ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

ছবি : কুমারী সমুদ্র সৈকত

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, রাখাইনদের মাতৃভূমি হিসেবে খ্যাত বার্মার আরাকান রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে বর্তমান কুয়াকাটায় উপনীত হয় | এখানেই তারা সৈকত থেকে একটু ভেতরে নিজ উদ্যোগে বনাঞ্চল পরিস্কার করে বসতি স্থাপন করে | বনাঞ্চলে বসবাস করার উদ্দেশ্য ছিল সহজ উপায়ে খাদ্য সংগ্রহ করা | কিন্তু রাখাইন সম্প্রদায় এখানে বসবাস করলেও তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় পানি। সাগরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা খাওয়া সম্ভবপর ছিল না। এজন্য তারা একটি কুয়া খনন করে যা থেকে মিঠা পানি পান করত। পরবর্তীকালে মিঠা পানির কুয়ার নামানুসারে নামকরণ হয় কুয়াকাটা।

ছবি : বৌদ্ধ মন্দিরের নীচেই ঐতিহাসিক কুয়াটি

বঙ্গোপসাগর বিধৌত সাগর কন্যা কুয়াকাটা প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি যা কিনা ভুস্বর্গের তুল্য | কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দারুন একটি উপভোগ্য ব্যাপার | তখন মনে হবে বিরাট এক অগ্নিকুন্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে আবার সূর্যাস্তের সময় সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় সূর্যটা। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি ঘর। এই বৈশিষ্ট কুয়াকাটাকে বিশ্বের অন্যতম বিরল সৈকতে পরিনত করেছে। চমৎকার চোখ ধাধানো এই কুয়াকাটাতে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক সমঢালের বালুময় সৈকত, নীল আকাশ, নারিকেল গাছের সারি, চিরসবুজ গরান গাছের বন (ফাতরার চর), পূর্নিমার রাতে চাদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউ, অমাবস্যার অন্ধকারে ফসফরাসের মিশ্রনে সাগরের ঢেউগুলো থেকে আলোর বিচ্ছুরণ, বৌদ্ধ মন্দির ও বৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি, ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, শুটকি পল্লী, উপজাতি রাখাইন সংস্কৃতি, হরিণঘাটা (যেখানে হরিনের চারণভূমি এবং মাঝে মধ্যে রয়েল বেঙ্গল বাঘেরও দেখা মেলে) ইত্যাদি | কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য লিখে শেষ করা সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার।

ছবি : নীল আকাশে সূর্যোদয়

ছবি : রাখাইন সম্প্রদায়

বিশ্বের প্রায় অনেক দেশই পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে যাদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে | এরা সকলেই তাদের সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন ব্যবহারের মাধ্যমে তবে সবসময় অগ্রাধিকার পেয়েছে প্রকৃতি | সে ক্ষেত্রে কুয়াকাটা হতে পারে স্থানীয় এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য অন্যতম একটি আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র | এ জন্য বিশেষভাবে সরকারের জুরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত যেমন রাস্তা ঘাট সংস্কার, যানবাহন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল/মোটেলের মান বৃদ্ধি করা, ব্যাপক বানিজ্যিক প্রচার ইত্যাদি এবং এভাবে আমাদের দেশও উপার্জন করতে পারে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা যার প্রতিফলন ঘটবে উপকূলীয় এলাকা উন্নয়নে |