটাই অন্যরকম, অনেকটাই জান্তব। তো, এই যে নিয়ানডার্থাল মানব, এরা পৃথিবীতে ছিল ৩৭ হাজার বছর আগে। তারা লোপও পেয়ে গেছে কয়েক হাজার বছর আগে। এই নিয়ানডার্থালদের জীবনযাপনের বহুতর প্রমাণ পেয়ে গেছেন গবেষকরা রাশিয়ার মেরু অঞ্চলে। যে প্রমাণের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র এবং অন্যান্য প্রমাণাদি। মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে নিয়ানডার্থালদের ব্যবহার করা সংখ্যায় ৩০০রও বেশি পাথরের তৈরি অস্ত্র, মিলেছে অজস্র ম্যামথ বা প্রাচীন হাতি, লোমওয়ালা গন্ডার আর কালো ভালুকের ফসিল হয়ে যাওয়া শরীরও। নরওয়ে, ফ্রান্স আর রাশিয়ার গবেষকরা যারা এ গবেষণার কাজটি চালিয়েছেন, তাদের মতে—এসব মস্ত বড় এবং শক্তিশালী জন্তুদের ওই নিয়ানডার্থালরাই শিকার করে খেয়েছিল। পাথরের অস্ত্রগুলো তারই প্রমাণ। রাশিয়ার উরাল পর্বতমালার পেছোরা নদীর ডানদিকের উপত্যকায় এই নিয়ানডার্থাল জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল আজ থেকে ৩৭ হাজার বছর আগে। রাশিয়ার বিজোভায়া এলাকায় তারা যে ছিলই, তার প্রমাণ আগেও মিলেছিল। এখন সাম্প্রতিক আবিষ্কার থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট এবং জোরদার হলো মাত্র।

মন্তব্য ১১ পঠিত