ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

জন্ম ২৪ মে, ১৯২০, আশুলিয়া, ঢাকা| তার আদিবাস নরসিংদী জেলার বালিয়া গ্রামে। তার বাবা নরেন্দ্রকুমার চন্দ মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল ও হাসপাতালের স্টোরস বিভাগে চাকরি করতেন। ১৯৩৬ সালে তিনি ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন | এরপর ডাক্তারি পড়ার জন্য ভর্তি হন ঢাকা মিডফোর্ড মেডিকেল স্কুলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। ১৯৩৭ সালে তিনি প্রত্যক্ষভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।তিনি কমিউনিস্ট পাঠ্যচক্রের সম্মুখ প্রতিষ্ঠান “প্রগতি লেখক সংঘে” যোগদান করেন এবং মার্ক্সবাদী রাজনীতি ও সাহিত্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে যান। ১৯৩৮ সালে সোমেন চন্দ প্রগতি লেখক সংঘের সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রচন্ড মেধাবী সোমেন চন্দের লেখা সাধারণত প্রগতি লেখক সংঘের সাপ্তাহিক বা পাক্ষিক সভাসমূহতে পাঠ করা হত। তারুণ্যের গান, সৃষ্টির উন্মাদনা ও বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে সাহিত্যে বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন। সোমেন চন্দের সাহিত্যের বিষয় ছিল কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষকে ঘিরে। শোষণ-বৈষম্য থেকে মানুষকে মুক্ত করাই ছিল তার উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন। তার মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে রণেশ দাশগুপ্ত “ইদুর”, “বনস্পতি”, “সংকেত”, “রায়ট” প্রভৃতি গল্পসমূহের একটি সঙ্কলন সম্পাদনা করেন।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন বাংলার সব জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়ে যার মধ্যে ঢাকা শহর ছিলো অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র। ১৯৪২ সালের ৮ই মার্চ ঢাকায় বুদ্ধিজীবী, লেখক প্রভৃতি এক সর্বভারতীয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলন আহবান করেন। রেল শ্রমিকদের মিছিল নিয়ে সোমেন যখন সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তখন ঢাকার সূত্রাপুরে সেবাশ্রমের কাছে বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক পার্টির গুন্ডারা তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিহত হন। তিনি বাংলার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ।

***
তথ্যসূত্র : উইকিপেডিয়া